আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ছাত্রলীগ যুবলীগ নিয়ে জিরো টলারেন্স

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে চাঙ্গা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগের বাড়াবাড়িকে এবার প্রশ্রয় দেবে না। কোনোরকমের বাড়াবাড়ি করলেই কঠোর ব্যবস্থা। তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে।

সরকারের নীতিনির্ধারক মহল মনে করে, এবারে সরকার ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে দলের নেতা-কর্মীদের যে ধরনের ভূমিকা রাখার কথা ছিল তা পারেনি। প্রধানমন্ত্রী নিজে দলকে ক্ষমতায় আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন। যে কারণে কোথাও টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনোরকম ছাড় দেওয়া হবে না কোথায়ও। অন্যদিকে ব্যাপকভাবে দলের সাংগঠনিক কাঠামো জোরদার করা হবে এখন থেকেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এখন থেকে সার্বিক বিষয় মনিটরিং করবেন। জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় প্রধানমন্ত্রীর সফর অব্যাহত থাকবে। এরই মধ্যে তিনি সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি জেলা সফর করেছেন। আজ গাইবান্ধায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাবেন। এদিকে তৃণমূলে গতি ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি সফরে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা। বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতাপ্রবণ এলাকা ঢেলে সাজিয়ে আরও জোরদার করা হবে এসব এলাকার সাংগঠনিক কাঠামো। দলের নীতিনির্ধারক মহলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দলীয় সূত্রমতে, সরকার গঠনের পর সংগঠনকে শক্তিশালী করাই এখন মূল টার্গেট। গত এক বছরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা মোটেও ভালো ছিল না। সংগঠনকে চাঙ্গা করতে যেসব উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। হতাশা ছিল পদে পদে। সংশয়, সমস্যা ছিল অন্তহীন। তাই এখনই হতাশা কাটিয়ে সংগঠনকে ঢেলে সাজানোই মূল পরিকল্পনা। বিএনপি-জামায়াতের তাণ্ডবের সময় অনেক কেন্দ্রীয় নেতা নিজের এলাকায় যেতে পারেননি। তাদের ব্যাপারেও তথ্য রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। আগামী কাউন্সিলে তাদের বিদায় নিতে হবে। সাংগঠনিক দক্ষতাসম্পন্ন নেতাদের আগামীতে কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হবে। একই নীতি অনুসরণ করা হবে যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের ক্ষেত্রেও। দুর্নীতিবাজদের ঠাঁই হবে না দলে। যে-ই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাকে বিদায় নিতে হবে দল থেকে এবং আইনের মুখোমুখি হতে হবে। বিগত সরকার দেশের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করলেও যুবলীগ, ছাত্রলীগের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির কারণে সরকারের এসব সাফল্য ম্লান হয়ে যায়। তাই এবার আগে থেকেই এসব সহযোগী সংগঠনের লাগাম টেনে ধরতে কঠোর হচ্ছে দলের হাইকমান্ড। যেখানেই অপকর্ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি সেখানেই ব্যবস্থা। দল থেকে বহিষ্কার এবং আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবীর নানক বলেন, সারা দেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকেই তৃণমূলে দলকে ঢেলে সাজানো হবে। নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি এবং সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হবে। আওয়ামী লীগের অন্যতম টার্গেট এখন দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করা। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীকে জয়ী করতে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সরকারের এখন প্রধান লক্ষ্য সব ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করা। যে কোনো ধরনের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। যেখানে যারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেটা যদি দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীও হয় সেখানে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে। সংগঠনকে ঢেলে সাজানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৃণমূল সংগঠনকে চাঙ্গা করতে কিছু দিনের মধ্যেই সারা দেশে সাংগঠনিক সফর শুরু করা হবে। এর মাধ্যমে জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে দলের নেতৃত্ব বাছাই করা হবে। যেসব কমিটির মেয়াদ নেই সেখানে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি দিয়ে সংগঠনকে আরও গতিশীল করা হবে।

দলীয় সূত্রমতে, চলতি বছরের মে মাসের মধ্যেই দেশের ৫৯টি জেলা এবং এর অধিভুক্ত উপজেলার কাউন্সিল শেষ করা হবে। এ জন্য আগামী সপ্তাহের শুরুতেই জেলা কমিটিগুলোর কাছে কেন্দ্রের নির্দেশনা পাঠানো হচ্ছে। ১৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা নেতা-কর্মীদের সাংগঠনিক সফর ও মেয়াদ উত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা কমিটির সম্মেলন করতে বিশেষ নির্দেশনা দেন তিনি। দলীয় সূত্রমতে, নতুন সরকার গঠনের সময় দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা সংগঠনের দিকে নজর দিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা যুগ্ম-সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়নি। বিগত মহাজোট সরকারে বেশির ভাগ নেতা মন্ত্রী হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছিল বলে প্রধানমন্ত্রী মনে করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বেশ কয়েকটি জেলায় বিএনপি-জামায়াতের সাম্প্রতিক সহিংসতার মুখে আমাদের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা যেভাবে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তা থেকে আমরা ধরে নিয়েছি সাংগঠনিক দুর্বলতা আছে। তাই এখনই আমরা তা কাটিয়ে উঠতে চাইছি। কেননা আমাদের প্রতিপক্ষরা আবারও সহিংস আন্দোলনে যেতে পারেন। তখন তা মোকাবিলা করার জন্য এখন থেকেই নতুন নেতৃত্ব এনে দলকে সংগঠিত করতে হবে।

দলের নীতিনির্ধারক সূত্র আরও জানায়, সারা দেশে দলের তৃণমূলের সম্মেলন শেষ হলেই উদ্যোগ নেওয়া হবে সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর। বাদ পড়বেন অদক্ষরা। দক্ষতাসম্পন্ন ও জনসম্পৃক্ত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। এ ছাড়া বিগত বছরে যাদের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে সেসব নেতা যেন আগামীতে কোনো কমিটিতে স্থান না পান সে ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.