আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

অতিভারবহনেচ্ছার অত্যাচার

***** নিশ্চয়ই একজন মুসলিম কখনো ফ্যাসাদের মধ্যে জড়িয়ে নিজে ‘মুফসিদুন’-দের তালিকাভুক্ত হতে চাইতে পারে না। যারা ফ্যাসাদে লিপ্ত হতে পছন্দ করে, তারা মুসলিম হিসেবে গণ্য নয়। ‘আমি মুসলিম, আমি মুসলিম,’ বলে বলে চিৎকার চেঁচামেচি করলেই মুসলিম হওয়া যায় না। --...‘ফানছুরনা আলাল ক্বাওমেল মুফসিদুন,..’ প্রার্থনাটি নিজেকে ফ্যাসাদকারীদের থেকে সুরক্ষিত রাখার প্রার্থনা। আত্মরক্ষা করে চলা এবং নিজে শান্তিপূর্ণভাবে সর্বক্ষেত্রে ভালোটার চর্চা (আমল) করে যাওয়াকেই প্রত্যেক মুসলিমের ধর্ম হিসেবেই সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এমনকী, রসুল(দ-কেও ফ্যাসাদিদের বিরুদ্ধে দারোগাগিরি করতে তীব্রভাবে নিষেধ করা হয়েছে। অশান্ত বিশৃঙ্খল পরিবেশ ফ্যাসাদিদের কাম্য। শান্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশ শান্তিকামী-দের কাম্য। একজন ব্যক্তির আচরণের বহিঃপ্রকাশ দেখে, তার আশেপাশের জনেরাই সত্য সাক্ষ্য দিতে পারে, সে মুসলিম না-কি ফ্যাসাদকামী। যেব্যক্তি তার প্রতিবেশীদের সাক্ষ্যে মুসলিম, সে তার বিধাতার কাছেও মুসলিম হিসেবে গণ্য।

কোনো ফ্যাসাদির প্রতি একজন মুসলিমের এতটুকুই কর্তব্য, তার জন্যে মঙ্গল কামনা করা, যেন সে তার ফ্যাসাদকামী স্বভাবটিকে নিজে নিজে দমন করে করে শান্তিকামীদের দলভুক্ত হতে পারে। ফ্যাসাদকামীদের মঙ্গলের জন্যে শান্তিকামীদের প্রার্থনা বিধাতা মঞ্জুর করবে কি-না, সেটা সম্পূর্ণভাবে বিধাতার এক্তিয়ারে। প্রার্থনা করে ধৈর্য ধরে প্রতীক্ষা করা শান্তিকামীদের কর্তব্য, নিশ্চয়ই বিধানদাতা ধৈর্যধারীকে ভালোবাসেন। ফ্যাসাদকারীকে প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে ফ্যাসাদে উৎসাহিত করা, কিম্বা ‘আঘাত’ করে তাকে ‘প্রতিঘাত’ করার সুযোগ করে দেওয়া, কোনো শান্তিকামীর জন্য বৈধ নয়। মুসলিম (শান্তির লক্ষ্যে আত্মসমর্পিত)-দেরকে কঠিন দায়ভারপূর্ণ করা হয়নি।

আত্মরক্ষার জন্যে ‘প্রতিঘাত’ (তার চেয়েও শ্রেয়তর আঘাতের বিনিময়ে ক্ষমা) করার অনুমোদন পেয়েছে শান্তিকামীরা, কিন্তু কখনোই ‘আঘাত’ করার অধিকার দেওয়া হয়নি বিধানে। ‘OFFENSE IS THE BEST DEFENSE’- নীতিটা ফ্যাসাদিরা মেনে চলে। নিশ্চয়ই, এই আদর্শ নিয়ে শান্তিকামীরা চলে না। যেকোনো জাতধর্মের শান্তিকামীরা জানে, --an offense always is an offense, and a defense always is a defense. NO OFFENSE CAN BE A DEFENSE. যেকোনো আচার বা আচরণ স্থান-কাল-পাত্র সাপেক্ষেই ভাল বা মন্দ হিসেবে বিবেচিত। অলসতার প্রবণতার মতোই ভারবহনের প্রবণতাও একটি স্বাভাবিক জৈব প্রবণতা।

আচরণে যেকোনো একটির প্রাবল্য প্রকাশ পেলে, ভারসাম্যহীন কোনো বিশেষ একটি আচরণের অতিরিক্তরূপে প্রকাশটাই অতি-আচার বা অত্যাচার। সকল সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিধানে অত্যাচারী (জুলুমকারী) বা জালিম হওয়াকে শান্তিপূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে। ভালো বা মন্দ, যেকোনো ধরণের অত্যাচারকেই ভদ্র ভাষাতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। নিশ্চয়ই অত্যাচারীরা অস্থির-অশান্ত-বিশ্রামহীন, --নিজেদের যন্ত্রণার জ্বালা নিয়ে রাত কাটায় তারা। শান্তিকামীরা শান্তিতেই থাকে।

দিনের নিজের গতিতেই পার হয় দিন। রঙ্গপুর : ১৯/১১/২০১১ করণিক : আখতার ২৩৯ ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.