আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষার মান : সমস্যা ও উত্তরণের উপায়। পর্ব- ৪; শিক্ষার মানের অধোগতির কারনসমূহ - ২: ছাত্র রাজনীতি

যেতে চাও যাবে, আকাশও দিগন্তে বাঁধা, কোথায় পালাবে!

এর আগে প্রথম পর্ব দুটিতে (বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষার মান : সমস্যা ও উত্তরণের উপায়। পর্ব- ১ ও ২) এ আলোচনা করেছিলাম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সূচকগুলির আলোকে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অবস্থা। ৩য় পর্ব থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষা মানের অবনতির প্রধান প্রধান কারনসমূহ নিয়ে আলোচনা করছি। আজ থাকল এর ২য় পর্ব। ছাত্র রাজনীতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষামানের অবনতিতে ছাত্র রাজনীতির ভূমিকা ব্যপক ও ধংসাত্বক।

পথভ্রষ্ট ছাত্র রাজনীতির কালো থাবা আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মদদপুষ্ট হয়ে বিভিন্ন ছাত্র-সংগঠনের কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে তাদের ইচ্ছেমাফিক রাজত্ব কায়েম করেছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ধর্মঘট চলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরগুলি আজ তাদের জ্বালাময়ী ভাষণে মুখরিত। ছাত্র নামধারী কিছু ক্যাডারদের অস্ত্রের তান্ডবে ছাত্র-ছাত্রীরা কাস পরীক্ষা বর্জন দিয়ে তাদের শিক্ষাজীবনের মূল্যবান সময় অপচয় করছে।

হলের সিটবন্টন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেও তারা এ সব ছাত্র সংগঠনের হাতে জিম্মি। ধর্মঘট, আন্দোলন, কাস, পরীক্ষা বর্জন, মারামারি, ধাওয়া, পাল্টা-ধাওয়া আজ ছাত্র-ছাত্রীদের নিত্যসঙ্গী। এসব কর্মকান্ডের ফলশ্রুতিতে নিরীহ ছাত্রের মৃত্যু পর্যন্ত একটি স্বাভাবিক ঘটনা। ছাত্র-ছাত্রীরা আজ কোনক্রমে শিক্ষাজীবন শেষ করতে চায়, নতুন জ্ঞান সৃষ্টির স্বপ্ন দেখতে তারা ভুলেই গেছে, তারা আজ হতোদ্যম। ছাত্র রাজনীতির প্রত্যক্ষ ফসল হিসাবে দিন দিন বাড়ছে সেশন-জট।

অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষক রাজনীতির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে ছাত্র রাজনীতিকে। ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থ পরিপন্থী, শিক্ষাজীবন ধংসকারী এই ছাত্র-রাজনীতির দুষ্টচক্রে আবদ্ধ হয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের শিক্ষার মানের হচ্ছে ক্রমাবনতি এবং সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে অভিভাবকদের কাছে। উন্নত বিশ্বের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আত্মধ্বংসী এরূপ রাজনীতিতে অংশগ্রহণ অচিন্তনীয় ব্যাপার এবং বর্তমান ধারার ছাত্র-রাজনীতি সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা ও উদ্যোগের অভাব শিক্ষামানের ক্রমাবনতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা ও উদ্যোগের অভাবও লক্ষণীয়। কর্তৃপক্ষকে একটি উল্লেখযোগ্য সময়ই ব্যস্ত থাকতে হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র-সংগঠনগুলির সৃষ্ট আভ্যন্তরীণ সমস্যা নিরসনে, তাদের দাবী দাওয়া, ধর্মঘট ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচী মোকাবেলায়।

শিক্ষা বহির্ভূত এসব কর্মকান্ড প্রশাসনকে আন্তরিক করছেনা গবেষণা ও অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার মানকে একটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমুন্নত করতে। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ও উদ্যোগের অভাবে উন্নত যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ গবেষণাগার স্থাপিত হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কোন প্রশংসনীয় গবেষক সম্মেলন, সেমিনার অথবা মত বিনিময় সভা অনুপস্থিত, যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকরা তাদের গবেষণা ও অন্যান্য জ্ঞানের বিনিময় করতে পারে উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক গবেষকদের সাথে। পরবর্তী পর্বে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কিভাবে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষামানের অবনতি ঘটাচ্ছে সেটি আলোচনা করব।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.