আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

‘কোটাপদ্ধতি যেন রাজনীতির দাবার ঘুঁটি না হয়’

সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতিকে রাজনীতির দাবার ঘুঁটি না করে প্রজ্ঞার সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলেছেন বিশিষ্টজনেরা। তাঁরা বলেছেন, কোটাপদ্ধতি একেবারে বাতিল নয়, তবে সংস্কার করা জরুরি। প্রথম আলো ডটকমের কাছে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তাঁরা নিজেদের মতামত জানান।
বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে সম্প্রতি আন্দোলন শুরু হলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রধান দুই দলও এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছে।

প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের সমর্থন দেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া।
প্রধান দুই নেত্রীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, বিসিএসের কোটাকে রাজনীতির দাবার ঘুঁটি করা উচিত হবে না। এ নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যও কাম্য নয়। প্রজ্ঞার আলোকে জাতীয় স্বার্থ হিসেবে সব দলের উচিত বিষয়টি বিবেচনা করা।

এ নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, কোটাপদ্ধতি নিয়ে একটি বিতর্ক হওয়া উচিত। তাঁর মতে, এখন যে পরিমাণ কোটা আছে, তা কমিয়ে ১৫ শতাংশে নিয়ে আসা উচিত।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলের কথা স্মরণ করিয়ে মনজুরুল ইসলাম বলেন, এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে আগামী দিনে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে প্রশাসনে শান্তি বিরাজ করবে। বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সুযোগে হয়তো বিএনপির সহযোগী জামায়াত-হেফাজত মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুরোপুরি বাতিল করার চেষ্টা করবে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাও সঠিক নয় বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। কোটা রাখতে চাইলেও থাকা উচিত, না রাখতে চাইলে সেটিও থাকা উচিত।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মামুন আহমেদ বলেছেন, সরকারি কর্মকমিশনের ওপর কারও প্রত্যক্ষ প্রভাব থাকার কথা নয়।

ভিডিও ফুটেজ দেখে আন্দোলনকারীদের শনাক্ত করে তাদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হবে বলে যে বক্তব্য এসেছে, তা কমিশনের ভূমিকাকে গৌণ করে দেয়। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কোটাপ্রথা নিয়ে অনেক দিন ধরে অসন্তোষ ছিল। বাংলাদেশের বাস্তবতায় সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা তখনই সহিংস হয়ে উঠেছে, যখন ছাত্রলীগ তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তিনি যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তাঁর এমনিতেই চাকরি হবে না।

ছাত্রছাত্রীদের এই আন্দোলনকে সংবেদনশীলভাবে দেখার সুযোগ আছে। বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, মেধার ভিত্তিতে চাকরি হবে। চাকরি দেওয়ার এখতিয়ার সরকারি কর্মকমিশনের।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ৮ তারিখে ৩৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এবার প্রিলিমিনারিতেই প্রয়োগ করা হয় কোটাপদ্ধতি।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করেন পরীক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ। তাদের আন্দোলনের মুখে ফল পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেয় পিএসসি। কিন্তু তার পরও পরীক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। তাঁরা কোটাপদ্ধতি পুরোপুরি বাতিল করার দাবিতে আন্দোলন ও ভাঙচুর করেন।
এ আন্দোলনের পর গত ১৮ তারিখ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোটাপদ্ধতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামে যারা ভাঙচুর, নৈরাজ্য ও স্থাপনা ধ্বংস করেছে, তাদের পিএসসির অধীনে কোনো চাকরি হবে না।

ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। ছবি দেখে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। ’ তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে যারা খাটো করে দেখতে চায়, তাদের চাকরি পাওয়ার অধিকার নেই।
শুরুতে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ বিষয়ে গতকাল সোমবার প্রথমবারের মতো মুখ খোলেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, আগামী দিনে মেধার ভিত্তিতে চাকরি হবে। এ সরকারের আমলে বাদ গেলেও ভবিষ্যতে সবার চাকরি হবে। তবে কোটাপদ্ধতি বাতিল করা হবে কি না, তা স্পষ্ট করেননি খালেদা জিয়া। ।

সোর্স: http://www.prothom-alo.com     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.