সাপ-লুডু খেলছি বিধাতার সঙ্গে
মুসা ইব্রাহিম, আমাদের সময়ের নায়ক। মনে করুনতো এমন একটা জয়ের আনন্দে সাম্প্রতিক আমরা কখন পুরো জাতি এক সঙ্গে ভেসেছিলাম? ঠিক ধরেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নোবেল জয়ের পর। গর্ব করার মতো একটা কাজ করেছেন মুসা। কিন্তু এর মাঝেও কিছু দুঃস্বপ্ন হানা দিচ্ছে।
মুসাকে নিয়ে মিডিয়ার বাড়াবাড়ি দেখে এক সাংবাদিক সহকর্মী ভ্রু কুচকালেন।
তিনি প্রশ্ন করেন, একটু বেশী হয়ে যাচ্ছে কিনা? তার যুক্তি, দুই তিন দিন আগে ১২ বছরের এক ছেলে এভারেস্টে উঠেছে। প্রতিদিনই বিশ্বের কয়েকজন করে মানুষ উঠছে। এটাকে নিয়ে এত বাড়াবড়ির কি আছে? আমি প্রতিবাদ করি। আমরা বাঙ্গালীরা হুজুগে জাতি। আনন্দ করার উপলক্ষ্য তেমন একটা পাই না।
দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যদি পত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেলের হেডলাইন হতে পারি, তবে এভারেস্টে উঠে কেন পারবোনা। মুসার এভারেস্ট জয় হয়তো আমাদের অর্থনৈতিক জিডিপি বাড়ড়াবে না, কিন্তু মানসিক জিডিপি বেড়ে যাবে কয়েকগুন। আমাদের নতুন প্রজন্ম স্বপ্ন দেখতে শিখবে।
তবে সাংবাদিকতার ছাত্র হিসাবে এটা বুঝি, মুসা মিডিয়ার এজেন্ডা সেটিং থিওরির একটা অংশ। মিডিয়া তার কাটতি বাড়াতে অনেক সময় একটা এজেন্ডা সেট করে দেয়।
যেটা নিয়ে পরে পুরো জাতি মেতে উঠে। মুসার ক্ষেত্রেও যে এটা হয়েছে, তা অস্বীকার করার জো নেই। তার ওপর মুসা প্রথম আলোর সংবাদকর্মী ছিলো। তার নর্থ আলপাইন ক্লাবের সভাপতি-কথা সাহিত্যিক ও প্রথম আলোর উপ সম্পাদক আনিসুল হক। তাই মুসার বিষয়টি মিডিয়ায় উঠে আসার বিষয়ে তিনি অগ্রনী ভূমিকা নিয়েছেন।
বেশ কয়েক জায়গায় ফোনও করেছেন প্রচারণা পেতে। এটা সত্য, এর সঙ্গে প্রথম আলোর বাণ্যিজিক মানসিকতাও ছিলো জড়িত।
তবে সাধারণ মানুষের এতে তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। তাই আনন্দে মেতে উঠতে তাদের কোন সমস্যা নেই। ব্যত্তিগতভাবে আমি নিজে হিমালয়ের অনেক কাছ থেকে ঘুরে এসেছি।
কিছুটা দুর থেকে হিমালয় দেখে আমি পৃথিবীতে যে অপার্থিব সৌন্দর্য দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম, তাতে এভারেস্টের চূড়ায় মুসার অনুভূতিটা বুঝতে চেষ্টা করি।
তবে মনটা কিছুটা সংশয়ে পড়ে অফিস থেকে বের হয়ে। কাকতালীয় ভাবে দেখা হয়ে যায় শরীফের সঙ্গে। শরীফও এডভেঞ্চার প্রিয় মানুষ। আগে আমার বাসায় প্রায় আসতো।
মাস কয়েক আগে সে সাইকেল চড়ে ভ্রমণ করে আসে পুরো বাংলাদেশ। প্রথম আলোয় সে খবরটাও এসেছিলো কয়েকদিন আগে। আরও অনেক অভিযানের সঙ্গেই সে জড়িত। তার দেশভ্রমনের কারণে অনেক দিন দেখা হয়নি। কথায় কথায় মুসার প্রসঙ্গ তুলতে শরীফ যা বললো তাতে কিছুটা সংশয়ে পড়তে হয়।
শরীফের মতে, মুসার আগের পর্বতারোহনের রেকর্ড ভালো নয়। ওরা যারা এইসব রোমাঞ্চপ্রিয় মানুষ, তারা পরস্পরেরর খবর রাখেণ। আমি কৌতুহল দেখালেও শরীফ আসল কথা বলে না। পরে জোরাজুরির মুখে যা বললো তা হলো, আগে বিভিন্ন সময় মুসা পর্বতের চূড়ায় না উঠেই ছবি তুলে নিয়ে আসতো। বিশেষ করে অন্নপুর্ণা-৪ এ উঠার যে কথা বলা হচ্ছে, সেখানে নাকী মুসা উঠেনি।
মুসার সহযাত্রী একজন একথা স্বীকার করে পত্রিকায় লেখাও লিখেছিলেন। আর প্রমান হিসাবে মুসা যা দিয়েছিলেন তাতেও ছিল ভেজাল। তার উঠার রেকর্ড ১৩ জুলাই হলেও, প্রথম আলোতে তখন যে ছবিটা ছাপানো হয়েছিলো সেটাতে ছিল ১৪ জুলাই লেখা। তাছাড়া শারীরিক ভাবে মুসা অসুস্থ। তাকে নিয়মিত ইনহেলার নিতে হয়।
বেশী পরিশ্রম তার পক্ষে সম্ভব হয়না। তাই ওদের মধ্যে অনেকেই এটা বিশ্বাস করতে পারছেনা। ওরা চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় আছে। মুসাকে বেসক্যাম্পের সার্টিফিকেট দিয়ে প্রমাণ করতে হবে তার সফলতা।
শুনে আমি থ হয়ে যাই।
একবার ভাবুন, যদি এটাও মিথ্যে হয়, তাহলে কি হবে? আমাদের মাথা কতটা হেট হয়ে যাবে! এখন পর্যন্ত কনফার্ম কোন খবর পাওয়া যায়নি। বিছিন্ন সুত্রে পাওয়া খবর নিয়েই মাতামাতি চলছে। সত্য হলে এটা আমাদের জন্য গৌরব। কিন্তু মিথ্যে হলে? আসুন প্রার্থনা করি, মুসা যেন সত্য হয়েই ফিরে আসেন। আমরা যেন মিথ্যে হয়ে না যাই।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।