আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

উদ্যোক্তা কর্নার

যে জানেনা এবং জানে যে সে জানেনা সে সরল, তাকে শেখাও। যে জানেনা এবং জানেনা যে সে জানে না, সে বোকা-তাকে পরিত্যাগ কর।

প্রকৃতপক্ষে মানুষের জীবনে কি নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য স্থির করা যায়? আমি বড় হয়ে ডাক্তার হবো, ইঞ্জিনিয়ার হবো, শিক্ষক হবো, বিজ্ঞানী হবো- এরকম লক্ষ্য নির্ধারণ করে কেউ কেউ চলার চেষ্টা করে। কিন্তু দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক অবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা এ লক্ষ্যকে পাল্টে দিতে পারে। তাই জীবনের লক্ষ্য একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্থির করা কঠিনই বটে।

তারপরও পড়াশুনার ধাঁচ বুঝে ছাত্রজীবনের সমাপ্তি ঘটার পর আমরা একটা পেশাকে বেছে নিই। পরবরতীতে ধরে নেই যে, এই পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে বেঁচে থাকাই বোধহয় জীবনের লক্ষ্য ছিল। আমি ব্যবসায়ী হবো- এ লক্ষ্য নির্ধারণ করে কিন্তু কেউ পড়াশুনা করে না। মোটামুটি ভালোভাবে পাস দিয়ে একটি পেশায় ঢুকে পড়া যায়। কিন্তু ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বিষয়টা ভিন্ন।

এটাও একটা পেশা। কিন্তু এ পেশাটা সৃষ্টি করে নিতে হয়। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবসায় শিক্ষা নামে একটি পাঠ্যক্রম আছে। নবম-দশম শ্রেণী থেকে শুরু করে মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে পড়াশুনা করতে পারে। পড়াশুনা শেষে এ শিক্ষার্থীদের কত শতাংশ চাকুরি বাজারের উপযোগী কত শতাংশ উদ্যোক্তা হওয়ার উপযোগী তা নির্ধারণ করতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অনেক সরকারি কলেজ আছে। প্রতিবছর কয়েক সহস্র শিক্ষার্থী ব্যবসায় শিক্ষা বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করে। পাস করে বের হওয়ার আগে তাদেরকে শ্রম বাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা শেষ করিয়ে দিয়েই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শেষ করা যাবে না।

তাদের কর্ম উপযোগী পরিবেশ বা সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে 'উদ্যোক্তা কর্নার' নামে একটি সেবা প্রদানকারী ডেস্ক থাকবে। উদ্যোক্তা হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের এ ডেস্ক থেকে তথ্য, পরামর্শ, প্রয়োজনে বাস্তব সেবা প্রদান করতে হবে। জব মার্কেট কিভাবে বাড়ানো যায় ধরা যাক, কবি নজরুল সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে অনার্স চতুর্থ বর্ষে শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৫০ জন। সেশন জটের কারণে ৫ বছর ধরে তারা পড়াশুনা করছে।

চার বছরের অনার্স কোর্স শেষ করে এই শিক্ষার্থীরা নিশ্চয়ই জব মার্কেটে প্রবেশ করবে। পাবলিক ভার্সিটি থেকেও একই সময়ে অনেক শিক্ষার্থী বেরুবে। প্রতিযোগিতামূলক জব মার্কেটে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষার্থীরা কিছুটা পেছনে থাকবে। কারণ কলেজগুলোতে ঢালাও শিক্ষার্থী ভর্তির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষার মান ধরে রাখা কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। এই ২৫০ জন শিক্ষার্থীর মেধাবী কয়েকজন ভালো সরকারি-বেসরকারি চাকরি পাবে।

কিছু অংশ কোনোরকমে নিম্নপদে হলেও একটা চাকরি জুটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। কেউ কেউ দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করবে। কেউ কিছু না করতে পেরে মাস্টার্স ভর্তি হয়ে আরও দু'বছর নষ্ট করবে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা ৫০ এর বেশি হবে না। অবশিষ্ট ২০০ জন কি করবে? জব মার্কেটে তাদের অবস্থান কি হবে? দিনের পর দিন একটি চাকরির আশায় ঘুরবে।

চাকরি না পেয়ে হতাশ হবে। এখানে একটি তথ্য শেয়ার করছি। বাংলাদেশে প্রতি বছর ২৫ লক্ষ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী শ্রম বাজারে প্রবেশ করে। এদের মধ্যে বড়জোর ২-৩ লাখ সম্মানজনক কর্মসংস্থান বেছে নেয়। অবশিষ্টরা কি করে আমরা সবাই জানি।

কেউ বাবা বা আত্মীয়-স্বজন থেকে ধার কর্জ নিয়ে নিজে কিছু একটা করার চেষ্টা করবে। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করবে, যুবক, ডেস্টিনি, ম্যাক্সিম গোষ্ঠীর মত কোনো প্রতিষ্ঠানে টাকা বিনিয়োগ করবে। তারপর সব খুইয়ে পথে বসবে। চাকরি না পেয়ে কয়েক বছর ঘুরে একটা ব্যবসায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করবে। ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ থেকে হয়রানি শুরু হবে।

ব্যবসায় দাঁড় করানোর প্রতি পদে পদে হয়রানি। সারা বাংলাদেশের সব শিক্ষার্থীর মধ্যে এই ২০০ জনকে প্রতীক ধরে আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে আনতে পারি। তাদেরকে জব মার্কেটে প্রবেশের উপযোগী করে দেওয়ার কর্মসূচি আমরা নিতে পারি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেমিনার ফি, উন্নয়ন ফি, বিবিধ ফি নামে বিভিন্ন ফি নেওয়া হয়। 'উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফি' নামে একটি ফান্ড করতে হবে।

এ ফান্ডের অর্থ প্রকৃত উদ্যোক্তা উন্নয়নে ব্যয় করতে হবে। ব্যবসায় শাখার শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রকৃত উদ্যোক্তা বের করে আনতে হবে। এটা খুবই সহজ। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রকল্প প্রস্তাবনা আহ্বান করতে হবে। কৃষি, শিল্প, আইটি, শিক্ষা, উদ্ভাবন, যোগাযোগ সব সেক্টরে ব্যবসায় প্রকল্প প্রস্তুত করা যাবে।

প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে প্রকল্প বাছাই করে উক্ত শিক্ষার্থী এবং তার সহযোগীদের প্রকল্পে মূলধন সংস্থান করতে হবে। উদ্যোক্তা উন্নয়ন ফি থেকে এ মূলধন সংস্থান করতে হবে। প্রকল্প পূর্ণাঙ্গরূপে পরিচালিত হতে ২ বৎসর লাগবে। এই দুই বৎসর মূলধনের কোনো অংশ ফেরত নেওয়া হবে না। ২ বৎসর পর থেকে মাসিক কিস্তিতে মূলধনের অর্থ ফেরত নেওয়া হবে।

উক্ত ফান্ড কলেজেই থেকে যাবে। নতুন উদ্যোক্তা উন্নয়নে পর্যায়ক্রমে এ ফান্ড ব্যবহৃত হতেই থাকবে। এভাবেই আমরা উদ্যোক্তা সৃষ্টি করে আরও দশজনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে পারি। এভাবেই আমরা জব মার্কেট বাড়াতে পারি।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.