আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

তোর মত আমার মন মুখে না, মনটা বুকে শয়তান

মানুষের জীবন খুবই বিবর্ণ থাকে মাঝে মাঝে। আসলে একে বিবর্ণ বলাটা বোধ হয় ঠিক না। এটাও একটা রং। হয়তো নিকষ কালো কিংবা ধূসর ! প্রিয় পাঠক, নিচের গল্পটি একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা মূলক গল্প। ব্লগার কাল্পনিক ভালোবাসা আমার সাথে শেয়ার করেছিলেন।

গল্পটা শুনে মনে হল, এর মধ্যে বেশ হাস্যরসের কিছু উপাদান আছে, যা হয়ত গল্প হিসেবে বেশ চমৎকার। কাল্পনিক ভাইয়ার অনুরোধে তাই আমি লিখে ফেললাম। তিনি পড়ে বেশ মজা পেলেন। বললেন, ব্লগে শেয়ার করতে। আমিও রাজি হলাম।

কিন্তু শর্ত দিলাম, তাকেও একই প্লটে লিখতে হবে। তিনি প্রথমে কিছুটা কাচুমাচু করলেও পরে লিখেছেন। একই গল্প , একই প্লট লেখক দুইজন। আশা করি এই যৌথ প্রচেষ্টা খারাপ লাগবে না। তবে গল্পের কোন অংশে যদি কিঞ্চিত লুলীয় মনে হয় তাহলে তার দায় ভার কোন ভাবেই আমাদের উপর বর্তাবে না।

এটা গল্পের নায়ক এবং নায়িকার উপরই বর্তাবে। ---------------------------------------------------------------------------- জাহিদ একটি এমএনসি তে চাকরি করে। সে তার কর্মব্যাস্ত জীবন খুব উপভোগ করে। এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ায়। ভার্সিটি লাইফের মত বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আড্ডাবাজিতে এখনও মেতে ওঠে যখনই কর্ম ব্যাস্ত জীবনের ফাকে একটু সময় পায়।

নিপা জাহিদের কলিগ। মেয়েটা নতুনই জয়েন করেছে তার অফিসে। চেহারা ভালোই খারাপ না। আর এই জন্যই জাহিদের অন্য সব পুরুষ কলিগরা লাইন লাগিয়ে দিয়েছে নিপা’র পেছনে। মেয়েটার ভাব অনেক।

একে তো তার চেহারা সুন্দর তার ওপর তার পেছনে এতগুলো কলিগ হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছে। শুধু জাহিদই একটু ব্যাতিক্রম। সে তেমন হাই হ্যালো ছাড়া কোন কথা বলে না নিপা’র সাথে। এই জিনিস টা নিপা’র নজরে আসে। সে মনে মনে জাহিদের উপর একটু বিরক্ত হয়।

মেয়েদের মন আসলেই বোঝা অনেক কঠিন। কারো তাদের ভালো লাগলে তাকে পাত্তা দিবে না, আর কেউ পাত্তা না দিলে তার উপর মেজাজ খারাপ করবে। আজিব! ভালোই দিন যাচ্ছিল। জাহিদ এর যেহেতু নিপা’র ব্যাপারে কোন আগ্রহ ছিল না, সেহেতু তাকে নিয়ে তেমন কোন গবেষণা করার ইচ্ছাও ছিল না। কিন্তু সে গত এক দেড় মাস ধরে নিপা’র আচরনে কেমন যেন একটা পরিবর্তন লক্ষ করে।

নিপা জাহিদ এর এক বন্ধুর কাছ থেকে তার সম্পর্কে জেনে তাকে ফেসবুকে একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। যেই মেয়ে সব সময় ভাব নিয়ে চলে, সেই মেয়েই কিনা আবার সেধে সেধেই কথা বলে জাহিদ এর সাথে। আপনি থেকে সম্পর্ক তুমিতে চলে আসে। জাহিদ অফিসে গেলে ফোন দিয়ে বলে অফিসে এসে ফোন দাও নি কেন? লাঞ্চ এর আগে ফোন দাও নি কেন? এই রকম অনেক কিছু। আর তার কথা বার্তায়ও কেমন একটা পরিবর্তন আসছে।

আবার মাঝে মাঝে জাহিদকে এটাও বলে তার জন্য নাকি অনেক ছেলে পাগল ছিল। এই ছেলে তার জন্য এই করছে, ওই ছেলে তার জন্য সেই করছে ব্লা ব্লা ব্লা। কিছুদিন পরের কথা। নিপা জাহিদকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করে তুমি কই? জাহিদ বলে যে সে নীলক্ষেত আসছে, পুরনো কিছু ম্যাগাজিন খুঁজতে। নিপা বলে “তুমি কি ব্যাস্ত”? জাহিদ বলে “না।

কিসের ব্যাস্ত? অনেকদিন পর সময় পেলাম তাই একটু বের হলাম আর কি”। নিপা বলে “পিছনে তাকাও”। জাহিদ পেছনে তাকিয়ে দেখে নিপা দাঁড়িয়ে আছে। দুজনে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলতে থাকে, এমন সময় জাহিদ এর দেখা হয় তার এক বান্ধবির সাথে। সে আসছে তার বোনের বিয়ের কেনা-কাটা করতে।

সে জাহিদ কে জিজ্ঞেস করে তার সাথে যাবে কিনা। জাহিদ বলে যে “তুমি যাও আমি তোমদের বাসায় আসছি”। তারা যখন কথা বলছিল তখন নিপা কেমন যেন এক লুক দিয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে ছিল এটা জাহিদের চোখে আটকে যায়। জাহিদের বান্ধবী যখন চলে যায় তখন নিপা তাকে বলে “প্লিজ তুমি কিছুক্ষন থাকো না আমার সাথে। তোমার তো কোন কাজ নেই।

চলো না দুজনে মুভি দেখতে যাই”। জাহিদ অনেকটা বাধ্য হয়েই মুভি দেখতে সম্মতি জানায়। তখন বলাকাতে ঘেঁটুপুত্র কমলা চলছে। তো দুজনে গিয়ে দেখে সেই মুভি। আবার একদিন নিপা জাহিদকে বলে “তোমার মেয়েদের সাথে এতো কথা বলার দরকার কি?” জাহিদ বলে “তোমার সমস্যা কি? আর তুমি কি ছেলে নাকি? নাকি তুমি আমার বউ না জিএফ? কোনটা?” জাহিদ এই মেয়ের মস্তিস্ক পড়তে অক্ষম হয়ে একদিন সরাসরি তাকে জিজ্ঞেস করে “তোমার সমস্যা কি?” তোমাকে এতো ফোন দিতে পারবো না আমি।

তুমি কি আমার প্রেমে পড়েছ? যদি পড়ো তাহলে তোমার প্রতি আমার অনেক সমবেদনা। তোমাকে আমি সাহায্য করবো। কিন্তু আমি তোমাকে তেমন ভাবতে পারবো না। তুমি একজন ভালো বন্ধু হলে হতে পারো, কিন্তু জীবনসঙ্গী নয়”। নিপা বলে, “ কি? কি? কেন তোমার মনে হল আমি তোমার প্রেমে পড়েছি? এখন পর্যন্ত কোন ছেলেকেই আমি এই সব বলি নাই।

লাস্ট যে ছেলের সাথে আমার এফেয়ার ছিল তাকে আমি এখনও অনেক ভালোবাসি”। নিপা আরও কিছু উল্টা ফাপর দিয়া ফোনের লাইন কেটে ফোন রেখে দেয়। পরের দিন জাহিদ তাকে দুইবার কল দেয় কিন্তু নিপা ফোন রিসিভ করে না। শেষে জাহিদ একটা এসএমএস পাঠায়। লিখে “যাও ভালো করে মুড়ি খাও।

বাই। ” এরপর নিপা টানা তিন দিন কল দেয় কিন্তু এবার জাহিদ কল রিসিভ করে না। শেষে নিপা একটা মেসেজ পাঠায় “তোরে থাপড়ানো দরকার”। জাহিদ রিপ্লাই দেয় “ ইউ হ্যাভ সেন্ট মি রং এসএমএস”। তারপর আবার নিপার এসএমএস “সরি তোমাকে না” নিপা আবার একদিন জাহিদকে এসএমএস করে “তোর মত আমার মন মুখে না, মনটা বুকে শয়তান”।

জাহিদ রিপ্লাই দেয় “জানি তাই তো তোমার মন অনেক নরম এবং উষ্ণ”। আবার নিপার রিপ্লাই “ ছোটলোক ! এতো বাজে কথা বলতে পারিস?” এরপর থেকে তাহাদের আর কথা হয় না। জাহিদ যদিও নিপাকে পরবর্তীতে তার অফিসের অন্য এক কলিগের সাথে দেখেছে। কিন্তু সে আর কিছু বলতে যায় নি, শুধু মনে মনে একটা হাসি দিয়েছে। হয়তো কোন এক অজানা বিজয় এর হাসি।

উৎসর্গঃ ব্লগার কাল্পনিক_ভালোবাসা ভাইয়া'কে। কাল্পনিক ভাইয়ের লেখা ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।