আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

কে কৈসে পরথুম আলু বালা পত্রিকা!

থেমে যাবো বলে তো পথ চলা শুরু করিনি। আমাদের দেশের পত্রিকাগুলোর সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা খুবই কম। গত বৃহস্পতিবার আনন্দ নামের প্রথম আলোর বিনোদন সাপ্তাহিকীতে নতুন ছবি 'লাল টিপ' সমন্ধে পড়ে আমি একটু আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম। সেই সময়ে সামু-তে আপডেট দেওয়া যাচ্ছিল না বলে অগত্যা প্রথম আলো ব্লগের আশ্রয় নিতে হল। সেখানে সংক্ষিপ্ত ভাবে একটু বলেছিলাম যে এমন করে আগ বাড়িয়ে প্রচারনা করার দরকার ছিল না।

এমনিতেই প্রথম আলো ব্লগ কোন লেখা প্রকাশের আগে পড়ে দেখে নেয় যে কেউ কিছু তাদের বিরুদ্ধে লিখলো কিনা। আমার লেখাটা সেই লাল ফিতা পার হয়ে যাবার পরেও কেন যে 'মুছে গেল', তা জানবার জন্য অনেক আগ্রহ থাকবে। আর আমার সেই লেখাতে প্রথম আলোকে উদ্দেশ্য করে কিছুই লেখা হয় নাই। আমি বলেছিলাম, আজ থেকে কয়েক মাস আগে 'মেহেরজান' নামক চলচ্চিত্রের প্রচারণার কথাটি। সে সময়ে জয়া ভাদুরি বচ্চন এসেছিলেন সুটিং করতে।

ঢাকাতে ছিলেন কয়েক দিন। সেই সুযোগে প্রথম আলোর প্রচার স্বর্বস্ব উপ-সম্পাদক আনিসুল হক দৌড় লাগালেন বিনোদন প্রতিবেদককে সাথে নিয়ে জয়া ভাদুড়ি বচ্চনের সাক্ষাৎকার নিতে। সেই কথাটাই একটু ঘুরিয়ে বলেছিলাম। তাতেই সাহেবদের না-খোশ দশা। 'মেহেরজান' নিয়ে প্রথম আলো যা করেছিল, তা ছিল ভব্যতার একটা শেষ সীমারও বাইরে।

তাদের অদিখেতা ছিল দেখবার মত। মনে হচ্ছিল যেন মুক্তিযুদ্ধের পরে এই বোধহয় ভেতো বাঙালির পাতে মুক্তিযুদ্ধের উপরে একটা আমিশ জাতীয় সিনেমা বেড়ে দেওয়া হল। এর অবশ্য কারন ছিল –-- প্রথমতঃ জয়া ভাদুড়ী বচ্চন এবং ভিক্টার ব্যানার্জি দুইজনেই ভারতীয় অভিনেতা; এবং দ্বিতীয়তঃ পরিচালক মেয়ে ও আমেরিকায় পড়াশোনা করেছে, সেখানেই সিনেমার গল্পটি মকশো করেছে, এবং বিস্তর টাকা উড়িয়ে সিনেমাটি বানিয়েছে। সেই কারনে আমাদের একটা শঙ্কা ছিল যে প্রথম আলো বোধহয় রত্ন চিনতে ভুল করেছে। পরে মেহেরজান চরমভাবে ব্যর্থ হলে এবং সামু-তে এ নিয়ে অনেক লেখালেখি হলে মেহেরজান-এর পরিচালক প্রথম আলোতে লেখেছিলেন যে কয়েক জন ব্লগার ব্লগে লিখলেই কি সিনেমা বন্ধ হয়ে যাবে? খোদা না খাস্তা, এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই সেই সিনেমা হল থেকে নেমে গেল।

বাংলাদেশের কোথাও আর মুক্তি পেয়েছে বলে শোনা যায় নি। প্রথম আলো যে রত্ন চিনতে ভুল করে, তার আরেকটি নমুনা হল সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া 'গেরিলা' চলচ্চিত্রটি। এই ছবি নিয়ে প্রথম আলোর তেমন মাতামাতি ছিল না, অন্তত মেহেরজান গোছের তো নয়ই। তাই মুক্তি পাবার পরে চলচ্চিত্রটি অতি অল্প সময়ের ভেতরে যে ভাবে দেশের সাধারন দর্শকদের ভেতরে জনপ্রিয়তার ঢেউ তুলেছে, তা আগে থেকে প্রথম আলো আন্দাজ করতে পারে নাই। তাই এখন ভালো ভালো সমালোচনা ছাপিয়ে নাসির উদ্দিন ইউসুফের কাছে কোন মতে মান রক্ষা করে যাচ্ছে! খোঁজ দ্য সার্চ নামের একটি অতি বস্তা পচা, মানহীন চলচ্চিত্র নিয়েও প্রথম আলো এমন বালখিল্য আচরন করেছিল।

তাই লাল টিপ নিয়ে এমন বাড়ন্ত ধরনের কথাবার্তায় আবারো মনে হচ্ছে প্রথম আলো এই বারেও রত্ন চিনতে ভুল করেছে। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.