আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সাঁস ভি কাভি বহু থি...থি কেয়া ?!? - পর্ব - ১



আজকের লেখাটা আমার মা আর বউকে নিয়ে লেখা।
আমার মা বাংলাদেশের সেরা মেয়েদের স্কুলের একজন শিক্ষক। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর কাছ থেকে প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ইত্যাদি সাধারণের থেকে কিছুটা বেশীই আশা করাটা স্বাভাবিক। যেহেতু বিগত ২৫ বছর যাবৎ নানাবিধ মেয়েদের দেখে অভ্যস্ত, তাই ছেলের বউ এলে তার সাথে খুব সহজেই তিনি মানিয়ে নিতে পারবেন বলে আমার ধারণা ছিল!

যাই হোক, মেয়ে দেখতে গেলে সবসময়ই তিনি মেয়েকে বা মেয়ের পরিবারকে এমনসব উদ্ভট আর উদ্দেশ্যমূলক প্রশ্ন করতেন যা কিনা তাদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিত। আর তিনি এতে বেশ মজা পান, অন্যকে ছোট করে নিজেকে বড় ভাবার মজা।

যদিও তার নিজের তখন বিবাহযোগ্য মেয়ে ছিল

আমার মা সবর্দাই বেজায় আত্মকেন্দ্রিক। নিজেরটুকু বুঝে পেলেই হল...পাশের জন না খেয়ে থাকলেও তিনি খুব কমই মাথা ঘামান। আমার স্ত্রী সারাদিন অফিস করে সন্ধা সাতটায় বাসায় গিয়ে সবার আগে রান্নাঘরে ঢুকে। তারপর রান্না শেষ করে হাতমুখ ধোয়। আমার মা কখনই তাকে এইসব ক্ষেত্রে কোন প্রকার সহযোগিতা তো দূরে থাক...জিজ্ঞেস করেও দেখে না।

স্কুলে সবার খুঁত ধরতে ধরতে এমন অবস্থা যে, সারাক্ষণ আমার বউয়ের খুঁত ধরায় ব্যস্ত থাকে। আমার বউ অবশ্য হাসিমুখে সব মেনে নেয়। প্রথম থেকেই বউ-শাশুড়ীর সম্পর্কটি সম্পূর্ন শীতল।

আমার বউ বিয়ের দুইদিন পর থেকেই রান্নাঘরে ঢুকে রান্না করছে। কারণ আমার আম্মার এটিচুডটা ওইরকমই ছিল।

আমাকে বিয়ের পরদিন থেকে বাজার করতে হবে আর আমার বউকে রান্না !! এই নিয়ে আমার সাথে আম্মার ক্যাচাল লেগেই থাকে। বলে রাখা ভাল আমি আর আমার বউ দুজনেই বেশভাল জায়গায় কর্মরত। আমি একমাত্র ছেলে আর আমার বউ সবার সাথে মিলেমিশে শশুড়-শাশুড়ীর সংগে থাকাকেই শ্রেয় মনে করে। আমরা কেউই বাবা-মা'র উপর নির্ভরশীল নই। আর আমার বাবা-মা'ও এখনো কর্মরত।

স্বাভাবিকভাবে তাঁরাও নন।

যাই হোক, গত শবেবরাতে আমার বউ সম্পূর্ন একা একা নানা পদের হালুয়া তৈরী করেছিল। শিলপাটা দিয়ে বুট বাঁটা থেকে শুরু করে...সব। আম্মা একবারের জন্য রান্নাঘরে উঁকি দিয়েও দেখেনি। তিনি কখনই দুটির বেশী হলুয়া করতেন না।

আমার বউ আশা করেছিল এতে হয়তো শাশুড়ীর মন গলবে...হাসিমুখে একটা দুইটা কথা বলবে। কিন্তু কিছুই বলেনি। সে খুবই মন খারাপ করেছিল এ নিয়ে। উপরন্তু, আমার বউ আমাকে বলে দিয়েছিল যে, তাঁর মা (আমার শাশুড়ী) যদি জানতে চায়, এতসব হালুয়া কে বানিয়েছে, আমি যেন বলি...সব কাজে বুয়া হেল্প করেছে। কেননা একা একা তার মেয়ে এতসব করছে শুনলে হয়তো তার খারাপ লাগবে।

যথারীতি আমার শাশুড়ী জানতে চাইলেন। আর আমি কিছু বলার আগেই বউ বলল...বুয়া সব বেঁটে দিয়েছে আর আমি অল্প কয়টা আইটেম করেছি। আমি আর কিছু বললাম না।
‌‌
আগামী পর্বে কি হবে জানতে চোখ রাখুন আমার ব্লগে...

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।