কাল বিকেল শেষে নীলক্ষেতের পথ দিয়ে টিএসসির মোড়ে প্রায় পৌঁছে গেছি। ভাষা ইনস্টিটিউট পার হয়েছি। লাইব্রেরীর পাশ হতে দুজন যুবক রাস্তা পার হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। রোকেয়া হলের দিকে। আমার তরুন রিক্সাচালক তাদের পথ করে দিয়ে একদম বাঁয়ে সরে যেয়ে চালাতে লাগলো।
দুজনের একজন হঠাৎ করে সামনে না এগিয়ে পেছনে সরে এলো। ফলে রিক্সার সংগে তার শরীর হাল্কা ধাক্কা খেল। আচম্বিতের এই ধাক্কার জন্য সাদা সার্ট পড়া তরুনটি প্রস্তত ছিল না। গায়েও হয়তো সামান্য লেগে থাকতে পারে। সে ঠাস করে রিক্সাওয়ালাকে সশব্দে একটি থাপ্পড় মেরে বসলো।
ঘটনার দ্রুততায় সব বুঝতে পারলেও আমার কিছু করার ছিল না। কিন্তু সেই সময়ের থাপ্পড়ের শব্দে কত ছাত্রছাত্রী, লোকজন তাকাল, অনেকে এগিয়ে এল। আমি সাথে সাথে অবস্হা বুঝে রিক্সাওয়ালাকে বললাম, আরো দেখেশুনে রিক্সা চালাতে হতো। এখন সোজা যাও। কেন এমন হলো? বুঝে শুনে, দেখে, জায়গা বুঝে তবে তো রিক্সা চালাবে!
সে এগিয়ে গেল।
আমার বলা দেখে অন্যরা কিছু না বলায় আমরা বের হয়ে গেলাম। ছেলেটির জন্য খারাপ লাগলেও রিক্সাওয়ালার জন্য বেশী আফশোশ লেগেছে। কারন সে অকারনে মার খেয়েছে। ধাক্কাটি ছিল নেহাতই কাকতালীয় দুর্ঘটনা। ছেলেটি মন না বদলিয়ে পেছনে না সরে এলে এই ধাক্কা হতো না।
গন্তব্যে পৌঁছে তাকে ভাড়া দিলাম। আর বললাম, সাবধানে চলো, জায়গা বুঝে চলো। আর একটু হলে আরো মার হয়তো পড়তে পারতো। কারন একজন হয়তো কোনো কারনে মারে। আর অনেকে, ধর ধর, মার মার করে, না জেনে বুঝে মার দেয় বা দিতে উদ্যত হয়।
আমার খারাপ লাগা শেয়ার করার জন্য যাবার আগে ওর হাতে গুঁজে দিলাম দিলাম একশ টাকার একটি নোট। গামছার খুঁটে চোখের কোনা মুছে ও চলে গেল। আশে পাশের ওখানকার গাড়ীর ড্রাইভাররা আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। ভাবছিল, হয়তো ভাড়াও দিল আবার....। তাহলে আপাই হয়তো রিক্সাওয়ালাকে..
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।