আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

হাতিরঝিলের তেলেসমাতি ......!!!

উপরের ছবির প্রকৃত মাজেজা বুঝতে চাইলে আগে একটা জোক্স শুনুন। একলোক ইশ্বরদী রেলষ্টেশন থেকে পার্বতীপুর যাবে। আগে কখনো ট্রেনে চড়েনি তাই কোন ট্রেন কোনদিকে যাবে এসব তেমন একটা জানা নেই এবং জানার কোন প্রয়োজনও নাই মনে করে পার্বতীপুরের টিকেট কেটে প্লাটফর্মে এসে সামনে যে ট্রেনটা পেয়েছে সেটাতেই উঠে পড়েছে। উঠে দেখে চেয়ারে বসবার ব্যাবস্থাও আছে আবার চেয়ারগুলোর একটু উপরে শোয়ার মত সিটও আছে। সে শুয়ে ঘুমিয়ে পার্বতীপুর যাওয়াই উত্তম মনে করে মই বেয়ে সোজা উপরে উঠে শুয়ে পড়ল এবং একটু পর ঘুমিয়েও পড়ল।

লম্বা একটা ঘুমের পর যখন তার ঘুম ভাঙল, দেখে ট্রেন চলছে আর পুরো কামরা ভর্তি মানুষ। অবশ্য সবাই চেয়ারে বসে আছে আর সেই শুধু আপার বার্থে। যাইহোক, একটু পরে নীচের লোকজনকে সে কানাঘুষা করতে শুনল যে, কেউ যাবে যশোর কেউ খুলনা। তখন লোকটা কিছুক্ষণ চিন্তা করে বিজ্ঞের মতে নীচের যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো, " দেখেছেন ভাইয়েরা, টেকনোলজি আজ কত ইম্প্রুভ হয়েছে যে ইশ্বরদী থেকে আপনারা নিচে বসে বসে যাচ্ছেন যশোর-খুলনা আর আমি উপরে শুয়ে শুয়ে যাচ্ছি পার্বতীপুর!!" জোক্‌টি শুনেও যদি উপরের ছবির মাজেজা আপনার মাথার কয়েকহাত উপর দিয়ে চলে গিয়ে থাকে তাহলে বুঝতে হবে বাংলাদেশ ও ঢাকা শহরের বেসিক জিওগ্রাফী সম্পর্কেই আপনার ধারণা খুব কম অথবা ডিজিটাল বাংলাদেশ এত বেশি টাল হয়ে গেছে যে একই দিকে যাত্রা করেও আপনি পরস্পর বিপরীতমুখী দুইটি গন্তব্যের যেকোনটিতে যেতে পারবেন। ছবিটি সম্প্রতি চালু হওয়া হাতিরঝিল প্রকল্পের একটি দিক-নির্দেশনামূলক রোড সাইন।

এমন আরো বেশ কয়েকটি চোখে পড়ল। সময়াভাবে এবং ডিজিটাল আতংকে একটাই ছবি তুলতে পেরেছিলাম। উল্লেখ্য ২০০৪ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই এর পর ২০০৭ সালে ৭০০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে শুরু হওয়া ‘হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ি খাল সমন্বিত উন্নয়ন’ প্রকল্পটি অবশেষে প্রায় দুইহাজার ( ১ হাজার ৯৬০) কোটি টাকা খরচ করেও বেশ কিছু কাজ অসমাপ্ত রেখে তড়িঘড়ি করে গত ২ জানুয়ারী উদ্বোধন করেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এলজিইডি বিভাগ ও ঢাকা ওয়াসা। আর পরামর্শক বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।

আরও উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার প্রকল্পটিও গার্ডার ট্রাজেডীর পর এখন সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে দেয়া হয়েছে। কি রহস্য ছিল প্রায় অপ্রয়োজনীয় সেই প্রকল্পটিও তড়িঘড়ি করে উদ্বোধন করতে চাওয়ার মাঝে? নির্বাচন কি আসন্ন!  ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।