আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নিভৃতের স্বপ্নচারিণী…

আমি মো. উজ্জল পারভেজ, নতুন ব্লগার হিসেবে এই ব্লগে একটা অ্যাকাউন্ট খুল্লাম... …আজ এই বেলা এখানে হয়তো বসে থাকতে অস্থির লাগছে। মলিন মনে তাকিয়ে রয়েছি সুদূরপানে। তবু যেন মনে হয় স্বর্গের দুয়ারে বসে আছি। জানি সে আসবেনা। চিরতরের জন্য না।

তবুও, কি এক অজানা আবেশে আড়ষ্ট হয়ে আছি। জানি না, এর শেষ কোথায়… শেষ বিকেলের ক্লান্ত ছোঁয়ায় তাকে প্রথম দেখা । হেমন্তের শান্ত-স্নিগ্ধ অপরাহ্নে কাশবনের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু হাওয়ার ছোয়া আজও মনে পড়ে। প্রথম দর্শনে সচকিত আমি ভাষা হারিয়ে ফেলি। অপূর্ব অপরূপ।

কল্পনার ক্লিওপেট্রা যেন। সৌন্দর্যের প্রতীক… কী নাম ছিল তাঁর? সেটা না হয় অপ্রকাশ্যই থাক। নাম কী বিশেষ কিছু? কখনও বা। … অপরূপা। প্রথম দর্শনে মনে মনে কল্পনা করে নিলাম তাঁর নাম।

অনিন্দ্য-সুন্দর-দর্শন এই মানসীর নাম এর চেয়ে সুন্দর আর কী-ই বা হতে পারে? সহাস্য মৃদুভাষিণীর বারংবার উপস্থিতি আমার অন্তজগতে আলোড়ন সৃষ্টি করল। মনোজগতের সুনামি বর্হিজগতে প্রকাশ ঘটিয়ে দুরত্বের মাত্রা কমালো বটে, কিন্তু মনোহরিণীর ক্ষণিক অনুপস্থিতি হৃদয়ে চরম অস্থিরতা ঢেউ তুলতে শুরু করল। কেন এ আবেগ? কিসের এ অনুভূতি? তবে কি…. হয়তো… হ্যাঁ তাই.. অন্তরআত্নার এ আবেগীয় অনুভূতি আমার আপন জগতে বিশেষ প্রভাব ফেলতে শুরু করল… নদীর ধারে সাদা কাশফুল। শান্ত নদীর স্খির জলে আকাশের নীল, মিলে-মিশে একাকার। শুভ্র মেঘের ভেলা সেই জলে প্রতিফলিত হয়ে ভেসে চলে যেন।

কাশবন-শালবন যেন মধুমিতা। শান্ত নদীর বুক চিরে ভেসে চলা ডিঙি স্থির জলে যে তরঙ্গ সৃষ্টি করে, তা যেন ভ্রম থেকে বাস্তবে নিয়ে আসে। এহেন প্রাকৃতিক আবহে কত যে আলাপন, অনুভুতির বিনিময়, খুনসুটি। কুল-চালতা-ফুল প্রিয় ছিল তাঁর। রং ছিল নীল।

নীলের কি বিশেষত্ব? উত্তর ছিল- নীলে সাদার পবিত্রভাব ফুটে ওঠে, জলের স্বচ্ছতা বাড়ে, সাদা কাশফুল নীলের পটেই মানায়, মেঘের ভেলা নীলের সাগরেই ভাসে, দুর পাহাড়ে মায়ার হাতছানিও দেয় নীল। আরো কত কিছু- যেন এক নীলউপাখ্যান। অভিমানীও ছিল খানিকটা। এটি আমার কাছে উপভোগ্যই ছিল, কারণ আমি জানতাম রাগ বা অভিমান নারীকে করে আরও মোহনীয় ও আকর্ষণীয়। অভিমানে প্রেম-বন্ধুত্ব-ভালোবাসার সম্পর্কের গাঢ়ত্ব বাড়ে।

রেষাঁরেষির রেশ ধরে যখন নির্জন নদীর তীরে নীল আকাশের দিকে নিষ্ফল তাকিয়ে থাকত ও, আমি তার এই তাকিয়ে দেখা অপলক দৃষ্টিতে অবলোকন করতাম। মনে হত যেন তাকিয়ে রয়েছে মহাকালের পানে, যা কেবলেই আমার চোখে নীল। হয়ত সুদুরপানের সেই নীলই তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। কিংবা রূপকথা হয়ে হারিয়ে যায় সে দুর অজানায়। কবিতা লিখত ও।

প্রকৃতির, মেঘের, বৃষ্টির, নদীর, ফুলের, পাখির… সবকিছুর উপমা থাকত তাতে। মোহিত হতাম তাঁর আবৃত্তি শুনে। মানুষ কত সুন্দর করে সাজিয়ে কথা বলতে পারে, লিখতে পারে, মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে…অবাক হয়ে যেতাম; কীভাবে সম্ভব? নিজের অপারগতার জন্য অসহায় বোধ করতাম… ……………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………… আমাকে আমার মত থাকতে শিখিয়েছে , হয়ত নিজেকে কখনও গুছিয়ে নিতে পারিনি। জীবনের অনেক কিছুই অসম্পূর্ণ থেকে গেছে। অনেক কিছুই পাওয়া হয়নি,তবু অন্তত কিছুটা পেয়েছি; স্বপ্নের মতো।

অন্তর্নিহিত দহন নিরন্তর। চিরচেনা সেই পটে বসে নিরালায়, কী খুঁজি? ফিরে আসা ? নাকি, ফিরে পাওয়া? ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.