আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কুসিক নির্বাচন নিয়ে আড়ালে খেলছে বিএনপি

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের সময় যতো এগিয়ে আসছে ততোই স্পষ্ট হচ্ছে এই নির্বাচন নিয়ে রাজনীতির ‘দাবা খেলা’। ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতি বাতিল না করা এবং সেনা মোতায়েন না করার অজুহাতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি আপাতদৃষ্টিতে বর্জন করেছে এই নির্বাচন। তবে নতুন রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছেন কেউ কেউ। স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, কুসিক নির্বাচনে সাক্কুকে সামনে রেখে রাজনীতি করতে চাইছে বিএনপি। অন্যদিকে সাক্কুর ঘনিষ্ঠদের দাবি, নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে দলীয় স্বার্থের বলি তৈমুর আলম খন্দকার হতে চাননি মনিরুল হক সাক্কু।

আর এ জন্যই দল থেকে অব্যাহতি নিয়ে নবগঠিত কুমিল্লা সিটির মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আফজাল খান ও নাগরিক কমিটি সমর্থিত প্রার্থী বিএনপি থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত মনিরুল হক সাক্কুর জন্য প্রেস্টিজ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে কুসিক নির্বাচন। মনিরুল হক সাক্কুকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেয়া হলেও এ নির্বাচনে জয়-পরাজয় প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের জন্য এসিড টেস্ট বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও সাক্কুর প্রধান ভোট ব্যাংক কিন্তু বিএনপির সমর্থকরাই। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে সরকারি দল জিতলে কারচুপির অভিযোগ তুলে এ নিয়ে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করবে বিরোধী দল।

আর পরাজিত হলে সরকারের জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকার গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এটি প্রমাণের জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে তারা। যদিও সাক্কু দলের সমর্থিত প্রার্থী নন বলে ইতোমধ্যে বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা প্রকাশ্য জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার বলেছেন, সাক্কু আমাদের প্রার্থী নয়, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করায় দল থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ইভিএম পদ্ধতি বাতিল ও সেনা মোতায়েন না করায় বিএনপি কুমিল্লা নির্বাচন বর্জন করেছে।

সেখানে সাক্কু আমাদের প্রার্থী হতে পারে না। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করায় দল তাকে অব্যাহতি দিয়েছে। বিএনপির কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ সভাপতি রাবেয়া চৌধুরী বলেন, দল নির্বাচন বর্জন করেছে, তাই কুমিল্লা নির্বাচনে আমাদের কোনো প্রার্থী নেই। আমরা এখন ব্যস্ত রোডমার্চ সফল করা নিয়ে। একই কথা বললেন জেলা দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিন।

দল নির্বাচন বর্জন করায় ভোট না দেয়ার কথাও বলেন তিনি। এদিকে দ্বিধাবিভক্ত কুমিল্লা বিএনপির এক অংশের দাবি, বিএনপির আগামী দিনের রাজনৈতিক আন্দোলনের একটি হাতিয়ার হবে কুসিক নির্বাচন। বিএনপি প্রকাশ্যে সমর্থন প্রত্যাহার করলেও নেপথ্যে সাক্কুই তাদের রাজনৈতিক হাতিয়ার। নির্বাচনের পরই সাক্কু আবার দলে ফিরে যাবেন। এ বিষয়ে মনিরুল হক সাক্কু ভোরের কাগজকে বলেন, মেয়র পদে বিজয়ী হয়ে আমার নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার দোয়া নেবো।

তবে ইভিএমের মাধ্যমে ফলাফল পাল্টে দেয়ার আশঙ্কা করে সাক্কু বলেন, তার পক্ষে গণজোয়ার দেখে ‘ভীতসন্ত্রস্ত সরকার’ ইভিএমের মাধ্যমে কারচুপি করে ফলাফল পাল্টে দিতে চাচ্ছে। দলে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, যদি দল মনে করে দলের জন্য আমাকে প্রয়োজন, তবে সেক্ষেত্রে আমি দলে ফিরে যাবো। এদিকে, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী আচরণ ভঙ্গ করেই স্থানীয় নির্বাচনে সমর্থন দিচ্ছে অভিযোগ করে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সাক্কুর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন প্রত্যাহার বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে। তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ বা আচরণ বিধি লঙ্ঘিত না হলে এটি কোনো সমস্যা নয়। প্রসঙ্গত, গত ১৪ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরে দাঁড়ান সাক্কু।

ওই দিনই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়া পল্টনে পাঠানো এক পদত্যাগপত্রে সাক্কু নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি চান। Click This Link ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।