পঁচা মানুষ
খোন্দকার কাওছার হোসেন : গৃহ বিবাদে পুড়ছে বিএনপি। দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত এ গৃহ বিবাদ চলছে। এই বিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেও। দ্রুতই তা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন দলের নিবেদিত প্রাণ অনেক নেতাকর্মীরা। গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়।
এর জেরে গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কার্যক্রম স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
দলের স্থায়ী কমিটি, নির্বাহী কমিটি, মহানগর ও জেলা কমিটির নেতারা দলীয় বিবাদে জড়িয়ে পড়ায় তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। এ অবস্থা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এ কারণে সরকারের নানা ব্যর্থতাকে পুঁজি করেও সরকারবিরোধী জোরালো কোনো আন্দোলন তৈরি করছে পারছে না দলটি। এ অভিযোগ দল, জোট ও সমমনা দলের নেতাকর্মীদেরও।
সরকারবিরোধী নানা রাজনৈতিক কর্মসূচি চালালেও সরকারের পতনের লক্ষ্যে বিএনপি কঠোর কোনো কর্মসূচিতে যেতে পারছে না। দলের হাইকমান্ডসহ সিনিয়র নেতারা এখনই সরকার পতনের লক্ষ্যে হরতালসহ লাগাতার কর্মসূচির বাস্তবায়ন করতে চাইলেও তা পারছে না। দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাদের বিবাদের কারণে কোনো কর্মসূচিতেই সাফল্য পাচ্ছে না দলটি এমন
অভিযোগ তৃণমূলের।
সরকারের প্রায় তিন বছরের মেয়াদে বিএনপি বিভিন্ন ইস্যুতে এ পর্যন্ত মাত্র ৯টি হরতাল দিয়েছে। কিন্তু তাদের কোনো হরতালই সফল হয়নি।
সর্বশেষ গত ৪ ডিসেম্বর ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভক্তির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগরীতে হরতালের ঘোষণা দিলেও খোদ কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনের সামনের রাস্তায় অবাধে যানবাহন চলে ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন নেতাকে দলীয় কার্যালয়ের প্রবেশমুখে পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যে চেয়ার পেতে অসহায়ভাবে বসে থাকতে দেখা গেছে। এ রাস্তায় কোনো মিছিল বা পিকেটিং করার চেষ্টা পর্যন্ত তারা করেননি। অন্যদিকে পুরোনো ঢাকায় মিছিল ও পিকেটিং করতে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে সাবেক মেয়র ও মহানগরী আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকাকে। সাবেক মেয়র মির্জা আব্বাসের কোনো নেতাকর্মীকে এ হরতালের মাঠে দেখা যায়নি।
দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এক নেতা মাঠে থাকলে অন্য নেতা কোনো কর্মসূচিতে অংশ না নিয়ে ঘরে বসে থাকেন । এ অবস্থা দলের কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূলে বিরাজ করছে।
প্রকাশ্য গ্রুপিং ও কোন্দলের সমাধানে একাধিকবার উদ্যোগ নেয়ার পরেও এর সমাধান করা সম্ভব হয়নি। শুধু অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই নয়, কর্মসূচি পালনে দেশের বিভিন্ন স্থানে দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
এ অবস্থায় সংগঠন এলোমেলো রেখে সরকারবিরোধী আন্দোলনের বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে তা বুমেরাং হতে পারে বলে দলের সিনিয়র নেতারা মনে করেন।
আর তাই সরকারবিরোধী আন্দোলনে কঠোর কর্মসূচি আরো পেছাতে পারে বলে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে আভাস পাওয়া গেছে।
আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত ঢাকা মহানগর বিএনপিতে দ্বন্দ্ব থাকায় এর প্রভাব পড়েছে সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেও। সর্বত্রই এখন স্পষ্ট দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে দলটি। ঢাকা মহানগর বিএনপিতে দলের স্থায়ী কমিটি সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সাবেক এমপি সালাউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বর্তমান মহানগর কমিটির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা ও সদস্য সচিব আব্দুস সালামের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের সঙ্গে পঞ্চগড় জেলা কমিটির সভাপতি মোজাহার সরকারের দ্বন্দ্ব রয়েছে।
রংপুরে জেলা কমিটির আহ্বায়ক মোজাফফরের সঙ্গে যুগ্ম-আহ্বায়ক ও জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি রহিমউদ্দিন ভরসার স্ত্রী ও জেলার যুগ্ম-আহ্বায়ক মমতাজ বেগমের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছে অনেকদিন ধরে।
পাবনায় চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাসের সমর্থনপুষ্ট জেলা কমিটির আহ্বায়ক মেজর (অব.) কে এস ফিরোজের সঙ্গে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমানে পাবনা সদর পৌর মেয়র কামরুল ইসলাম মিন্টুর মধ্যে কোন্দল বিরাজমান। গত ২৬ নভেম্বর খালেদা জিয়া খুলনা রোডমার্চের দিনে পাবনা থেকে কুষ্টিয়ার পথে পথে হাজার হাজার মিন্টু সমর্থক শিমুল বিশ্বাসের বিপক্ষে মিছিল করে। তাদের বুকে ও হাতের প্লেকার্ডে শিমুল বিশ্বাস হায়না, পাবনা বিএনপি চায়না। দালাল শিমুল হঠাও, পাবনা বিএনপি বাঁচাও এমন নানান সেøাগান দেখতে পাওয়া গেছে।
গাজীপুরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ ও চেয়ারপারসনে উপদেষ্টা অধ্যাপক এম এ মান্নানের সঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন ও কেন্দ্রীয় নেতা হাসানউদ্দিন সরকারের বনিবনা নেই।
ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি আবদুল মান্নানের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানের দ্বন্দ্ব গ্রুপিং প্রকাশ্য। এখানে বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা গত ২০ নভেম্বর নিজেকে সভাপতি দাবি করলেও ২২ নভেম্বর তার উপস্থিতিতেই খালেদা জিয়ার সামনে ঢাকা জেলা সভাপতি হিসেবে ধামরাইয়ের ছাত্র গণজমায়েতে বক্তৃতা করেন আবদুল মান্নান।
মানিকগঞ্জে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ খাঁন মুন্নুর মেয়ে আফরোজা খানম রিতা, মইনুল ইসলাম খান শান্ত, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা তোজাম্মেল হক তোজা ও প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে আখতার হামিদ ডাবলুর নেতৃত্বে পৃথক গ্রুপিংয়ে দল জর্জরিত।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকারের সঙ্গে সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন ও আবুল কালাম আজাদের, কক্সবাজারে দলের যুগ্ম-মহাসচিব সালাউদ্দিন ও জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহানের সঙ্গে সদরের দলীয় এমপি লুৎফর রহমান কাজলের, টাঙ্গাইলে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে জেলার আহ্বায়ক আহমেদ আজম খানের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে দীর্ঘদিন ধরে।
নেত্রকোনায় জেলা কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক রফিক হেলালীর সঙ্গে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ডা. মোহাম্মদ আলী ও আবু তাহেরের মতবিরোধ লেগেই আছে। কিশোরগঞ্জের অবস্থা আরো খারাপ। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক ও জেলা কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমানের সঙ্গে জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী পরস্পর পরস্পরের প্রতিপক্ষ এখানে ওসমান ফারুকের গাড়িতে হামলার ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে।
জামালপুরে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ কাইয়ুম ও জেলার সভাপতি ওয়ারেছ মামুন, সাধারণ সম্পাদক শামীম তালুকদারের সঙ্গে সাবেক এমপি রাশিদুজ্জামান মিল্লাত ও বর্তমান মহিলা এমপি নিলুফার চৌধুরী মনির মধ্যেও পারস্পরিক সম্পর্ক সাপে নেউলে।
ময়মনসিংহের (উত্তর) সভাপতি আফজাল এইচ খানের সঙ্গে সাবেক সংসদ সদস্য খুররম চৌধুরী ও আমানউল্লাহর সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না।
খুলনায় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নূরুল ইসলাম দাদু, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর ও সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগর লবীর সঙ্গে জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক এম এ মাজেদ ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোর্তুজার মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগেই আছে। একই অবস্থা চুয়াডাঙ্গায় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুর সঙ্গে ওহেদুর বিশ্বাসের।
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবর রহমান সরোয়ার এমপির সঙ্গে বরিশাল দক্ষিন জেলা বিএনপির সভাপতি আহসান হাবিব কামালের সম্পর্ক সাপে নেউলে। এখানে উভয় গ্রুপের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জেলা সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহানের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানের বিরোধ তুঙ্গে।
তাদের বিরোধে যুবদলসহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের কমিটি পাল্টা কমিটি গঠন হয়েছে। এমনকি তা মামলায় পর্যন্ত গড়িয়েছে। এখানে সাবেক এমপি জহির উদ্দিন স্বপনের নেতৃত্বে বিএনপির একটি গ্রুপ নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে।
পটুয়াখালীতে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারপারসন এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতা এ বি এম মনির হোসেন ও জেলা কমিটির সাবেক নেতা কুট্টি ও পিনুর মধ্যে বিরোধ অনেকটা স্থায়ী রূপ পেয়েছে।
কুমিল্লায় জেলা কমিটিতে হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিনের সঙ্গে সাক্কুর মধ্যে দ্বন্দ্ব।
মুন্সীগঞ্জে স্থায়ী কমিটির সদস্য শামসুল ইসলাম ও জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ও কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান সিনহার, ফরিদপুরে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের সঙ্গে জেলা কমিটির সভাপতি শাহজাদা মিয়ার, রাজবাড়ীতে জেলা কমিটির সভাপতি আলী নেওয়াজ মোহাম্মদ খৈয়ামের সঙ্গে জেলা কমিটির সাবেক নেতা আতাউর রহমান আতা ও এডভোকেট আব্দুল খালেকের দ্বন্দ্ব-কোন্দলের কথা সবার জানা।
সিলেট মহানগরে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর সঙ্গে আরিফুল হক চৌধুরী ও ডা. শাহরিয়ারের, মৌলভীবাজারে জেলা কমিটির সভাপতি প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ছেলে এম নাসের রহমানের সঙ্গে সাবেক এমপি খালেদা রব্বানীর এবং সুনামগঞ্জে জেলা কমিটির সভাপতি ফজলুল হক আসপিয়ার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক কলিমউদ্দিন মিলন গ্রুপিংয়ে বিভক্ত।
চট্টগ্রামে মহানগর কমিটির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের, রাজশাহীতে কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও মহানগরের সভাপতি মিজানুর রহমান মিনুর সঙ্গে জেলা কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির বিশেষ সম্পাদক নাদিম মোস্তফার, মাগুরায় জেলা কমিটির সভাপতি কবির মুরাদের সঙ্গে সাবেক এমপি কাজী কামালের এবং জয়পুরহাটে জেলা সভাপতি মোজাহার আলী প্রধানের সঙ্গে বতর্মান দলীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফার দ্বন্দ্ব চলছেই।
নড়াইলে জেলা কমিটির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের সঙ্গে যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল কাদের শিকদারের, নওগাঁয় জেলা কমিটির সভাপতি সামুজ্জোহার সঙ্গে সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকী, সাবেক এমপি শামসুল আলম প্রামাণিক ও ডা. সালেক চৌধুরীর গ্রুপিং চলছে।
বিএনপির পাশাপাশি এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোতেও বিরাজ করছে একাধিক গ্রুপিং, কোন্দল-দ্বন্দ্ব।
অসুস্থ, নিষ্ক্রিয় ও বয়োবৃদ্ধ নেতাদের দিয়ে শ্রমিকদলের কমিটি গঠনের অভিযোগে দলের অনেক নেতাকর্মীরা হতাশ ও নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছেন। এছাড়া সক্রিয় ও মেধাবী অনেক নেতাকে কমিটিতে না রাখায় তারা যে কোনো সময় বিদ্রোহ করতে পারেন বলে জানা গেছে।
জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জাসাস) সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কণ্ঠশিল্পী মনির খানের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে জাসাস এখন স্পষ্টই দ্বিধা বিভক্ত। এক গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন মালেক অন্য গ্রুপে রয়েছেন মনির খান। এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সংগঠনকে নিষ্ক্রিয় করার অভিযোগ করছেন।
এমনকি সেইভ জাসাস নামে অচিরেই আন্দোলনে নামছে একটি গ্রুপ। যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিরোধ প্রকাশ্য। এ দুদলের নেতাদের প্রটোকল নিয়ে বিরোধে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এমন অবস্থা দলের প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে।
বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নেতৃত্বের এ দ্বন্দ্বের বহু কারণ রয়েছে।
দলে নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি বজায় রাখা, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, বিগত দিনের আহ্বায়ক কমিটি গঠন প্রক্রিয়া, তৃণমূলে কমিটি গঠন নিয়ে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও এসবের সুষ্ঠু তদন্ত ও সুরাহা না হওয়া।
তৃণমুলের এসব নেতারা আরো জানান, বিভিন্ন জেলা বিএনপির সভাপতি বা আহ্বায়ক অথবা সাধারণ সম্পাদক ও প্রথম যুগ্ম-আহ্বায়করা ঢাকায় অবস্থান করেন। কমিটিও করে নিয়ে যান ঢাকায় বসে। সে কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের দূরত্ব বেড়েছে। কেন্দ্র ঘোষিত কোনো কর্মসূচিও ঠিকভাবে পালিত হয় না তৃণমূলে।
এ ব্যাপারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগমীর বলেন, বিএনপিতে কোনো গ্রুপিং বা উপদলীয় কোন্দল নেই। দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা রয়েছে। বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল।
স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, বিএনপিতে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা রয়েছে। এটাকে কেউ উপদলীয় কোন্দল বা গ্রুপিং হিসেবে বলতে পারেন।
কিন্তু বাস্তবতা হলো বড় দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা না থাকলে দল বিকশিত হয় না। গণতন্ত্রও সত্যিকারের রূপ পায় না।
Click This Link ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।