আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

যাত্রার নামে সব অশ্লীলতা...



যাত্রা...গ্রাম গঞ্জের মানুষের কাছে বিনোদনের এক অসাধারণ মধ্যম। যাত্রায় মানুষের জীবনের নানা দিক ফুটে তোলা হয় বিভিন্ন গান ও স্লোকের মাধ্যমে। যাত্রায় মূলত, রাজকুমারের সাথে গরীবের মেয়ের কিংবা গরীবের ছেলের সাথে রাজকন্যার বিরহগাথা প্রেম কাহিনী সাথে আরও ঐতিহাসিক বিভিন্ন প্রেক্ষাপট ফুটে তোলা হয়। যাত্রা বছরে মূলত একটা নির্দিষ্ট সময়ে হয়ে থাকে। যাত্রার উপযুক্ত সময় মূলত শীতকাল।

আগেরকার দিনে যা হত মানুষ তার পরিবার পরিজনসহ যাত্রা দেখতে যেত। তখন যাত্রা দেখার একটা সুন্দর পরিবেশ ছিল এবং মানসম্মত সব যাত্রাও পরিবেশন করা হত।
কিন্তু দিন যত যাচ্ছে মানুষ তত আধুনিক হচ্ছে আর যুগের সাথে সাথে যাত্রারও পরিবর্তন হচ্ছে। মানুষ এখন আর সুস্থ বিনোদন চায় না। এখন যাত্রার নামে চলছে মেয়েদের দেহ দেখানো ব্যবসা।

যার ফলে যাত্রার প্যান্ডেলে মহিলা দর্শকের উপস্থিতি দিনকে দিন কমে যাচ্ছে। এখন যাত্রার নামে চলছে সব অশ্লীলতা।
সম্প্রতি আমারো একটা যাত্রা দেখার সুযোগ হয়েছিল এবং আমি সেই যাত্রাও দেখেছি। কিন্তু আমার যাত্রা দেখার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা ছিল না কিন্তু বন্ধুদের পিড়াপীড়িতে শেষ পর্যন্ত যাত্রা দেখেই ফেললাম। এতে করে যা হল মেয়েদের প্রতি (সব মেয়ে না, যারা কয়টা টাকার লোভে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করে না) একটা ঘৃনা জন্মালো আর আপনাদের একটা ব্লগও উপহার দিতে পারলাম।

আসলে বর্তমানকালে যাত্রায় কি হয় তা আমি আপনাদের কাছে তুলে ধরছি-
প্রথমেই বলেছি বন্ধুদের পিড়াপীড়িতে যাত্রা দেখেছি। আসলে আমরা যাত্রা দেখতে যাই নি। আমরা মূলত গিয়েছিলাম সার্কাস দেখতে। সার্কাস দেখতে গিয়ে দেখি সেদিন আর সার্কাস হবে না, হবে শুধু যাত্রাপালা। রাত ১১টায় ৮ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে এলাম আর কিছু না দেখে আবারও ৮ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে যাব তা কি করে হয়।

তাই ৮০ টাকা জনপ্রতি ১১টা টিকিট কাটলাম। টিকিট কাটতে গিয়ে বিশাল এক অবস্থা। সেকি কান্ড...জীবনেও কোনদিন এত লোকের ভিড়ে টিকেট কাটি নি। মনে হচ্ছে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের লঙ্গরখানায় কয়েকদিনের অনাহারে পীড়িতদের খাবার বিলি করা হচ্ছে। যারা যারা টিকেট পাচ্ছে তারা মনেহয় আরেকটা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ জয় করে আসতেছে কিন্তু টিকেট পাওয়ার পরও বিধি বাম।

যাত্রার প্যান্ডেলে ঢোকা নিয়ে আরেক সমস্যা। চিপা একটা রাস্তা সেখানে টিকেট কাউন্টারের চেয়েও দ্বিগুণ বেশী ভিড়। আমি যখন ঢুকতেছিলাম তখন একসাথে ঐ চিপায় দুইজন ঢুকে পড়েছিলাম, হায়রে সেকি কষ্ট। আমার এখনো মনে হয় ঐ চিপা রাস্তার মধ্য আমি মিনিট খানেক আটকে ছিলাম তারপর ভাই যাত্রার প্যান্ডেলে ঢুকলাম, ঢুকে দেখি সেখানে সব স্বল্প আয়ের মানুষজন আর মঞ্চের আশেপাশে এলাকার মাতামুরুব্বী। যেহেতু জীবনের প্রথমবার, সেহেতু অনেক উদ্বিগ্ন ছিলাম যে, কখন যাত্রা শুরু হবে।

অনেক প্রতীক্ষার পর সুন্দর অসুন্দর মিলে ৭টা মেয়ে লাল পেড়ে সবুজ শাড়ি পড়ে যাত্রার মঞ্চে এসে দাঁড়ালো এবং সবাই একটা সমাবেত সঙ্গীত গেয়ে শোনালো। এরপর শুরু হল আসল খেলা। বিকিনি পড়ে একটা মেয়ে আসল মঞ্চে সাথে কুরুচিপুর্ণ সঙ্গীত। মুহুর্তেই সকল মানুষের মধ্য কলরব উঠলো যে, মাগী পুরাই খুলে ফেল...পুরাই খুলে ফেল...টাকা দিয়ে ঢুকেছি কি তোর চেহারা দেখার জন্য...? আমরা তোর চেহারা দেখব না আমরা শুধু দেখব তোর শরীর। এই ধরণের অনেক আজেবাজে সাউন্ড সাইড থেকে আসতে লাগলো।

মনে হচ্ছে মানুষ চিড়িয়াখানায় ঢুকেছে আর যাত্রার ঐসব মেয়েরা হচ্ছে নিরীহ পশুপ্রানী।
শুরু হল প্রথম মেয়েটার নাচন। আহা সেকি অশ্লীল নৃত্য মনে হচ্ছে এই দুনিয়া থেকে আল্লাহতালা ঐসকল মেয়েদের মাঝখান থেকে সকল প্রকার লজ্জা শরম উঠিয়ে নিয়েছে। অনেক দর্শকই ২ টাকা ৫ টাকা করে খুচরা অনেকগুলো টাকা নিয়ে এসেছিল যারা শুধুমাত্র যাত্রার ঐসব মেয়েদের কাছে ডেকে নিয়ে বুকের কাপড়ের ভিতর দিয়ে দুই চার পাঁচ টাকা করে দিচ্ছে আর হাতের আনন্দটাও করে নিচ্ছে। যখন দেখা যাচ্ছে যে, কেউ একজন বেশী সময় নিয়ে নাচতেছে, ওর নাচ দেখতে আর ভালো লাগছে না সাথে সাথে দর্শকরা কুরুচিপুর্ণ গালিগালাজ করে সেই মেয়েকে যাত্রা মঞ্চ থেকে বের করে দিচ্ছে।

ঠিক এইভাবে চলল কয়েকজনের নাচ। সবাই একে একে বিকিনি পড়ে আসতেছে আর অশ্লীল সব অঙ্গভঙ্গী করে চলে যাচ্ছে, নাচ না তো দেখে মনে হচ্ছে রামলীলা। দর্শকরা তো চরম ক্ষ্যাপা। তারা মেয়েদের অন্তিম পর্যায়ে দেখবেই। শুরু হয়ে গেল মারামারি।

যাত্রার দলের লোকেদের সাথে দর্শকদের। দীর্ঘ ২০ মিনিট মারামারির পর আবার যাত্রা শুরু হল, আসল একটা ঢাকাইয়া মেয়ে। এই মেয়েটাই একটু শালীনতা পোষাকে এসে কয়েকটা ভাল ভাল গানের সাথে নৃত্য পরিবেশন করল। তবে মেয়েটি মঞ্চ কাঁপিয়ে দিয়েছিল। দেখতে দেখতে যাত্রার ৩ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়।

তখন রাত ০৩.৩০ মিনিট। মঞ্চে আসল এক বেহায়া মহিলা। পাতলা পিনপিনে একটা কাপড় পরা। কাপড়ের উপর দিয়েই তার শরীরের সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেখা যাচ্ছে আর মেয়েটিও অনেক এঞ্জয় করছে তার শরীর সবাইকে দেখাতে পেরে। বাকিটুকু আর বা নাইই বললাম শুধু একটা কথাই বলতে চাচ্ছি যে, এই পৃথিবীতে টাকা এমনই এক বস্তু যার জন্য মানুষ তার মানসম্মান হারাতেও দ্বিধাবোধ করে না...


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।