www.adityaanik.com
তেলাপোকার বন্ধু
আদিত্য অনীক
হেলা ফেলায় দিন চলে যায় কশ্য তেলা পোকার
ভাড়ার ঘরে প্রচুর খাবার বেড়ার ফাঁকে বসত মজার
একদিন বাজার ফেরত চাষী,
চটকে ঠোটের হাসি
বউ এর হাতে ধরিয়ে দিল কালো রং এর শিশি।
দেখে তেলার প্রাণ উড়ে যায়
ফড়র ফড়র দৌড়ে বেড়ায়
এদিকে যায় ওদিকে যায়
অবশেষে পড়ল গিয়ে ঘরের আঙিনায়।
সামনে পেয়ে মোরগকে কয়, শোন বন্ধুবর;
খবর ভয়ংকর,
চাষী ঘরে বিষ এনেছে তেলাপোকা মারার।
একটা কিছু কর বন্ধু, যা কিছু যায় করার,
নইলে কোন উপায় নাই রে এবার আমার বাঁচার।
মোরগ হেসে টিকটিকিয়ে বলে,
আহা তেলা মরবি এবার তিতা জহর গিলে
বিষ খেয়ে তুই মর তা’তে আমার কী যায় আসে?
জ্বালাস না তো আমি এখন কেঁচো খুঁজছি ঘাসে।
ছোটাছুটি করে তেলা সামনে পেল ছাগল
খবর খুব খারাপরে ভাই কেম্নে বাঁচি বল?
ছাগল নেড়ে দাড়ি, বলল, কী আর করি ?
বাদ জুমাতে মুনাজাতে দু’য়া চাইতে পারি।
গরুর কাছে গিয়ে তেলা বলল, ধরা গলায়,
একটা বুদ্ধি দাওগো বন্ধু কেম্নে বাঁচা যায়।
গরু বলে কী আর করা?
তোর দেখছি ঘোরের মরা,
আয়েশ করে বলল আরো জাবর কাটার ফাঁকে,
অভাগা তুই পড়ে গেছিস মরণ বিপাকে।
গর্তে গিয়ে তওবা করিস খোদার নাম নিয়ে
পারিস যদি মাফ চেয়ে নিস সবার কাছে গিয়ে।
মনের দুঃখে তেলা পোকা ঘরে ফিরল বেতাল
নিজের বিপদ নিজেই তাকে দিতে হবে সামাল।
রাতের বেলা চাষীর ছেলে সিরাপ ভেবে নিয়ে
খেয়ে ফেলল বিষের শিশি সুখে ঢকঢকিয়ে।
খেয়ে ছেলে আধামরা মহা হুলস্থুল।
ডাক্তার এল, বৈদ্য এল, এমন মস্ত ভুল!
রুগী ভারি দুর্বল তাই বিশেষ পথ্য চাই,
সুপ বানাতে মোরগটাকে করা হল জবাই।
চাষীর ছেলে মর মর,
পাড়া-পড়শী এসে জড়ো,
তাদের সবার জন্য এখন খাবার জোগাড় চাই।
ছাগলটাকে ধরে এনে দিতে হল জবাই।
অনেক পথ্য, ওষুধপত্র শেষে
দিন কয়েকের মাথায় ছেলে মারা গেল বিষে।
পাড়া-পড়শী আপনস্বজন
কুলখানিতে করবে ভোজন
হাজার লোকের খাবার জন্য মস্ত আয়োজন।
গরুটাকে জবাই দিয়ে করল পরিবেশন।
মরার কথা তেলাপোকার, বেঁচে রইল বেশ
মধ্যিখানে মোরগ, ছাগল, গরুর জীবন শেষ।
পাড়া-পড়শীর বিপদ মানে শুধুই তাদের ব্যাপার
এমন ভেবে আমরা যদি থাকি নির্বিকার।
মটকে দিয়ে যেতে পারে আমাদেরও ঘাড়।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।