আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

স্মাগলারের মতো বিলেত যাত্রা - শেষ পর্ব

ইচ্ছেমতো লেখার স্বাধীন খাতা....

বিমানে খাবারের মেনু দিয়ে গেল। প্রথমে চয়েস করলাম টিয়ান অফ ক্রেব। এতে ছিল শশার ভেতরে রাখা কাকড়া, সবুজ আপেল, মেয়নিজ, লবস্টার ও ক্যাভিয়ার। তবে খাবারের মসলা ও স্বাদ কোনোটার জন্যই আমি প্রস্তুত ছিলাম না। তাই খাবারগুলোকে ঠিক এনজয় করা হয়নি।

এর পর মূল খাবার চয়েস করলাম সি ফুড ক্যাসেরোল। এতে ছিল লবস্টারের পা, চিংড়ি, শামুক ও বিভিন্ন ধরনের মজাদার সস। এ ছাড়াও আলু, অ্যাসপারাগাস, চেরি ও টমেটো সিদ্ধ ছিল। ডেসার্টে ছিল আম ও স্ট্রবেরি। আরো ছিল বাকরখানি বা ছোট ভাজা রুটির মতো কয়েক ধরনের ইনডিয়ান খাবার।

এ ছাড়াও কিছু অ্যারাবিয়ান খাবার, সুইস চকলেট ও চা-কফি ছিল। অবশ্য এসব খাবারই শেষ নয়। খাওয়া শেষ হবার কিছুক্ষণের মধ্যেই এরা আবার নতুন খাবার নিয়ে ঘুরাঘুরি শুরু করলো। শেষে আমি বলতে বাধ্য হলাম যে, নাথিং মোর। নট অ্যাট অল, থ্যাংক ইউ।

ইত্যাদি ইত্যাদি। বিমানের টয়লেটটি ছিল খুব মজার। ছোট জায়গা হলেও সেখানে অনেক ব্যবস্থা ছিল। আর টয়লেট সারার পর ফ্ল্যাশ টিপার পর দেখি প্রচণ্ড শব্দ হয় এবং জোর বাতাসে ফ্ল্যাশ হয়ে যায়। আমার ধারণা বিমানে টয়লেট ফ্ল্যাশ দেয়ার পর তা সরাসরি আকাশে ছেড়ে দেয়া হয়।

বিমানের খাবারে আমার তেমন রুচি হচ্ছিলো না। আমার পাশের লোক অবশ্য সবই কিছু কিছু চেখে দেখছিল। নামার আগে সে নেশা কাটানোর জন্য এক বোতল পানি খেয়ে মুখের গন্ধ দূর করার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছিল। সবশেষে যাবার আগে বিমানবালার নামও লিখে নিল এবং তার কার্ড বিনিময় করলো। এয়ারপোর্টে নামার পর লম্বা করিডোর দিয়ে হাটতে লাগলাম।

এ সময় ছোট আগ্নেয়াস্ত্র সহ কয়েকজন পুলিশ দেখতে পেলাম। ঢাকায় এয়ারপোর্টে যেমন রাইফেল, এসএলআর ও স্টেনগান নিয়ে ফোর্সের লোকজন দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এখানে দেখলাম না। ঢাকায় পুলিশ, আর্মি, বিমান বাহিনী, বিডিআর, এস বি, এনএসআই, ডিজিএফআই, কাস্টমস সবার যেমন ওয়্যারলেস নিয়ে দৌড়াদৌড়ি ও যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব থাকে তা এখানে নেই। খুব নিস্তব্ধ পরিবেশে কাজ চলছে। প্রথমে গিয়ে পৌছলাম ইমিগ্রেশনে।

ডিগ্রি বিক্রির ব্যবসাটা ইংল্যান্ড বহু দিন ধরেই করে আসছে। তাই প্রশ্নগুলোও ছিল সে ধরনের। এক মহিলা ইমিগ্রেশন অফিসার আমার দিকে ভালোভাবে তাকিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করতে লাগলো। যেমন কি পড়তে এসেছো। কোর্স ফি কতো টাকা, কয় মাসের কোর্স, পড়ার টাকা কে দিবে, থাকার টাকা কে দিবে ইত্যাদি।

পড়াশোনা শেষে সব টাকা খরচ করে তারপর দেশে ফিরে যাবো কিনা এ বিষয়টিও তারা নিশ্চিন্ত হতে চায়। এজন্য কোর্সটি কেন করতে চাই এ বিষয়টিও জিজ্ঞাসা করলো। তাকে নিশ্চিত করতে হলো, এ কোর্সটা বাংলাদেশে আমার প্রফেশনাল ক্যারিয়ারে উন্নতি করার জন্যই করছি। এসব বিষয় নিশ্চিত করার পর তিনি আমাকে জানালেন, এখানে পাচ মিনিট বসেন, আপনাকে একজন ডাক্তার দেখবে। আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম।

ডাক্তার কেন দেখবে? চোখের কোনো সমস্যা? পাচ মিনিট শেষ হবার আগেই একজন পুলিশ অফিসার একটা ফর্ম ধরিয়ে দিলেন। সেটা ফিলাপ করার পর দেখি এক ডাক্তার আমার পাসপোর্ট নিয়ে হাজির। সে আমাকে তার রুমে নিয়ে গেল। তার হাতের বসন্তের টিকার দাগটা দেখিয়ে বললো, এরকম কোনো দাগ তোমার হাতে আছে? আমি বললাম, নিশ্চয়ই। ডান হাতের হাতা গুটালাম।

কিন্তু কোনো দাগ খুজে পেলাম না। তবে কি দাগ চলে গেছে! অবশ্য বাম হাতে দাগটা খুজে পেলাম। এরপর আমার মেডিকেল রিপোর্টটা নিয়ে সে খসখস করে কিছু লেখালেখি করলো এবং একজন ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দিয়ে পাসপোর্টটা ফেরত দিয়ে বললো, থ্যাংক ইউ। আমি পাসপোর্টটা হাতে নিয়ে বললাম, ওয়েলকাম। যাক বাবা চোখের কোনো সমস্যা সে বুঝতে পারে নাই।

বেল্টের মধ্যে আমার ব্যাগটা ঘুরছিল। সেটাকে এক টানে হাতে নিয়ে কাস্টমসে গেলাম। কাস্টমস দেখি যে, কারো ব্যাগই চেক করা হচ্ছে না। এক পাশে দুজন কাস্টমস অফিসার বসে গল্প করছিল। তাদের একজন জানালো, আমরা দুঃখিত, কাস্টমস অফিসে আজকে ছুটি চলছে।

আপনারা চলে যেতে পারেন। বুঝলাম কাস্টমস অফিসার রসিকতা করছে। পরে শুনেছিলাম, আমরা যে পথ দিয়ে আসছিলাম সেখানেই স্ক্যানিং মেশিন ফিট করা ছিল। হাটার সময়ই মানুষের শরীর সহ সম্পূর্ণ ব্যাগ সেখানে স্ক্যানিং করা হয়। ফলে ব্যাগ আলাদাভাবে চেক করার দরকার হয় না।

ব্যাগ ঠেলে নিয়ে সোজা চলে এলাম এয়ারপোর্টের বাইরে। মনে মনে বললাম, ওয়েলকাম টু বার্মিংহাম।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।