দেশের মেরামতযোগ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোর তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
সোমবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে একথা জানানো হয়েছে।
পরিপত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট ভবনের অবকাঠামো মেরামত, সংস্কার ও পুনর্নিমাণের জন্য নীতিমালা দেয়া হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে ইউনিয়নভিত্তিক মেরামতযোগ্য বিদ্যালয়ের তালিকা করবে।
অধিক, মধ্যম ও স্বল্প ক্ষতিগ্রস্ত এবং সাধারণ সংস্কার- এই চার ক্যাটাগরিতে বিদ্যালয়গুলোকে চিহ্নিত করতে হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে মাঠ পর্যায় থেকে মেরামত/সংস্কারযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা ও অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তা যাচাই করে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে।
মেরামতযোগ্য বিদ্যালয়ের তালিকা করার সময় সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে লিখিত চাহিদাপত্র নিয়ে তা যাচাই করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাবে উপজেলা শিক্ষা কমিটি।
মধ্যম, স্বল্প ও সাধারণ মেরামত/সংস্কারযোগ্য গ্রামীণ ও শহর এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য দেড় লাখ টাকা এবং অধিক ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের জন্য তিন থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেয়া যাবে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছে।
এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জন্য দশ লাখ, পিটিআইয়ের জন্য তিন লাখ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের জন্য (পাঠ্য বইয়ের গুদামসহ) দুই লাখ, উপজেলা শিক্ষা অফিসের জন্য দেড় লাখ এবং উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
“দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়/প্রতিষ্ঠান ছাড়া অধিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হলে পরবর্তী পাঁচ বছর ওইসব বিদ্যালয়/প্রতিষ্ঠানে কোনো বরাদ্দ দেয়া হবে না। ”
তবে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মেরামত কাজ চলছে অথবা মেরামতের জন্য তালিকাভুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়/প্রতিষ্ঠানকে রাজস্ব খাত থেকে কোনো অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে না বলেও নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে।
দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে মেরামত/সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ। আর দেড় লাখ টাকার উর্ধ্বে সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করবে এলজিইডি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, উপজেলা পরিষদ, সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রাথশিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি, সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলী এসব কাজ তদারকি করবে।
মেট্টোপলিটন এলাকার বিদ্যালয়গুলো মেরামতের জন্য পরিচালনা পর্ষদ মেরামতের প্রয়োজনীতা নিরূপণ করে সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণসহ সংশ্লিষ্ট থানা শিক্ষা কর্তকর্তার কাছে প্রস্তাব দেবে।
এছাড়া পার্বত্য এলাকার নির্মিত আবাসিক ছাত্রাবাস ও ভবন মেরামত/সংস্কারের জন্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বা তার মনোনীত সরকারি কর্মকর্তা পার্বত্য জেলা পরিষদের দুই জন প্রতিনিধি ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত কমিটি মেরামত/সংস্কারযোগ্য ভবনের তালিকা প্রণয়ন ও অনুমোদন করবে।
পার্বত্য এলাকার প্রতিটি ছাত্রবাসের জন্য সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকার মেরামত কাজ করা যাবে বলেও নীতিমালায় বলা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশে ৩৭ হাজার ৬৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক জরিপে এর আগেই দেশে ২১ হাজার ৬০০ শ্রেণীকক্ষকে ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে।
ওই সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলাতে ৩০ হাজার শ্রেণীকক্ষ নির্মাণ এবং ৩২ হাজার শ্রেণীকক্ষ সংস্কার করবে সরকার।
সরকারি, নিবন্ধিত ও কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২১ হাজার ৬০০ শ্রেণীকক্ষকে ব্যবহারের অযোগ্য ঘোষণা করে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন।
এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪ হাজার ৯৬৩টি, নিবন্ধিত ৫ হাজার ৪৯৭টি এবং কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২০০ শ্রেণীকক্ষ অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
জরিপের তথ্যানুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ৭ শতাংশ শ্রেণীকক্ষই ব্যবহারের অযোগ্য। এছাড়া নিবন্ধিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১ শতাংশ শ্রেণীকক্ষ ব্যবহারের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।