আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ডঙকি ড্রপ



গাধা নিরতিশয় শান্ত প্রাণী। দেখতে ঘোড়ার মতো হলেও পা-দুটো খোটো। আর কান দুটো ইয়া লম্বা। বিজ্ঞজনেরা ফতোয়া দিয়েছেন; গাধার একমাত্র অপরাধ হচ্ছে সে গাধা হয়েই জন্মায়, তাই র‌্যাঙ্ক পায় না। ইংরেজি ডঙকি শব্দটি শুধু গাধাকেই নির্দেশ করে না-নির্বোধ বা স্থূল বুদ্ধিসম্পন্ন লোককেও নির্দেশ করে।

শুধু তাই নয়, ডঙকি ইয়ার্স (দীর্ঘ সময়), ডঙকি ইঞ্জিন (জাহাজের পাটাতনে অবস্থিত বাড়তি ছোট ইঞ্জিন), ডঙকি জ্যাকেট (শ্রমিকদের পরিহিত পানি নিরোধক মোটা কোর্ট), ডঙকি ওয়ার্ক (কোনো কাজের কঠিন ও বিরক্তিকর অংশ) ইত্যাদি ধারণাগুলো আমরা গাধার কল্যাণেই পেয়েছি। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ানরা ডঙকি ভোট নিয়েও চেঁচায়। যাই হোক, ক্রিকেটার ও ক্রিকেটপ্রেমীরাও গাধার নিকট থেকে ডঙকি ড্রপ প্রত্যয়টি উপহার পেয়েছেন। ডঙকি ড্রপ উচ্চারণ করতে আবার অনেকে লজ্জা পান। তাই তারা ডি-ড্রপ বলে জাতে থাকতে চান।

ডঙকি ড্রপ হচ্ছে অস্বাভাবিক উচ্চতা নিয়ে যে স্লো-বলটি উইকেটের কাছাকাছি ধপাস শব্দে আছড়ে পড়ে আর এ ড্রপ ব্যাটসম্যানদের সহজ শিকারে পরিণত হয়। ব্যাটিং সাইডের রান তোরঙ্গে একটা অনায়াস ছক্কা অথবা নিদেনপক্ষে একটা চৌকো যুক্ত হয়। ডঙকি ড্রপ দেয়ার উদ্দেশ্যে যাই থাকুক না কেন, বোলার এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হন। গাধা যখন কোনো কারণে ক্ষেপে গিয়ে উলম্ব নৃত্য জুড়ে দেয়, তখন তার পিঠে বাধা পণ্যরাশির বারোটা বাজে। তারপর এক সময় কান্ত গাধা সশব্দে মাটিতে হুমড়ি খায়।

গাধার গাধামিপনা এখানেই: যেমন করে বোলারের ব্যর্থতা ডঙকি ড্রপে। অবশ্য ঠিক যে, আন্ডারআর্ম বোলিংয়ে এ জাতীয় ডেলিভারির প্রচলন বেশি ছিল এবং চ্যাপেল নাটকের পর আন্ডারআর্ম বোলিং নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। তার পরও হাত ফসকে ডঙকি ড্রপ সৃষ্টি হয়। শুভ সংবাদ হচ্ছে, আজকাল ডি ড্রপের প্রবণতা কমে গেছে। কারণ গাধার পিঠে চড়ার ঝঁক্কি বা মাশুল বেশ চড়া।

আবার অসতর্ক ব্যাটসম্যান যদি ডঙকি ড্রপ থেকে ডলি ক্যাচ বানায়, তাহলেও ব্যাটসম্যানের খবর থাকে। তখন প্রশ্ন ওঠে: গাধাটা কে? বোলার নাকি ব্যাটসম্যান? জীবজন্তুর মধ্যে গাধা, কুকুর (স্টিকি ডগ), র‌্যাবিট আর পাঁতিহাস (ডাক) প্রসঙ্গে ক্রিকেট এসেছে। অবশ্য ক্রিকেটের প্রতি এদের কোনো অনুরাগ আছে কিনা, তার প্রমাণ এখনো জীবতাত্ত্বিকরা দেননি। হয়তো একদিন দিতেও পারেন। আসুন ভবিষ্যতের পানে স্বর্ণ ঈগল দৃষ্টি মেলে আমরা তাকিয়ে থাকি।

শেষ কথা : ২০০০ সালে মিসরে পুরাতত্ত্ব খনন কার্যে হতাশ এক জার্মান দলকে আলোর মুখ দেখিয়ে ছিল একটা ছোট গাধা (আর্জেন্টাইন ফুটবলার ওর্তেগাও ছোট গাধা নামে পরিচিত)। খনন শিবিরের পাশে বাঁধা গাধাটি অজানা কারণে ভয় পেয়ে লাফিয়ে ওঠে। লাফের প্রাবল্যে মাটি সমেত গাধাটি মমির ওপর ধপাস শব্দে পতিত হয়। ব্যাস! পুরাতাত্ত্বিকবিদরা তাদের সাড়ে আট বছরের পরিশ্রমের ফসল গাধার এক লাফের কল্যাণে পেয়ে যান। কিন্তু গাধাটি বুঝতেই পারেনি, মমি গবেষণায় সে কতবড় দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

ঠিক তেমনিভাবে গাধা কখনো জানতে পারবে না, ক্রিকেটে তার নামেই একটা বিশেষ ড্রপ রয়ে গেছে।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.