(ঘটনা মাওলানা তারেক জমিল সাহেবের হৃদয় ছোয়া কুদরতের কাহিনি বই থেকে সরসরি উদ্ধৃত করা হলো। )
দুই বছর পূর্বে আমি আমেরিকায় গিয়েছিলাম। ভারতের হায়দ্রাবাদের আমির উদ্দিন আমার সঙ্গে ছিলেন। তিনি গাশতে গেলেন। সেখানে একজন আরব মুসলমানের একটি ক্লাবে শরাব বিক্রি হত।
আমির উদ্দিন সেই ক্লাবে দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার জন্য প্রবেশ করেন। ক্লাবের লোকেরা ছিল শরাবের নেশায় বিভোর। ক্লাবে একটি নগ্ন মেয়ে নাচছিল আর তার পাশে এক যুবক ড্রাম বাজাচ্ছিল। আমির উদ্দি সবাইকে একত্রিত করে যখন দাওয়াত দিছ্ছিলেন তখন মেয়েটি পেছনে দাড়িয়ে সে সব কথা শুনছিল। কিছুক্ষণ শোনার পর মেয়েটি বলল, যেসব কথা ওনারে বোঝাচ্ছেন, সেসব কথা আমাকে আরেকটু বুঝিয়ে বলুন।
যা বলেছেন এতক্ষণ আমি কিছু বুঝতে পেরেছি। আমির উদ্দিন এবং তার গাশতের সঙ্গীরা মাথা নিচু করে মেয়েটিরদিকে না তাকিয়ে তাকে কথাগুলো ভালভাবে বুঝালেন।
সব কথা শুনার পর মেয়েটি বলল, আপনারা আমাকে ইসলামের দীক্ষা দিন আমি মুসলমান হতে চাই। যে যুবক ড্রাম বাজাচ্ছিল সে ছিল যুবতীর স্বামী। সে ও ইসলাম গ্রহণ করলো স্বামী-স্ত্রী মুসলমান হওয়ার পর আমির উদ্দিন মেয়েটিকে বললেন মা তুমি পোষাক পরিধান করে এসো।
জামায়াত তিন চারদিন সেখানে অবস্থান করেছিল। মেয়েটি আর তার স্বামীকে বলা হলো তোমরা এসে বয়ান শুনবে। তারা এলো এবং শুনলো। আমির উদ্দিন বিদায় নেয়ার সময় মেয়েটি এবং তার স্বামীকে মোবাইল নস্বর দিয়ে এলো এবং প্রয়োজনে টেলিফোন করতে বললো ।
দুই মাস পর একদিন মেয়েটি আমির উদ্দিনকে মোবাইল করে বলল, কর্ণেল সাহেব আপনি কি আমাকে চিনতে পারছেন।
আমি আমেরিকান ক্লাবের সেই নর্তকি। আপনার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমার জীবনে পরিবর্তন এনে দিয়েছেণ।
যে সময় আপনারা আমাদের ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন। সে সময় এবং তার আগে আমি এবং আমার স্বামী ক্লাবে প্রতি রাতে পাচশত ডলার উপার্জন করে। আমেরিকার দৈনিক পাচশত ডলার উপার্জন বাদ দিয়ে চল্লিশ ডলার উপার্জন করা আত্নহত্যার শামিল।
আমরা নিজেদের ঘর বিক্রি করেছি। গাড়ী বিক্রি করেছি। বর্তমানে ছোট একটি ফ্লাটে বসবাস করছি। আজ এক জায়গায় যাওয়ার সময় আমি বাসে রড ধরেছিলাম। হঠাৎ ব্রেক করায় আমার জামার বাহুর একাংশ খুলে যায়।
আমার বাহুর একাংশ খুলে যাওয়াতে আমি দোযখের আগুনে জ্বলবো না তো? একথা বলে মেয়েটি মোবাইল ফোনে কাঁদতে লাগলো।
কিছুদিন আগে যে মেয়েটি নগ্ন হয়ে স্টেজে নাচতো তার মধ্যে কি রকম বিস্ময়কর পরিবর্তন সূচিত হলো। একজন পাপাসক্ত নারী পরিবেশের প্রভাবে তাকওয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল ।
৯৯জন হত্যকারী এক ব্যক্তির নিকট জানতে চায় তার গুনাহ ক্ষমা হবে কিনা? এবং কি করলে ক্ষমা হবে জানতে চাইলে লোকটি বলে তুমি যে পাপ করেছো তার ক্ষমা নাই। খুনি ব্যক্তি তাকে হত্যা করে শতক পুরা করে ।
পরে জনৈক অলেমের কাছে গিয়ে তওবার ইচ্ছা ব্যক্ত করলো। সেই আলেম বলল হ্যা তুমি তওবা করতে পার। আল্লাহ তোমার তওবা কবুল করবেন তবে এ ই জায়গা ছেড়ে পূণ্যবান লোকদের সংস্পর্শে দূরে কোথাও চলে যাও।
শতখুনের খুনী খাটি তওবার নিয়তে ঘর থেকে বের হলো । আল্লাহর ক্ষমা পওয়ার আশায সে ই ঘোরতর পাপী তওবা করা উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিল।
সামান্য কিছু পথ অতিক্রম করার পর। পথে তার মৃত্যু হলো। এ ই ঘটনাকে আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতকাল পর্যন্ত দৃষ্টান্ত করতে চাইলেন। দুজন ফেরেশতা এলো একজন বেহেশতের,একজন দোযখের। বেহেশতের ফেরেশতা দাবী করলো এ ই ব্যক্তির রূহ আমি নিয়ে যাব।
দোযখের ফেরেশতা দাবী করলো এ ই রূহ আমি নিয়ে যাব্ । বেহেশতের ফেরেশতা দাবী করলো সে তওবা করেছে্ দোযখের ফেরেশতা বলল তার তওবা পূর্ণ হয়নি। এ বিবাদ নিরসনের জন্য আল্লাহ তৃতীয় এক ফেরেশতা পাঠোলেন। সে ই ফেরেশতা বিবাদমান দুই ফেরেশতারকে মৃত ব্যক্তির বাড়ির দূরত্ব আর তওবার জায়গার দূরত্ব মাপতে বলল। দেখা গেল ঘরের চেয়ে যেখানে তওবা করার উদ্ধেশ্যে যাচ্ছিল সে ই জায়গার দূরত্ব বেশি।
আসলে আল্লাহর নির্দেশে মারা যাওয়ার জায়গা থেকে ঘরের পথকে প্রসারিত ও তওবার স্থানকে সংকুচিত হওয়ার নির্দেশ দেন। এর ফলে সে ই ব্যক্তির তওবা করতে যাওয়ার পথের দূরত্ব বেড়ে গেল। আর আল্লাহ তায়ালা এর উছিলায়তার জান্নাতের ফায়সালা করেন।
ঘটনা থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় । অনেক বড় পাপীও ক্ষমা পেতে পারেন ।
আল্লাহর রহমতের নিরাশ হওয়া অনুচিত। তিনি রহমানুর রাহীম। ক্ষমা হবে না ভেবে পাপে লিপ্ত থাকা নির্বুদ্ধিতার শামিল। ক্ষমায় মুক্তি মিলতে পারে।
হযরত মুহাম্মদ সঃ দৈনিক ৭০ বারে বেশি তওবা করতেন।
অথচ তিনি ছিলেন নিষ্পাপ। শেষ রাতে আল্লাহ তায়ালা চতুর্থ আসমানে অবতরণ করে আহবান করতে থাকেন আছে কেউ তওবাকারী তার তওবা কবুল করা হবে। আছে কেউ দোয়া কারী তার দোয়া কবুল করা হবে। আছে কে উ ক্ষমা প্রার্থী তাকে ক্ষমা করা হবে। আছে কেউ সাহায্য প্রার্থী তাকে সাহায্য করা হবে।
এমন মহান দিনে শেষ রাতে তাই নামায পড়ে দোয়া করে সৌভাগ্যবান হওয়া আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব। সবাইকে শাবানের ১৫ তারিখের শুভদিনের শুভেচ্ছা । ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।