আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ঢাকাশহর বিষয়ক ওয়েব পোর্টাল

বন্ধুরা, ঢাকাশহর.কম-এর জন্য ঢাকা বিষয়ক লেখা পাঠাতে পারেন। নতুন বা পুরানো। অবশ্যই পূর্ন নাম ও যোগাযোগের ঠিকানা বা মেইল নম্বর দিতে ভুল করবেন না। ইতিহাস বিষয়ক লেখা হলে সূত্র উল্লেখ করবেন। ধন্যবাদ ঢাকাশহর.কম নগর সভ্যতার ইতিহাসে ঢাকা অত্যন্ত সমৃদ্ধ অতীতের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।

প্রাচীন জনপদের যুগ থেকে শুরু করে সুলতানী শাসনামলের শাহ-ই-বাঙ্গালায়ও ঢাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নগরী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ১৬১০ মতান্তরে ১৬০৮ সালে বাংলার রাজধানী হওয়ার গৌরব অর্জন, বৃটিশ শাসনাধীনে ১৯০৫ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী এবং সর্বশেষে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার গৌরব অক্ষুন্ন রেখেছে। সুপ্রাচীন এই ঢাকা নগরী তার নামের সঙ্গে মিল রেখেই যেন তার ইতিহাস ঢেকে রেখেছে লোকচক্ষুর আড়ালে। এই নগরীর বাসিন্দারা এতো-শত বছর পরও উদ্ধার করতে পারেনি সেই সব ইতিহাসের ছিটে ফোঁটা। তবে অনুসন্ধান চলছে অব্যাহত।

কিন্তু নেই ধারাবাহিকরা। এই সমন্ব^য়ের অভাবে উন্মোচিত হওয়ার বদলে ঢাকার ইতিহাস থেকে যাচ্ছে আড়ালে। এ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য উপাত্ত্যগুলো একত্রিত করা সম্ভব হয়নি বলেও নতুন করে যারা ঢাকাকে আবিস্কার করতে চায়... জানতে চায়... বুঝতে চায়... তাদের কাজটিও হয়ে উঠছে জটিল ও দুর্বোধ্য। প্রায় প্রত্যেককেই শুরু করতে হচ্ছে গোঁড়া থেকে। গবেষক থেকে শুরু করে লেখক বা পাঠককেও ঢাকা শহর সর্ম্পকে জানতে একটি জটিল প্রকৃয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

এতে করে ঢাকার ইতিহাস আটকে গেছে চারশ বছরের গণ্ডিতে। সংখ্যা বাড়ছে না ঢাকা নিয়ে মৌলিক গবেষণার। এজন্য এ যাবত প্রকাশিত কিছু গ্রন্থের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে সকলকে। প্রকৃয়াটি সহজ না হওয়ায় ঢাকা সর্ম্পকে যথেষ্ট আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অনেকের পক্ষেই জানা সম্ভব হচ্ছে না। এতে এই সুপ্রাচীন জনপদ সম্পর্কে এর বাসিন্দাদের মধ্যে জন্মাচ্ছে না ভালোবাসা... মোহ... মায়া...।

ফলে এই শহর দিন দিনই তার যৌলুস হারিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ছে। মরে যাচ্ছে শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা বুড়িগঙ্গা। অনেক আগেই হারিয়ে গেছে ঢাকার বুক দিয়ে আঁকাবাঁকা বয়ে চলা খালগুলোর বেশিভাগ। বিল-ঝিল-ডোবা-পুকুর দিন দিনই হয়ে যাচ্ছে অতীত। কমতে কমতে গাছের সংখ্যা চলে এসেছে হাতের গণনায়।

শহরে ঘুড়ে বেড়ানো পশু-পাখির সংখ্যাও কমছে দ্রুত। চারদেয়ালে আবদ্ধ শিশুরা হারাচ্ছে শৈশবের কাঙ্খিত সময়গুলো। আধুনিক হয়ে উঠার বাসনায় প্রতিনিয়ত অবহেলিত হচ্ছে এই শহরের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি। প্রকৃতপক্ষে ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে না জানার দরুণ অবহেলিত হচ্ছে শহর ঢাকা। ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখার জন্য এর সুবর্ণ ইতিহাস সকলের দোরগোয়ার পৌঁছে দেয়া জরুরী।

ইতিহাসকে সহজ, সহজলভ্য ও বিনোদন উপযোগী করে সকলের কাছে পৌঁছে দেয়া গেলে মানুষকে সহজেই সচেতন করা সম্ভব। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে যার কাছে যত তথ্য থাকবে সে থাকবে সবচেয়ে এগিয়ে। এই বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রেখে শহর ঢাকাকে ভালবেসে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকাশহর.কম ওয়েভ পোর্টাল। ঢাকাশহর.কম ইন্টারনেটভিত্তিক একটি ডিজিটাল সংগ্রহশালা। ‘ইতিহাসে ঢাকা’ ও ‘সমকালে ঢাকা’ নামে দুই ভাগে বিভক্ত করে ঢাকাশহর.কম তার তথ্য উপাত্য উপস্থাপন করবে।

ইতিহাসে ঢাকা : প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা পর্যন্ত সময়ের সকল ইতিহাস বিষয়ভিত্তিক ভাবে উপস্থাপিত হবে এই ভাগে। এর বিভাগগুলো : ঢাকা, পরিবেশ, প্রতœতাত্ত্বিক উপাদান, শাসনকাল, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজ, অর্থনীতি, শিল্প ও সংস্কৃতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন, খাবার, লাইফ স্টাইল, কেনাকাটা, যোগাযোগ, নাগরিক সমস্যা, সংগঠন, প্রকাশনা, জীবনী, স্মৃতিকথা, অতিথি, ঢাকার প্রথম, কালপুঞ্জী ইত্যাদি। এছাড়াও প্রতিটি রচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, দলিল-দস্তাবেজ, মতামত, অন্যান্য প্রকাশনা উপস্থাপন করা হবে। সমকালে ঢাকা : ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত সময়ের সকল বিষয় বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপন করা হবে এই ভাগে। এর বিভাগগুলো : সংবাদ, পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থাপত্য, শিল্প ও সংস্কৃতি, পেশা ও পেশাজীবী, প্রশাসন, খাবার, শিশুপাতা, লাইফস্টাইল, কেনাকাটা, যোগাযোগ, নাগরিক সমস্যা, সংগঠন, প্রকাশনা, জীবনী, স্মৃতিকথা, অতিথি, কালপুঞ্জী ইত্যাদি।

সমকালে ঢাকা ভাগেও প্রতিটি রচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিওভাষ্য, দলিল-দস্তাবেজ, মতামত, পরামর্শ ও অন্যান্য প্রকাশনা উপস্থাপন করা হবে। এছাড়াও সমকালে ঢাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হচ্ছে ‘ওয়ার্ড প্রোফাইল’। এতে ঢাকা শহরের ৯০টি ওয়ার্ডের প্রতিটির জন্য আলাদা পাতা থাকবে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র তথ্য-উপাত্ত্য উপস্থাপিত হবে। ঢাকাশহর.কম-এর অন্যতম উদ্দেশ্য ঢাকার ইতিহাসকে সহজভাবে উপস্থাপন। এরজন্য আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিওচিত্র, গ্রাফিক্স, ড্রইং, পেইন্টিং-এর সহায়তা নেয়া হবে।

ঢাকাশহর.কম শুধু ঢাকার ইতিহাসে আগ্রহীদের জন্যই নয় বরঞ্চ লেখক, গবেষক, সাংবাদিক, তথ্য সংগ্রাহক, শিশু, পরিবেশ প্রেমী সকলের জন্যই তথ্য উপস্থাপন করবে। এছাড়াও ঢাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কেনাকাটা, প্রকাশনা, লাইফস্টাইল নিয়ে থাকবে প্রতিনিয়ত হালনাগাত তথ্য। থাকবে ঢাকায় ঘটে যাওয়া শিল্প ও সংস্কৃতির সকল তথ্য। বাংলাদেশে ডিজিটাল যুগের প্রবর্তন হলেও প্রতিনিয়ত হালনাগাদ করা এবং ইন্টারনেটভিত্তিক ওয়েব পোর্টাল পরিচালনা করা যথেষ্ঠ কঠিন ও ব্যয় সাপেক্ষ কাজ। কিন্তু অসম্ভব নয়।

ঢাকাশহর.কম-এর সংশ্লিষ্ট সকলেই এই কথাটি বিশ্বাস করে কাজ পরিচালনা করে যাচ্ছে। এই কঠিন ও জটিল কাজটি সুনিপুনভাবে সমাধা করতে সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন। ঢাকাশহর.কম-এর তথ্যভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করতে ঢাকা শহর সম্পর্কে আপনার ভাবনা, অভিজ্ঞতা, সংগৃহিত তথ্য-উপাত্ত্য দিয়ে আপনিও হতে পারেন এর অংশীদার। -ঢাকাশহর.কম অচিরেই আসছে আমাদের ঢাকাশহর.কম বন্ধুরা ঢাকা শহরের মিউনিসিপ্যাটির ৯২টি ওয়ার্ডের খুঁটি-নাটি সকল তথ্য নিয়ে প্রকাশ হতে যাচ্ছে এই পোর্টালটি। আপনি বা আপনারা আমাদেরকে আপনার ওয়ার্ডের তথ্য দিয়ে বা আপনার প্রতিষ্ঠান/সংগঠন/শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান/পাঠাগার সহ সকল তথ্য পাঠাতে পারেন।

হতে পারেন আমাদের ঢাকাশহর.কম-এর সদস্য। ধন্যবাদ সকলকে বিস্তারিত জানতে মেইল করুন ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.