আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মা, আমার বীরাঙ্গনা মা।

পরে কমুনে গণ্ডগোল শুরু হওয়ার পর থাইকাই তো পালাইয়া পালাইয়া বেড়াইছিলাম। একদিন ঐখানে নিছে,কালাই ক্ষেতে। তখন নয় মাসের বাচ্চা পেটে। ছেলেটা হইছিল। পেটে বাচ্চাটা তহনই পইড়া যায়।

তহন তো আমার অবস্থাও যায় যায় করে। এক দিকে এই অত্যাচার আবার অন্য দিকে পেটের সন্তানও মারা গেছে। একভাবে তো বাইর করতে হইবো। ... আমার অবস্থা ক্রমে খারাপ হচ্ছে। এক সময় আমাকে বাঁচানোই দায় হইয়া পড়ছে।

অনেক খোঁজাখুঁজির পরও যখন কা উকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি তখন গ্রা মের লোকেরাই আমারে বাঁচানোর জন্য আগাইয়া আইল। তখন তারা দা,বটি দিয়ে ছেলেটারে কাইটা কাইটা পেট থেকে বের করে। তখন দেখে যেই সন্তান ছেলে সন্তান। তারপর তো আমার অবস্থা আরো খারাপ হয়। তখন আমারে তাড়াতাড়ি করে মেডিকেলে নিয়ে গেল।

৪ বৎসর রইছি মেডিকেলে। নির্যাতনের কারণে পায়খানার রাস্তাটা আর সন্তানের রাস্তা এক হইয়া গেছিল। অপারেশন করতে হয় পাঁচটা বড় বড় অপারেশন। এই জায়গাটা এভাবেই আছে,সেই ৩০ বছর ধরে এভাবেই। এই পর্যন্ত কত কষ্ট করতাছি।

সারাদিন ডোমা ( কাপড়ের নেকড়া ) দিয়া পেঁচায়া রাখি। ঐ যে খাঁচাটা আছে না,তার মধ্যে জমাই। পরে একবারে নিয়া ধুইয়া আনি। সারাদিন কি ধোয়া সম্ভব। একটু পর পর ডোমা পাল্টাতে হয়।

এই পাঁচ,দশ মিনিট পরপর। ... রাস্তা দুইটা এক হওয়াতে পায়খানার রাস্তা খুবই খারাপ হয়ে যায়। তাই পায়খানার রাস্তাটা পেটের ঠিক নাভির পাশে করিয়ে দেয়। তাই কোন নির্দিষ্ট সময়ে তা করতে হয় না। সারাক্ষণই পায়খানা বের হতে থাকে।

তাই এই ডোমা দিয়ে রাখি। গায়ে দুর্গন্ধ হয়ে থাকে। ঐ কাজ করার পরে তো পায়খানা আর পেশাবের রাস্তা এক হয়ে গেছে। ২ টা পর্দা আছে না?এক হয়ে গেছে। পরে পায়খানা সারাক্ষণ আসতেই থাকে সন্তানের রাস্তা দিয়ে।

জরায়ু কয় না?জরায়ু দিয়েও পায়খানা আসে। তারপরই অপারেশন করে এই ব্যবস্থা করে দেয়। ... ধইরা নিছে সকাল ১১টার দিকে। আনছে একেবারে মাগরিবের পরে হয়তো। আমি কইতে পারি না কহন আনছে।

আমার একটা ননদ আছিল,ঐ ননদের মেয়ে দেইখ্যা বাড়িতে কইলে অন্যরা যাইয়া নিয়ে আসে,কোনো কোনো সময় জ্ঞান ছিল। আবার কোনো কোনো সময় অজ্ঞান ছিলাম। অনেক পাকবাহিনী ছিল। আর দুইজন রাজাকার। - মমতা ( গাজীপুর ) কৃতজ্ঞতাঃ প্রীতম দাস।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।