আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মাঝেমধ্যে মনে হয় সব ছেড়ে নামাজ-রোজা করি, তাওবা করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করি- তসলিমা নাসরিন

নতুন ব্লগার হিসাবে আছি....... বদলে গেছেন তসলিমা নাসরিন। ভুল, হতাশা ও হতাশা থেকে নতুন উপলদ্ধি, শঙ্কা দোদুল্যমানতার মধ্যে দিন কাটছে তার। নিজেই ভাবছেন, মাঝেমধ্যে মনে হয় সব ছেড়ে নামাজ-রোজা করি, তাওবা করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করি। কম্যুনিস্টরাও তো এক সময় বদলে যায়। আমার জন্ম ১২ ই রবিউল আউয়াল, মহানবীর জন্মদিনে।

নানী বলেছিলেন, আমার নাতনী হবে পরহেজগার। সেই আমি হলাম বহু পুরুষভোগ্যা একজন ধর্মকর্মহীন নারী। বলা তো যায় না, মানুষ আর কত দিন বাঁচে। আমার মা ছিলেন পীরের মুরীদ। আমিও হয়ত একদিন বদলে যাবো।

তার কথাতেই পরিষ্কার এখন তিনি হতাশ, চোখের নিচে কালি পড়েছে, চামড়ায় বয়সের চাপ, শরীরের মধ্যে নানারকম ব্যথা-ব্যদনা তো আছেই। একাকিত্ব তাকে আরও পঙ্গু করে দিচ্ছে। এমনি অবস্থায় বিদেশের কোথাও থিতু হতেও পারছেন না। দেশে ফেরাও তার জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে গেছে। যেই মৌলবাদীদের ভয়ে তিনি দেশ ছেড়েছিলেন, সেই ভয় এখনও তাকে তাড়িয়ে মারছে।

লন্ডন থেকে দিন কয়েকের জন্য গিয়ে ছিলাম ভারতে। আর কাকতালীয় ভাবেই দেখা গেল এই বিতর্কিতা লেখিকা ডা. তসলিমা নাসরিনের সাথে। তিন দিনের নানা বিষয়ে তার সাথে কথা হলো। এ বিষয়গুলো তুলে ধরতেই আজকের এই প্রয়াস। (দেশে বিদ্যমান প্রবল আস্তিক-দ্বন্দ্বে তসলিমার এই সাক্ষাৎকারটি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে পার্বত্য নিউজ ডট কমের পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো।

– বিভাগীয় সম্পাদক) প্রশ্ন: আপনার কাছে একটা প্রশ্ন। এই যে লেখালেখি করলেন, এর মূল উদ্দেশ্য কি ছিল, দেহের স্বাধীনতা না চিন্তার স্বাধীনতা? তসলিমা: প্রশ্নাট আপেক্ষিক। আসলে আমিতো পেশায় ছিলাম চিকিৎসক। আমার বাবা চেয়েছিলেন তার মতো মানে অধ্যাপক ডা. রজব আলীর মতো আমিও একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক হই। শৈশবে, কৈশোর এবং যৌবনে আমি অনুভব করি, নারীরা আমাদের সমাজে ক্রীতদাসীর মতো।

পুরুষরা তাদের ভোগ্যপণ্যের মতো ব্যবহার করে। এ কারণেই বিষয়গুলো নিয়ে প্রথমে লেখালেখির কথা ভাবি। প্রশ্ন: আমার প্রশ্নের জবাব হলো না। কি স্বাধীনতার দাবিতে আপনার এই লড়াই? তাসলিমা: আমি প্রথমত নারীর জরায়ুর স্বাধীনতার দাবি তুলি। একজন পুরুষ যখন চাইবে, তখনই তার মনোস্কামনা পূর্ণ করতে ছুটে যেতে হবে।

এটা তো হতে পারে না। অথচ তখন ছুটে না গেলে জীবনের সব পূণ্য নাকি শেষ হয়ে যাবে। চিন্তার স্বাধীনতা না থাকলে ভালো লেখক হওয়া যায় না। দেহের স্বাধীনতার বিষয়টা গৌণ। তবে একেবারে ফেলনা নয়।

পুরুষই একচেটিয়া মজা লুটবে, নারী শুধু ভোগবাদীদের কাছে পুতুলের মতো হয়ে থাকবে, এটা মেনে নিতে পারিনি। প্রশ্ন: আপনি পরিকল্পিতভাবে নিজেকে আলোচিত ও অপরিহার্য করে তোলেন। আজ বাংলা সাহিত্যে বা বাংলাদেশের সাহিত্য জগতে আপনি তো চরমভাবে অবহেলিত। তাসলিমা: আমি একটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছি। সত্য কথা সাহিত্যে এলে তা অনেকের জন্য কষ্টদায়ক হয়।

আমি আমার বহু স্বামী ও ভোগ্য পুরুষদের নামধাম প্রকাশ করে দেয়ায় অনেক বন্ধু আমাকে এড়িয়ে চলেন। বাংলা সাহিত্যের অনেক দামি দামি পুরুষও চান না যে আমি দেশে ফিরি। এক সময় আমার বিপক্ষে ছিল কট্টর মৌলবাদীরা। এখন প্রগতিশীল অনেক সাহিত্যিকও বিপক্ষে। কারণ এদের নষ্ট মুখোশ আমি খুলে দিয়েছি।

প্রশ্ন: আপনি চিকিৎসক থাকলেই ভালো করতেন। মিডিয়াতে কেন এলেন? সাহিত্যেই বা কেন ঢুকলেন? তাসলিমা: আমি নারীর অধিকার নিয়ে ভেবেছি। কিন্তু এখন মনে হয় আমি মানবিকভাবে আশ্রয়হীন। আর এ কারণেই আমি অন্য স্রোতে সুখ খুঁজেছি। পরিবার হারালাম, স্বামী সন্তান হলো না, ঘর-সংসার হলো না।

তখন দৈনিক সম্পর্কে নেশাগ্রস্ত না থেকে আর কোনো পথ খোলা ছিলো না। প্রশ্ন: এখন আপনি কী চান? তাসলিমা: অনেক কিছু। আমার হারিয়ে যাওয়া জীবন, যৌবন, ভোগ-উপভোগ, স্বামী-সন্তান, পরিবার-পরিজন। কিন্তু দিতে পারবেন কি? আজ আমি নিজ দেশের কাউকে দেখলে কুণ্ঠিত ও লজ্জিত হই। খ্যাতি, অর্থ, পুরস্কার সবই আছে, তবুও মনে হয় আমি ভীষণ পরাজিত।

দিনে হই চই করে কাটাই, রাত হলে একাকিত্ব পেয়ে বসে। আগের মতো পুরুষদের নিয়ে রাতকে উপভোগ করার মতো শরীর মন কোনটাই নেই। প্রশ্ন: পুরানো বন্ধুরা যোগাযোগ রাখেনি? এখন কেমন পুরুষ বন্ধু আছে? তাসলিমা: এক সময় অনেক ব্যক্তিত্ববানদের পেছনে আমি ঘুরেছি। ব্যক্তিত্বহীনরা আমার পেছনে পেছনে ঘুরেছে। আজকাল আর সুখের পায়রাদের দেখি না।

মনে হয় নিজেই নিজেকে নষ্ট করেছি। পরিচিত হয়েছি নষ্ট নারী, নষ্টা চরিত্রের মেয়ে হিসেবে। লেখালেখি করে তাই এসব পুরুষদের উপর আমার রাগ, ঘৃণা ও অবহেলাকে প্রকাশ করেছি। যৌনতার রানী হিসেবে প্রকাশিত হলাম, অথচ এই রানীর কোনো রাজাও নেই প্রজাও নেই। এই জন্য আজ হতাশায় নিমজ্জিত আমি।

প্রশ্ন: ধর্ম-কর্ম করেন? তাসলিমা: মাঝেমধ্যে মনে হয় সব ছেড়ে নামাজ-রোজা করি, তাওবা করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করি। কম্যুনিস্টরাও তো এক সময় বদলে যায়। আমার জন্ম ১২ ই রবিউল আউয়াল, মহানবীর জন্মদিনে। নানী বলেছিলেন, আমার নাতনী হবে পরহেজগার। সেই আমি হলাম বহু পুরুষভোগ্যা একজন ধর্মকর্মহীন নারী।

বলা তো যায় না, মানুষ আর কত দিন বাঁচে। আমার মা ছিলেন পীরের মুরীদ। আমিও হয়ত একদিন বদলে যাবো। প্রশ্ন: বিয়ে-টিয়ে করবার ইচ্ছে আছে কি? তাসলিমা: এখন বিয়ে করে কি করবো? পুরুষটিই বা আমার মধ্যে কি পাবে? সবই পড়ন্ত বেলায়। যে বিয়ে করবে, সে যদি আমার মধ্যে যৌন সুখ না চায়, সন্তান না চায়, এমন মানব পেলে হয়ত একজন সঙ্গী করার কথা ভাবতেও পারি।

প্রশ্ন: আপনি কি একেবারে ফুরিয়ে গেছেন? তাসলিমা: না, তা ঠিক নয়। তবে পুরুষতো শত বছরেও নারীকে সন্তান দেয়। মেয়েরা তো পারে না। আমার এখনও রজস্রাব বন্ধ হয়নি। মেশিনারি ঠিক আছে।

তবে নতুন বা আনকোরাতো নয়, লক্কর ঝক্কর মেশিনারির মতো আরকি? পুরুষদেরও বয়স বাড়লে খাই খাই বেড়ে যায়। এতটা মেটানো তো আর এই বয়সে সম্ভব হবে না। প্রশ্ন: বয়স বাড়লে পুরুষেদের সেক্স বাড়ে এটা কিভাবে বুঝলেন? তাসলিমা: কত বুড়ো, মাঝ বয়েসী ও প্রবীণ বন্ধুদের নিয়ে দেহজ খেলায় মেতেছি, এটা আমার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। প্রশ্ন: রাত যখন বিশ্বকে গ্রাস করে, আপনার ঘুম আসছে না তখন আপনার বেশি করে কি মনে পড়ে? তাসলিমা: খুব বেশি মনে পড়ে আমার প্রথম প্রেম, প্রথম স্বামী, প্রয়াত কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে। অনেক কাঁদি তার জন্য।

পেয়েও হারালাম তাকে। রাগ হয়েছিল বিয়ের রাতেই। আমি তো ডাক্তার তার পুরুষদণ্ডে ক্ষত দেখি। বুঝতে পেরেছিলাম যাকে জীবন দিয়ে ভালবাসি, সে বেশ্যাবাড়ি যায়। সিপিলিস-গনোরিয়ায় আক্রান্ত সে।

তবু তাকে বলি, আজ বাসর রাতে যৌনকেলি হবে না। তোমার শরীরে রোগ। এখন আমার শরীরে তুমি ঢুকলে আমিও এ রোগে আক্রান্ত হবো। তোমাকে সুস্থ করে তুলবো, তারপর হবে আমাদের আনন্দ বাসর। কিন্তু পুরুষতো জোর করতে চাইলো, ব্যর্থ হয়ে চলে গেলো পতিতার বুকেই।

প্রশ্ন: অন্য স্বামীদের কথা মনে পড়ে না? তাসলিমা: তারা এমন উল্লেখযোগ্য কেউ নন। তাদের মুরোদ আমি দেখেছি। তার চেয়ে বহু বন্ধুর মধ্যে আমি দেখেছি কেমন উন্মত্ত তেজ। ওদের স্মৃতি মনে পড়ে মাঝে মধ্যে। প্রশ্ন: দেশে ফিরবেন না? তাসলিমা: দেশই আমাকে ফিরতে দেবে না।

আর কোথায় যাবো? বাবা-মা-ভাই-বোন সবাইকে আমি লেখাতে জবাই করে দিয়েছি। আসলে নেশাগ্রস্তই ছিলাম, অনেক কিছু বুঝিনি। আজ আত্মীয়-স্বজনও আমাকে ঘৃণা করে। মরার পর লাশ নিয়ে চিন্তা থাকে, আমার নেই। যে কোন পরীক্ষাগারে দেহটা ঝুলবে।

ছাত্রদের কাজে লাগবে ------------------------------------------------------------------------- একজন তাসলিমা পাঠকের কিছু কথা.....। nasir on 20 May, 2013 at 8:03 pm said: শ্রদ্ধেয় তসলিমা নাসরিন! সালাম আপনাকে। আমি আপনার লেখার একজন আবেগহীন পাঠক। আপনার আদর্শের সাথে আমার চিন্তার দূরত্ব মেপে শেষ করা যাবে না। তবু আপনার লেখার সততা আমার ভালো লাগতো।

সত্যি কথা অনেকেই সহজ করে বলে না। উৎপ্রেক্ষা-রূপকের আশ্রয় নেয়। সেটা কতোটা সঠিক তা শিল্পের মানদণ্ডে হিসেব নিকেশের ব্যাপার। আপনি আপনার স্টাইলের প্রতি সৎ ছিলেন সেটা সম্পূর্ণই আপনার অনন্য বৈশিষ্ট্য। আপনি নেশাগ্রস্ত থেকে,অনেক কিছুই না বুঝে যা লিখেছেন, সেসব প্রকাশে দোষ নেই।

তবে একটি পরামর্শ দেবো..আপনিও জানেন..তাহলো আল্লাহর প্রতি যদি আপনার বিন্দুমাত্র বিশ্বাসও থেকে থাকে, তাহলে আমি বলবো..জনসমক্ষে আর নিজের দোষ প্রচার না করে আল্লাহর কাছে আপনি যেভাবে পারেন ক্ষমা চেয়ে পূত পবিত্র হয়ে যেতে পারেন। আইয়্যামে জাহেলিয়াতের মানুষ ছিল অমানুষ। আল্লাহর নবির সান্নিধ্যে এসে তারা হয়ে গিয়েছিল সবচেয়ে পূন্যবান। কারণ আল্লাহ সবসময় ক্ষমাশীল, দয়াময়। পশ্চিমা জগতে হাজার হাজার মানুষ মুসলমান হচ্ছে, নিজেকে পবিত্র করছে।

আর ইসলামের দৃষ্টিতে যিনি এইমাত্র আল্লাহর প্রতি ইমান এনে মুসলমান হন, তাঁর অতীতের কালো দাগগুলো মুছে যায়। একজন সঙ্গী পাবার জন্যে নয়, দেশে ফেরার আকুতি থেকে নয়, নিজেকে মৃত্যুর আগে মুসলমান হিসেবে তৈরি করে স্রষ্টার সামনে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানোর জন্যে একজন মুসলমান হিসেবেই কথাগুলো বলছি। ওমর (রা) কাফের ছিলেন। মুসলমান হবার পর তিনি হলেন খলিফা। ফলে আপনার যে শিল্পপ্রতিভা রয়েছে, সহজেই আপনি নিজেকে সত্যের শিল্পীতে পরিণত করতে পারেন।

আপনি অনেক কিছু দিতে পারেন সমগ্র বিশ্ববাসীকে। আপনার হাতে কলম নামে যে তলোয়ারটি আছে সেটি ব্যবহৃত হতে অসত্যের বিরুদ্ধে। সকল নষ্টামির বিরুদ্ধে। আপনি এমনটি ভাববেন না যে আমি তো নিজেই…। না যিনি এইমাত্র মুসলমান হবেন তিনি আল্লাহর কাছে নবজাতকের মতো নিষ্পাপ হয়ে যান।

বিশ্বব্যাপী কতো শিল্পী-সাহিত্যিকই তো ইসলাম গ্রহণ করেছেন। আপনি সেখানে হবেন ব্যতিক্রমী এবং নতুন মাত্রার একজন সাহিত্যিক। কেননা আপনি মুসলমানের সন্তান হয়েও পুনরায় মুসলমান হবেন। যে কথাগুলো আমি আপনাকে লিখলাম, এগুলো আপনিও জানেন। তারপরও আপনার কাছ থেকে সুন্দর এবং অভিনব অনেক লেখা পাবে জাতি, নিজের জীবন হবে নতুন আলোয় আলোকিত..এরকম একটি শুভ বোধ থেকেই লেখা।

কোনোরকম ঔদ্ধত্য দেখানো উদ্দেশ্য নয়। শেষ করবো একটি কথা বলে। নিজের দোষ ত্রুটি আল্লাহর কাছেই প্রকাশ করে ক্ষমা চাওয়াটা ভালো। আর নিজের তো বটেই অপরের দোষ ত্রুটির কথাও প্রচার করে বেড়ানো ইসলামের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয়। ভালো থাকুন।

দোয়া করি, আগামী বিশ্বে আপনার পরিচয় হোক নতুন এবং নবজাতকের মতো পূত পবিত্র। আপনার নামটি সবার মুখে মুখে উচ্চারিত হোক সম্মান ও মর্যাদার সাথে। আপনার রচনা হোক সত্যের পথে আহ্বানকারী শৈল্পিক মাধ্যম। আপনার কলম হোক ক্ষণিকের নয় অনন্ত জীবনের সুখের আধার। সূত্র পার্বত্যের সৌজন্যে কপিপেস্ট  ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১২ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।