আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ঈশান বাবা, একটু সময় দে... তোকে বাচাবোই, তোকে মরতে দিবো না

জামাত-শিবির দূরে গিয়া মর! ঈশান। তিন-চার বছরের বাচ্চা একটা ছেলে। আমার সাথে রক্তের কোন সম্পর্ক নেই। ইন ফ্যাক্ট ওকে আমি চিনতামও না। এখন আমার মাথায় সারাক্ষন একটাই চিন্তা, যেভাবে হোক ওকে মৃত্যুর কবল থেকে বাচাতেই হবে।

আজ যাচ্ছি এক জায়গায়, দেখি যদি কিছু সাহায্য পাওয়া যায়। ব্যাচেলরের প্রধান শত্রু এবং একমাত্র বন্ধু হচ্ছে মশা। কেন জানি এখন মশার কামড় না খেলে আমার ঘুম আসে না। আমি বিজ্ঞানী নই নাইলে যুক্তি-তর্ক পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে প্রমান করতাম যে মশার কামড়ে নেশা উদ্রেক কারী কিছু আছে। যাই হোক আজ সাহায্যের জন্য (আপনাদের ভাষায় ভিক্ষার জন্য) যাচ্ছি এক বড় শিল্পপতির কাছে।

আমার বন্ধু অতনুর পরিচিত বলে এ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া গেছে। পরনের সেন্টু গেঞ্জিটায় কিছু মশা রক্ত সহ লেপ্টে আছে। রক্ত খেতে গিয়ে শহীদ হয়ে গেছে। কোন রকম একটু জাত হয়ে বেরোলাম ভিক্ষা করতে। এদিকে শান্তি শুধু ফোন দিয়ে যাচ্ছে, দিক।

ঈশান কে বাচাবার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত আমারও যে শান্তি নেই। আমি এখন দেশের ভিআইপি কেজন বিজনেস টাইকুন এর ওয়েটিং রুমে বসে আছি। আমার মত আরও কয়েকজন ঈশান কে বাচাতে এভাবে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বিত্তবানদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছে। যদিও এ্যাপয়েন্টমেন্ট সকাল এগারোটায় ছিল, এখন বাজে দুইটা। তিন চার ঘন্টা ঠায় বসে থাকা আমার কাছে কোন ব্যাপার না।

রিসিপশনের মেয়েটা তার বাকা দাতগুলোর সব কয়টা বের করে বলল, স্যার আপনাকে ডেকেছেন। অবশেষে ডাক এল। দুরু দুরু বুকে প্রবেশ করলাম। ♦ তোমার নাম? ♦ জ্বি শাফাত নূর। আমি অতনুর ফ্রেন্ড।

♦ ও হ্যা! হ্যা! বল কি খাবে চা না কফি? (বেল চাপতে গেলেন) ♦ জ্বি আমি কিছু খাব না। আমি ঈশানের ব্যাপারে একটু কথা বলতে চাচ্ছিলাম। ♦ ঈশানটা কে? ♦ একটা বাচ্চা ছেলে, ওর হার্টের ভাল্বে সমস্যা আছে। অপারেশন না করলে বাচানো সম্ভব না। অপারেশন করতে প্রায় ১০ লাখ টাকা দরকার।

♦ তুমি কি জানো এই দেশে কত মানুষ না খেয়ে কিংবা বিনা চিকিৎসায় মারা যায়? সবাইকে বাচাবার ঠেকা কি আমার? ♦ আপনারা বিত্তবানরা যদি একটু সাহায্য না করেন, কেমন হয়? মানবিকতার খাতিরে.......... ♦ তোর মানবিকতারে আমি ****৳%??##@*^%@#***** আমি কি হাতেম তাই, যে ভিক্ষার ঝোলা নিয়ে আওগাইয়া আইচস? যা ভাগ। (এমন সময় ভিআইপির ফোন বেজে উঠল, আমি নির্লজ্জের মত ঠায় বসে রইলাম। ) : হ্যালো কে? ও হ্যা হ্যা, মনে আছে তো, কনসার্টে কাকে কাকে আনতেচো? না না, টাকা নিয়া ভাইবো না, দ্যাহো ভারতের কেউরে আনতে পারো কিনা... দূর টাকা কোন ব্যাপার হলো? কত লাগবে খালি বলে দিও............. এখন আর বসে থাকতে পারলাম না। নিজের উপর কোন কন্ট্রোল ছিল না। মাঝে মাঝে এমন হয়ে যায়।

আউট অফ কন্ট্রোল। কি হল জানি না, দেখলাম ভিআইপি ব্যাটা মাটিতে লুটিয়ে আছে, নাক দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে। আমার ডান হাতটা মুঠ করে রাখা। আমি খালি হাতে ফিরেছি। আমিনুর, শিপলু , আদনান, জনি, রাইয়াদ সবাই খালি হাতে ফিরেছে।

মিডিয়া পর্যন্ত এদিকে ফোকাস করতে রাজি নয়। কেন রাজি হবে? ঈশান কি কোন মন্ত্রী আমলার ছেলে? নাকি কোটিপতির ছেলে? দিবা বলল, শাফাত তুই না ভালো ছবি আকতি? আকবি নাকি? আমিও আকব ভাবছি। ঈশান বাবা আমার, আমি তোর জন্য দিনরাত ছবি আকছি। প্রতি ছবি ৩০০ টাকা করে নিচ্ছি। দিবা ছবি আকছে।

প্রদর্শনী করব। বাবা আমার আমাদের সাথে প্রবাসী কিছু ভাইও আছে। যাদের পকেট ভরা টাকা না থাক, অনেক বড় একটা মন আছে। আমরা চেষ্টা করছি সোনা। একটু সময় দে আমাদের.... আরতো মাত্র কয়েকটা টাকা।

যোগাড় করে ফেলব দেখিস... তোর খেলনা বেচতে হবে না। একটু কষ্ট করে বেচে থাক, আর কয়টা দিন সময় দে বাবা... একটু সময় দে.......... ( এটা সম্পূর্নই কাল্পনিক একটা গল্প। তবে যদি বুঝতে পারেন কার জন্য লেখা হয়েছে, তাহলে একটু সাহায্য করুন। ১০-২০-৫০ যা খুশি, সময় যে অনেক কম) ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।