আমি চাই শক্তিশালী স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ
গত বছর মে মাসে একটি পোষ্ট দিয়েছিলাম;
হাসিনার ইউনুস আক্রোশের ফসল মার্কিন কংগ্রেস বাংলাদেশী গার্মেন্টস পণ্যে কোটা আরোপ করতে পারে
Click This Link
ঐ সময়ে ২০১১তে ওয়াশিংটনের সাথে দিল্লীর মধুচন্দ্রিমা থাকায় বাংলাদেশের গার্মেন্টেসের রপ্তানী রক্ষা পায়। তাই আমেরিকা বিশেষ করে হিলারী ক্লিন্টনের প্রবল ইচ্ছা থাকলেও ডঃ ইউনুসকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদে ফিরিয়ে আনতে পারেননি। কিন্তু বিগত এক বছরে পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গেছে। দিল্লী ও ওয়াশিংটনের মহব্বতে ভাটা পড়েছে। আর গত মে মাসে হিলারী ক্লিন্টন ডঃ ইউনুসকে গ্রামীণে পুনরায় দেখার কথাও স্পষ্ট করে বলেন।
ডঃ ইউনুস স্বাভাবিক ভাবেই আশ্বানিত হন। এই নিয়ে ইউনুস সাহেব বক্তব্যও দেন। কিন্তু অর্থমন্ত্রী মুহিত ইউনুসের বক্তব্যকে সরাসরি এবং পরোক্ষা ভাবে হিলারী ও যুক্তরাষ্ট্র রাবিশ বলেন। ভেবেছিল এবারও রক্ষা পাবে। কিন্তু তার একদিন পরেই পদ্মা সেতু নিয়ে র্দূনীতির বিষয়ে বিশ্বব্যাংক তাদের সরাসরি রিপোর্ট হাসিনার মহাজোটের কাছে তুলে ধরে।
কয়েকদিন আগে ডঃ ইউনুস গ্রামীণ ব্যাংকে হাসিনার সরকারের হস্তক্ষেপ ঘটলে তার ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার প্রবল আশংকা ব্যাক্ত করেন। এই ঘটনাতেও সরকারের টনক নড়েনি বরং ইউনুসকে গ্রামীণ ব্যাংক হতে দূরে সরিয়ে রাখার ব্যাপারেই অনড়। এই বিষয়ে সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের সেই "বাঘের চেয়ে যে হাসিনা আরো বেশী নির্দয়" মনে করিয়ে দেয়;
Click This Link
হাসিনা, আলীগ ও তার চামচারা মনে করেছিল প্রণব ও দিল্লী এই বিষয়ে মার্কিনিদের সামলে নিবে। কিন্তু বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মার্কিনিরা সুযোগ পেয়ে গেছে। একের পর এক বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে এমন আশংকার কথা সরাসরি উল্লেখ করছে।
সর্বশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন;
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হুমকির মুখে পড়তে পারে
Click This Link
যদিও ডঃ ইউনুস বিষয়ে প্রকাশ্যে এই ঘটনা সমূহ জড়িত তা উল্লেখ না করলেও দেশের সচেতন মানুষ সেটা বুঝে যে ঠিক আসল কারণটা কি। ডঃ ইউনুস গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি থেকে বাংলাদেশের কোন ক্ষতি করেছেন এই কথা কেউ বলতে পারবে না। তার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার এবং রাজনৈতিক দল গঠনই উনাকে লাইম লাইটে নিয়ে আসে। হাসিনার আশংকা ছিল ডঃ ইউনুস রাজনীতিতে ঢুকলে মার্কিনিরা তাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনবে। তাই চরম ও প্রবল ক্ষমতা লোভী হাসিনাকে বিষয়টি আতংকগ্রস্থ ও বিক্ষুদ্ধ করে তুলে।
তাই ২০০৭ হতে ডঃ ইউনুসকে সুদখোর, রক্তচোষা সহ ইত্যাদি নোংরা কথা বলতে থাকে। অথচ নিজে প্রথমবার ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ক্ষমতায় এমনকি ২০০১-০৬ বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবেও ডঃ ইউনুস নিয়ে টু শব্দটিও করেনি হাসিনা। কিন্তু ক্ষমতায় এসে দিল্লী হতে গ্রীণ সিগনাল পেয়েই ডঃ ইউনুসকে এমডি পদ হতে সরিয়ে দেন। এমনকি উচ্চ আদালতও প্রভাব মূক্ত ছিল না তাই ইউনুস সাহেব ন্যায়বিচার হতে বঞ্চিত হন। বিষয়টি আসলে হাসিনার ব্যাক্তিগত হিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণতার সাথে সম্পর্কিত।
এখানে সিংহভাগ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের বিন্দুমাত্রও সম্পর্ক নেই। স্রেফ হাসিনার ইগোগত সমস্যায় আজকে মার্কিনিদের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে। আমাদের গার্মেন্টেসের প্রায় ৬০% এবং মোট রপ্তানির ৪০% যুক্তরাষ্ট্রে যায়। এখন এই সমস্ত রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে তো কথাই নেই এমনকি হ্রাস পেলেও আমাদের উপর বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতই হবে। এমনিতেই ইউরোপে মন্দা তার উপর মার্কিন মুল্লুকে এই রপ্তানী কমে গেলে তার ধকল বাংলাদেশের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয়।
মুজিব কন্যা বলেই হাসিনা এমন জমিদারী দেখায় যে বাংলাদেশ চরম ক্ষতিগ্রস্থ হলেও তার কিছুই যায় আসে না। বস্তুত ড্যান মজীনা সরাসরি গার্মেন্টেসের ব্যাপারে যে আশংকার কথা বললেন তা মোটেও ঠাট্টার বিষয় নয়। এখন দেখা যাক মুহিত মিয়া এটাকে রাবিশ বলতে পারেন কিনা!
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।