আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভাই-বোনের সম্পর্ক

যা বুঝি, যা দেখি, যা শুনি এবং যা বলতে চাই

ভাই-বোন কথাটা শোনামাত্র মনের মনিটরে যে ছবি ফেড-ইন হয়ে স্থির হয় তা হলো ব্রাদার্স ও সিস্টার্সের। একটি ম্যাগাজিন। সারারাত কম্পিউটার ল্যাবে গ্রুপ এ্যাসাইনমেন্ট বানিয়ে কফি খেতে নীচে নেমেছি। ফ্লিন্ডার্স স্ট্রিট স্টেশনের ঠিক উল্টোদিকে ছিল আমাদের মেলবোর্ন সিটি ক্যাম্পাস। ভেন্ডিং মেশিন থেকে তিতকুটে কফিভরা ডিসপোজেবল কাপ হাতে নিয়ে ফিরতেই গেটের গোড়াতে দেখলাম অনেকগুলো ম্যাগাজিনের কপি।

ব্রাদার্স এ্যান্ড সিস্টার্স। ফ্রি। হাতের কাছে ছাপানো অক্ষর পেলেই আমি পড়তে চাই আর এ-তো রীতিমত ঝকঝকে ম্যাগাজিন। তুলে নিতেই গ্রুপমেট নিক কুটিল হাসি দিলো। "আই ডোন্ট থিংক ইউ আর"।

এ কথার হাজার মানে হয়। পাল্টা প্রশ্ন করলে ও আরো রহস্য করতে থাকবে, তাই আমিও রহস্যপূর্ণ জবাব দিয়ে ওকেই আতংকে ঠেলে দেই। বললাম প্রচ্ছদ দেখে বইয়ের মর্ম বুঝা কঠিন। নিক এবার সরাসরি প্রসঙ্গে এলো। বললো, ব্রাদার্স এ্যান্ড সিস্টার্স সমকামীদের ম্যাগাজিন।

বিপরীত লিঙ্গের সদস্যদেরকে এরা ভাই বা বোনের মত দেখে। এটা বুঝাতেই ম্যাগাজিনের এই শিরোনাম। কয়েকটা পাতা উল্টাতেই দেখলাম সমকামী সঙ্গী চেয়ে বিভিন্নজনের বিজ্ঞাপন। লিফটে ওঠার আগে ঝিমুতে থাকা সিকিউরিটি গার্ডকেই কপিটা দান করে দিলাম। ব্রাদার্স ও সিস্টার্সের কথা আর ভুলি না।

যেহেতু পুরুষ তাই সিস্টার্সদের কথা মনে হয়। অনেকটা আপনাদের বাড়িতে কি মা-বোন নেই স্টাইলে। প্লেটোর প্লেটোনিক লাভ কতটা এই ব্রাদার্সও সিস্টার্স থেকে উৎসারিত তা খুঁজে পেতে দেখতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু ভাই-বোনের সম্পর্ক আমাকে সবচে বেশি নাড়া দিয়েছিল তারো আগে। বন্ধু বিশুর চার বছরের বিবাহিত জীবনে যখন অগ্নু্যৎপাত শুরু হয়েছে।

বন্ধুপত্নী পদাধিকারবলেই বন্ধু। আমি আদর করে আমাদের বউ বলে ডাকতাম। সেই গুণী, লক্ষ্মী বউ নোটিশ দিয়ে দিয়েছে যে এই দাম্পত্যে সে আর আগ্রহী না। কী কারণ, কী কারণ? রাত-ভর আমরা তিনজন মিলে আলোচনার আসর বসাই যদি কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রেম-বিয়েকে দীর্ঘায়ু দেয়া যায়।

বন্ধুপত্নীর জবাব একটাই, এই সম্পর্ক ভাই-বোনের মত হয়ে গেছে। আমি এই সম্পর্ক চাইনা। (এই তথ্য বন্ধনীতে দেয়াই যায় যে, বন্ধুপত্নী বাস্তবে বিশুর বন্ধুর ছোটবোন ছিল। ) আমি অবিবাহিত তখন। দাম্পত্যজীবনের জৈব-রসায়ন সম্পর্কে একেবারেই মুর্খ।

দাম্পত্য সম্পর্ক ভাই-বোনের মত হয়ে গেছে মানে কতটা খারাপ তাও বুঝতে পারিনি। শুধু এইটুকু গূঢ়ার্থ উদ্ধার করেছিলাম যে প্রাপ্তবয়স্ক ভাই-বোনেরা এক ছাদের নীচে থাকে না। তারা ভিন্ন ভিন্ন সঙ্গী খুঁজে আলাদা হয়ে যায়। আমার বন্ধু ও বন্ধুপত্নীও হয়তো এই যুক্তিকে শিরোধার্য করে আলাদা ছাদের নীচে চলে গেল। অনেক বছর পরের কথা।

বন্ধুর সূত্রে আমরা ঠিক আগের মত রূপবতী ও গুণবতী বন্ধুপত্নী পেয়েছি। পদাধিকার বলে সেও আমাদের বন্ধু। বন্ধুর খোঁজে গতকাল ফোন করেছিলাম। বন্ধুপত্নী ফোনে জানতে চাইলেন, আমরা টোনা-টুনি কেমন আছি। ভালো, নাকি ভাই-বোন হয়ে গেছি? বললাম, নাহ, আমরা এত খারাপ নাকি? সবাইকে ইনসেস্ট ভাবা ঠিক না।



এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।