আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

পার্সোনায় ঘটে যাওয়া ঘটনায় সুশীল সমাজ ও জাতির আব্বু-আম্মুদের বক্তব্য! (ফান পোস্ট)

Still Alive - অহনো বাঁইচ্চা আচি! পার্সোনায় কি হয়েছিলো সেদিকে আমরা না গিয়ে উক্ত ঘটনার পর সুধীজনেরা কি বলেন সেদিকে যাই। এই ঘটনায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন! একচুয়াল্লি প্রথমে তিনি পার্সোনা জিনিসটা কি সেটা ঠাহর করতে পারেন নাই। তিনি বলেনঃ "এটা নিশ্চই বিরোধী দলের কাজ! বাড়ি আর দুর্নীতিবাজ ছেলে রক্ষা করতে না পেরে বিরোধীদলীয় নেত্রী পাগল হয়ে গেছেন! এখন আমার দেশের সহজ সরল নারী সমাজের সর্বনাশ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। সংগ্রামী ভাইয়েরা আমার, আমি কথা দিচ্ছি- ডিজিটাল্লি এর বিচার করা হবে। আপনারা উত্তেজিত হবেন না।

" অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেনঃ "সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ! পার্সোনায় যে ঘটনা ঘটেছে তার পেছনে সরকারি দলের মদদ আছে। আমি ২৪ সেকেন্ডের মধ্যে সরকারের পদত্যাগ দাবী করছি। এখনি মধ্যবর্তী নির্বাচন দিন, নয়তো মাঠে নামেন; খেলা দেখাই। এই সরকার মুখে নারী উন্নয়নের কথা বলে, নারীদের কি উন্নয়ন হচ্ছে সেটাতো আমরা দেখতেই পাচ্ছি! নারীদের নিয়ে ডিজিটাল ব্যবসায় নেমেছে সরকার। আমরা খুব শিঘ্রই রাজপথে আন্দোলনে নামবো।

" গত শুক্রবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুন। তিনি সাংবাদিকদের বলেনঃ "এটা বিরোধীদলের ষড়যন্ত্র! যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতেই বিরোধীদল এসব করছে। খুব তাড়াতাড়ি অপরাধীদের সনাক্ত করে বিচার করা হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে ছাড় দেয়া হবে না। আরেকটা ব্যাপার আমি বুঝি না, মেয়েদের পার্লারে যাওয়ার কি দরকার? আমার কাছেই তো তারা বিউটি টিপস নিতে পারে! আমি তো আমার রুপের রহস্য দেশের রমণী সমাজকে জানানোর জন্য প্রস্তুত!" এত বড় একটা ঘটনা ঘটবে আর বাণিজ্য মন্ত্রী ফারুক খান বাণী দেবেন না তা কি করে হয়?? আফটার অল বাংলাদেশে ওনার ভক্ত আশেকান তো আর কম নেই।

না, উনি ভক্তদের নিরাশ করেননি। এই ঘটনা নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রী বেশ উদ্বিগ্ন। তিনি বলেনঃ "বিরোধীদল মেয়েদের আলতু ফালতু খরচের পেছনে ভুমিকা রাখছে। মেয়েরা পার্লারে যায় বলেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে! অল্প করে রূপচর্চা করুন। " এ সময় সাইডে থেকে মন্ত্রী মহোদয়ের পিএ চিপা গলায় বলেন- "স্যার, চাইপ্পা যান।

আপনার ভোটারদের মধ্যে কিন্তু মহিলারাও আছে! " এ কথা শুনে বাণিজ্য মন্ত্রী জিব্বায় কামড় দিয়েছেন বলে উপস্থিত সাংবাদিক মহব্বত আলী জানান। তিনি তাৎক্ষনিক চেচিয়ে বলে ওঠেন- "এ ঘটনার পুরোটাই বিরোধী দলের ষড়যন্ত্র! মেয়েরা পার্লারে যেতেই পারে, রূপচর্চা তো আসলে একটি খুব ভালো কাজ। দ্রব্যমূল্য বাড়ার পেছনে বিরোধীদল দায়ী, এর সাথে বিউটি পার্লারের কোন সম্পর্ক নেই। " এই ঘটনায় যোগাযোগ মন্ত্রীকে বেশ উৎফুল্ল মনে হয়েছে। তিনি হাসি হাসি মুখে আহ্লাদে গদগদ হয়ে বলেনঃ "আসলে আমি তো রাস্তা ঘাটকে উন্নয়নের মাইনকা চিপায় ফেলে দিয়েছি! আর তাই দেশের উদীয়মান তরুণী সমাজ সাবলীলভাবে পার্লারে যেতে পারছে।

আর গোপন ক্যামেরার কথা বলছেন? দেশকে ডিজিটাল করতে হলে সব জায়গায় ক্যমেরা লাগানো উচিৎ। নির্বাচন তো এসেই গেল, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে দেশের রাস্তাঘাটে আমি ক্যামেরা লাগাবো বলে কথা দিচ্ছি। তখন সহজেই বোঝা যাবে যে সড়ক দূর্ঘটনার পেছনে আসলে চালকদের কোন দোষ নেই। পথচারীরাই এর জন্য দায়ী। " জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জনাব লে, জে, হু, মু, এরশাদকে এই ব্যাপারে মন্তব্য করতে বললে তিনি প্রশ্নকর্তা সাংবাদিককে বলেনঃ "আসলেই কি ঘটনা সত্যি? ভিডিওগুলো কোথায়? আমি গুগলে কয়েকবার সার্চ করেও পেলাম না ভিডিওগুলো পাওয়া গেলে আমাকে জানাবেন " বিঃদ্রঃ লেখাটাকে সিরিয়াসলি নিয়া কেউ রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন না বলে আশা করি।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।