আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

রাজাকার বা মুক্তিযুদ্ধা বানাবার মেশিনের সত্তাধিকারী কেউ নই

বন্ধ জানালা, খোলা কপাট !
ব্যক্তির আচরণ, ব্যক্তির প্রকাশ ব্যক্তিকে চিনতে এবং জানতে সাহায্য করে । ভার্চুয়াল এ-জগতে কে মুক্তিযুদ্ধা বা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তি, কে রাজাকার বা রাজাকারের পা চাটা সেটা আমরা জানতে পারি তাদের আচরণ থেকে । আমরা কেউ-ই রাজাকার বা মুক্তিযুদ্ধা বানাবার মেশিন আবিস্কার করিনি । কেউ একজন সেটার সত্তাধিকারীও নই । সুতরাং যে কারো গায়ে রাজাকার লেবেল সেঁটে দেবার অধিকার প্রাপ্তও নই আমরা ।

দেশের বিরুদ্ধে সুস্পষ্টভাবে অবস্থানকারী-ই আমাদের চোখে রাজাকার । উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সদম্ভে যদি কেউ নিজেকে রাজাকার হিসেবে ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামে, তাহলে সে স্বঘোষীত রাজাকারের রাজাকারীতা বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশের অবকাশ থাকেনা । তাকে সমর্থন করে যাওয়া, তার একই সুরে গান গেয়ে যাওয়াদের আমরা সমমনা বা একই মতাদর্শী হিসেবে চিনে নিতে পারি সহজেই। বিপরীতে দেশ বিরোধী, মহান স্বাধীনতা এবং মুক্তযুদ্ধ বিরোধী মনোভাবাপন্ন, মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্ক তৈরী করা, কিংবা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সংঘঠিত যুদ্ধাপরাধকে ছল- ছুতোয় অস্বীকার করার প্রবণতাকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার কন্ঠে প্রতিবাদকারীদের আমরা বলতে পারি সজাতির সপক্ষ শক্তি । ব্লগের ভার্চুয়াল যুদ্ধে দল আসলে এ-দুটোই ।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ এবং বিপক্ষ শক্তি । এ-দুটোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে আরো উপদল । উপদলগুলো সবসময় যে তাদের দায়িত্বে বা ইচ্ছায় সৎ থাকছে সেটা বলা যাবে না । ব্যক্তিগত অপছন্দকে অনেক সময় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে । কোন কারণে কাউকে অপছন্দ হলে,কারো সাথে দ্বিমত হলে, তাকে একটা ব্যড নেম দিয়ে হ্যাং করার এই যে চর্চা, এটাকে খারাপ না বলে উপায় নেই ।

এটা একটা রাজনীতি, অপরাজনীতি । আমার মতের সাথে অমিল তো, তুমি হয়ে গেলে রাজাকার ! এ জাতীয় মানসিকতা শেষতক রাজাকারদেরই সুবিধাপ্রাপ্ত করে । অতি ব্যবহারে 'রাজাকার' -এর মত ঘৃণ্য শব্দটি জীর্ণ হচ্ছে । মান হারাচ্ছে । সাধারণ অনেক ব্লগার যারা স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি রাজাকারদের মনে-প্রাণে ঘৃণা করে, রাজাকার শব্দের এই অতি ব্যবহারে তারাও বীতশ্রদ্ধ, ত্যাক্ত হচ্ছে।

মুক্তমনা বন্ধুদের সবিনয়ে অনুরোধ করবো,- দেশ বিরোধীদের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকি, একটুও সুবিদাপ্রাপ্ত যেন তারা না হয়, এক ইঞ্চি জায়গাও যেন তাদের ছেড়ে না দেই । ব্যক্তিগত অপছন্দের বলি কাউকে না বানাই । ব্লগের পরিবেশকে সুন্দর করার সবচে' বড় দায়িত্বটা কর্তৃপক্ষের ঘাঁড়েই বর্তায় । কর্তৃপক্ষ সে দায়িত্বে ব্যর্থই বলা চলে । দেশবিরোধীদের প্রমোট করে, ব্লগের সুস্থ পরিবেশ আসা করাটা আসলে বোকামীর নামান্তর ।

যে ব্লগে একজন এসে যুদ্ধাপরাধ বলে কিছু এ দেশে সংঘঠিত হয়েছে কিনা প্রশ্ন তুলবে, নিজেকে রাজাকার হিসেবে ঘোষণা দিবে, সে ব্লগে দেশমাতৃকার কাছে নিজেকে ঋণি মনে করা দেশ মায়ের কোন সন্তান চুপ মেরে বসে থাকবে এমনটা ভাবাই যায় না । কর্তৃপক্ষকে বলি, সকল অশ্লীলতা, অশালীনতা, অশোভন আচরণ বন্ধের একটাই চাবিকাঠি আপনাদের হাতে আছে, রাজাকার মনোভাবাপন্নদের এই ব্লগে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা । আচরণে রাজাকারীতা প্রকাশ পায়,এমন কাউকে তাৎক্ষণিক ব্যান করা । সবাই ভাল থাকুন-সুস্থ থাকুন (দেশবিরোধীরা ছাড়া) । শুভ ব্লগিং ।


 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.