প্রেম করলেই কি মানুষ স্মার্ট হয়ে যায়!!! আমার যানা নাই, বিষেশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী দের প্রতি আমার এই প্রশ্ন।
আমার কাছে কেন যানি মনে হয়, অল্প বয়সের এই মানুষগুলোর একটাই লক্ষ তা হলো একটা সুন্দর, স্মার্ট ছেলে/মেয়ে (যার বেলা যেটা প্রযোয্য)। সবাই যেন একটা লক্ষের পিছনে ছুটে চলেছে। আর তাই কল্পনার সাথে সামান্য একটু মিল খুঁজে পেলেই ব্যস, ওটাই ছিল তার স্বপ্নের মানুষ। আর যেহেতু এর ভূক্তভুগী বেশী ভাগ মেয়েরা, তাই ছেলেদের দোষ থাকার পরও, তাঁদের প্রতি কটাক্ষ, রাগ, করুনা সবটাই বেশী।
আশা করি তারা সচেতন হবেন।
শরিফ সাহেব একজন গ্রামীনফোন-এর উর্ধতন কর্মকর্তা, তাঁর ড্রাইভার শফিক, বেশ স্মার্ট, কথা-বার্তাও আধুনিক এবং আল্প দু-একটা ইংলিশও যানেন।
যাই হোক, শরিফ সাহেব প্রাই লক্ষ করতেন শফিক কার সাথে যেন মোবাইলে অনেকক্ষন কথাবলে, প্রাই তার ফোন waiting-এ পাওয়া যায়, এখানে বলে রাখা ভালো সে সময় মোবাইল কলরেট ছিলো প্রায় ৬-৭টাক/মিনিট। হোতেই পারে, সেও মানুষ, তাঁরও বাড়ীতে wife আছে, এটা নিয়ে শরিফ সাহেবের এতো মাথা ব্যাথা নাই। কিন্ত সমস্য হোলো ড্রাইভিং-এর সময় ফোন, তাও তাকে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে যেন ড্রাইভিং-এর সময় মোবাইলে কথা কম বলে।
কথামতোই কাজ, ফোন আসে, শফিক বলে- I'm on Driving, call me latter, দু-একটা ইংরেজী শুনে শরিফ সাহেবও খুশি।
এরই মধ্যে একদিন জরুরী কাজ পরে গেল শফিকের, বাড়ী যেতে হবে তার, আর তার রি-প্লেস ড্রাইভারের জন্য তার মোবাইল ফোনটা রেখে দেয়া হলো। কিন্ত রি-প্লেস ড্রাইভার পাওয়া গেল না। On Request- এ আমিই তাকে আফিসে পৌছে দেয়ার দায়িত্ব নিলাম, আমি আবার ড্রাইভ করতে খুব পছন্দ করি। তো এরই মধ্যে আনেক মিসকল, একসময় শরিফ সাহেব বাধ্য হয়েই ফোন রিসিভ করলো।
স্মর্ট এক মহিলা কন্ঠ: - হ্যলো, জানু, আমার জান, কখন থেকে তোমাকে ফোন করছি, কোথায় ছিলে,................ইতাদি,
শরিফ সাহেব: (ভদ্রভাষায়) আমি শফিক নই।
মহিলা: তাহলে ফোন-রিসিভ করেছেন কেন?? ওকে দেন।
শরিফ সাহেব: আপনার ও তো গ্রামের বাড়ী গেছে।
মহিলা: আপনি কে??
শরিফ সাহেব: আমি, ও-র বস।
মহিলা: বস- মানে?? আমার সাথে আপনি ফাজলামী করছেন??
শরিফ সাহেব: জ্বি-না।
আপনার ও- আমার ড্রাইভার আর তার wife-এর সাথে আমার ফাজলামী করা মনে হয় সাজে না।
মহিলা: কি যাতা বালছেন আপনি!! শফিক ড্রাইভার হবে কেন? সে তো গ্রামীনফোন-এ জব করে। G.M as well Departmental Head,......।
শরিফ সাহেবরাগে ঘামতে লাগলেন, কথাও কিছুটা এলোমেলো, নিজেকে সামলে নিয়ে) কে বলেছে আপনাকে এই সব??
মহিলা: কেন সে নিজে বলেছে??
শরিফ সাহেব: সে আপনাকে মিথ্যে বলেছে। সে আমার ড্রাইভার।
মহিলা: R U sure? Ahhhh.... I mean………………Ahhhh….….May I want to Know whom I’m speaking with??
শরিফ সাহেব:Ya! This is sharif, Head of……..Deptt. Grameenphone
মহিলা:Oh my God!!! Oh my God!!!
Can I have your cell No. Please,
শরিফ সাহেব: Yes, 0171150…………
এর পর লাইনটা কেটে গেলো। আমি তাকে আফিসে নামানোর পর তিনি আমাকে কফি খেতে উপরে ডাকলেন, আমি গেলাম, কফি খেতে খেতে এই বিষয়েই কথা হোলো। সে তো রাগে কটমট করছে, আমি তাকে এতো রাগ করতে আগে কখনো দেখিনি,
ঘটনা যা বুঝলাম তা হোলো - শফিক (ড্রাইভার) ঐ মেয়ে কে শরিফ বলে পরিচয় দিয়েছে এবং আরো কিছু হয়তো করেছে।
কিছুক্ষনের মধ্যই একটা ফোন-এলো, বুঝতে পারলাম সেই মেয়ে-ই। সে নিচে দাড়িয়ে আছে, উপরে আসার অনুমতি চাইছে।
তাকে অনুমতি দেয়া হোলো, এর মধ্য আমি আবার বল্লাম "আমি যাই" সে বললো দাড়া সবটা দেখেই যা। আমিও বেশ ইন্টারেস্ট ফিল করলাম।
এর পর যা ঘটলো তা সত্যি দূঃখজনক-
খুবই সুন্দরী এক মেয়ে রুমে ঢুকলো, মেয়ে টা যেমন সুন্দর তেমনি স্মার্ট। বললো: শরিফ সাহেব??
শরিফ সাহেব: জ্বী- বলুন?
মেয়ে: আমি ঈসিতা, আমার বাবা একজন সচিব, আমি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ভারর্সটতে বি বিএ তে পড়ি, এইথ সেমিস্টার। আমি আপনার সাথে একটু আগে কথা বলেছিলাম।
শরিফ সাহেব সব বুঝতে পেরে শরিফের ফাইলটা এই মেয়ের সামনে খুলে ধরলো। মেয়ে ছবি দেখে ও আনান্য ডেটা গুলো পড়ে, টেবিলের উপর মাথা রেখে কাঁদতে শুরুকরলো।
'' আমি এটা কি করেছি!, এর সাথে, ছিঃ, ছিঃ, কি করলাম!!!' সবাই যানে.....
মেয়েটা আনেক ক্ষন কাঁদলো, তার চোখের পানি টেবিলে কাঁচ গড়িয়ে ফোটায় ফোটায়
কর্পেটে পড়তে শুরু করলো এক সময়।
আমারও খুব খারাপ লাগলো, ইচ্ছে করছিলো তার সাথে কাঁদি, হয়তো কষ্টটা একটু কমে যেতো। আমি চুপচাপ বেড়িয়ে এলাম।
ড্রাইভ করতে ইচ্ছে করছিলো না। কিন্ত উপায় নেই, বাড়ী ফিরলাম। কিছুতেই যেন মানতে পারছিলাম না- "এতো সুন্দরী একটা মেয়ে........এতো ইনোসেন্ট একটা চেহারা........ । এই ভুলটা না করলে কি হোতোনা। '' তার বাবা-মা হয়তো তাকে নিয়ে কত স্বপ্ণই না দেখতো।
কোথায় গেল তার এতো স্মার্টনেস? কেন যানি না আজো ভুলতে পারি না, তার কথা।
পরে যানতে পারলাম ঐ ড্রাইভারের চাকরী চলে গিয়েছিলো।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।