এক-এগারোর ষড়যন্ত্রে তত্কালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের সঙ্গে বাংলাদেশে জাতিসংঘের বিদায়ী আবাসিক সমন্বয়কারী ও ইউএনডিপির প্রতিনিধি রেনাটা লক ডেসালিয়ান সরাসরি জড়িত ছিলেন। রেনাটা ও জাতিসংঘের একজন আন্ডার সেক্রেটারির সহযোগিতা নিয়েই জেনারেল মইনসহ কতিপয় উচ্চাভিলাষী সেনা কর্মকর্তা জাতিসংঘ মহাসচিবের বিবৃতিতে পরিবর্তন এনে এবং টেলিফোনের ঘটনা সাজিয়ে গোটা সেনাবাহিনীকে বিভ্রান্ত করেছিলেন। জাতিসংঘের চিঠির দোহাই দিয়ে রাষ্ট্রপতিসহ দায়িত্বশীলদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং তাদের ব্ল্যাকমেইল করেছিলেন।
রেনাটা শনিবার বার্তা সংস্থা ইউএনবিসহ একাধিক মিডিয়ার সঙ্গে দেয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারির দিনে কিংবা তার আগে কখনও জাতিসংঘের তরফ থেকে বলা হয়নি, তখনকার পরিস্থিতিতে ২২ জানুয়ারি নির্বাচনে সেনাবাহিনী কোনো ভূমিকা রাখলে জাতিসংঘ শান্তি মিশন থেকে বাংলাদেশের সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওই সময় শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশী সৈন্য প্রত্যাহার নিয়ে কোনো আলোচনা কখনও হয়নি।
অথচ জেনারেল মইন জরুরি অবস্থা জারির জন্য সেদিন সবচেয়ে মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ‘জাতিসংঘ শান্তি মিশন থেকে সেনাসদস্যদের ফিরিয়ে দেয়া হবে’ এই হুমকি দিয়ে আন্ডার সেক্রেটারির সঙ্গে তার টেলিফোনিক সংলাপ ও রেনাটার প্রকাশিত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিবৃতির প্রচার চালিয়েই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে সফল হয়েছিলেন। অথচ রেনাটা এখন বেমালুম সেগুলো চেপে যাচ্ছেন।
এক-এগারোর জরুরি সরকারের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনকারী বিবিসিখ্যাত প্রবীণ সাংবাদিক আতাউস সামাদ, ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট গ্রুপের (এনআইজি) প্রধান সমন্বয়কারী ও বর্তমানে আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান এবং নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর শনিবার দেয়া রেনাটার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, এখন জাতিসংঘকেই স্পষ্ট করতে হবে, আসলে তখন তারা কী বিবৃতি দিয়েছিল, রেনাটার বক্তব্য কতটুকু সত্য। রেনাটার বক্তব্য সত্য না হলে জেনারেল মইনকে জবাব দিতে হবে মিথ্যা চিঠি ও বক্তব্য হাজির করে বিভ্রান্ত ও ব্লাকমেইল তিনি কেন করেছিলেন। মাহমুদুর রহমান ও নূরুল কবীর জানিয়েছেন, জরুরি সরকারের আমলেই তারা পৃথকভাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের দু’ধরনের বিবৃতির ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন।
কিন্তু কেউ জবাব দেননি, মুখ খোলেননি। যাওয়ার আগে রেনাটা কেন একথা বলছেন, তার ব্যাখ্যা তাকেই দিতে হবে।
তত্কালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন জরুরি সরকারের শেষদিকে প্রকাশিত তার লেখা ‘শান্তির স্বপ্নে সময়ের স্মৃতিচারণ’ বইয়ে ওয়ান-ইলেভেন চ্যাপ্টারে (পৃষ্ঠা ৩২৩) জেনারেল মইন নিজের জবানিতে লিখেছেন, ‘প্রথমে খবর ও পরে জাতিসংঘ সদর দফতর থেকে টেলিফোন পেলাম। আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মি. গুইহিনো কোনোরকম ভনিতা না করেই জানাল, সব দলের অংশগ্রহণ ব্যতীত নির্বাচন তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এরকম একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যদি ভূমিকা রাখে তাহলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।
’ ‘...দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও জাতিসংঘের মনোভাব নিয়ে আমি নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানের সঙ্গেও কথা বললাম। তারাও সবাই একমত হলো রাষ্ট্রের এই পরিস্থিতি মহামান্য প্রেসিডেন্টকে অবগত করে তার দিক-নির্দেশনা চাওয়া প্রয়োজন। ’ ‘...আমি ভাবতে চেষ্টা করলাম অযাচিত এই অনুরোধ করার পর রাষ্ট্রপতি কি প্রতিক্রিয়া দেখাবেন। আমাদের অনুরোধকে বিদ্রোহ ভেবে বা রাষ্ট্রপরিচালনায় হস্তক্ষেপ করছি বিবেচনা করে ক্রোধান্বিত হয়ে তিনি নিরাপত্তাকর্মীদের দিয়ে আমাদের গ্রেফতার করতে পারেন, এমনকি তার জীবনের প্রতি হুমকি বিবেচনায় হত্যার নির্দেশও দিতে পারেন, সেনাপ্রধানের পদ থেকে আমাকে সরিয়ে দিতে পারেন, জটিল এ পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে তিনি অসুস্থতার ভান করতে পারেন কিংবা হয়তো মানসিক চাপের কারণে সত্যিই তিনি অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। ’ জেনারেল মইনের এই বর্ণনাতে আর বলার অপেক্ষা রাখে না জাতিসংঘের শান্তি মিশন থেকে বাংলাদেশের সেনাসদস্যদের চাকরি খোয়ানোর বিষয়টিকে সেদিন তিনি জরুরি অবস্থা জারির জন্য মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।
দীর্ঘদিন পরে হলেও রেনাটা লক ডেসালিয়ান জেনারেল মইনের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলেন।
ইউএনবিকে রেনাটা আরও বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব বা কোনো স্টাফ যখন কোনো বিবৃতি দেন, তা ইস্যুর আগেই সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের কাছে পাঠিয়ে দেন। এটাই আন্তর্জাতিক নিয়ম। কিন্তু জেনারেল মইনের ভাষ্য অনুযায়ী জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মি. গুইহিনো তাকে যে খবর জানিয়েছিলেন তা তত্কালীন সরকারপ্রধান ড. ইয়াজউদ্দিন কিংবা অন্য কারও জানা ছিল না। যা হওয়ার কথা নয়।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মাধ্যমে যে পটপরিবর্তন হয়েছিল সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে রেনাটা তখনই জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার ঠিক আগে জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষে তার একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশের মধ্য দিয়ে। সেখানে ২২ জানুয়ারির ঘোষিত নির্বাচন সম্পর্কে বলা হয়েছিল সব দল অংশগ্রহণ না করলে সেটা গ্রহণযোগ্য বা বৈধ বলে গণ্য করা হবে না। এতে সেনাবাহিনীর প্রতি হুশিয়ারি ছিল যদি সেনাবাহিনী ‘অবৈধ’ সেই নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করে তাহলে আগামীদিনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জাতিসংঘ মিশনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে ‘খবর’ আছে। যদিও পরবর্তীতে ওয়েবসাইটে পাওয়া কপিতে দেখা যায় জাতিসংঘ মহাসচিবের নামে ইস্যু করা মূল কপিতে এ অংশটুকু ছিল না। এতে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে শান্তি সেনা হিসেবে ভাড়ায় নেবে না বলে হুমকি দিয়ে তাদের দিয়ে বাংলাদেশে সংবিধানবিরোধী কাজ করার শর্ত তৈরি করে দিয়েছিলেন রেনাটা লক ডেসালিয়ান।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এ জাতীয় হুশিয়ারি দিয়ে বিবৃতি তৈরির পেছনে রেনাটার সঙ্গে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের তত্কালীন স্থায়ী প্রতিনিধি ও পরবর্তীতে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকারী ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর সম্পৃক্ততারও অভিযোগ উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে।
আতাউস সামাদ : প্রখ্যাত সাংবাদিক আতাউস সামাদ এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে আরও বলেছেন, তখন সশস্ত্র বাহিনীর রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া এবং দেশ শাসনে অঘোষিত দায়িত্ব নেয়া আইনবিরুদ্ধ এবং তাদের পেশার কোড অব অনারের বিরুদ্ধাচারণ হয়েছে। দ্বিতীয়ত, এক-এগারোর ঘটনায় বিদেশিদের হস্তক্ষেপ প্রমাণিত। যেটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতারা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বিদেশিদের মাথায় তুলে রাখেন বলেই তারা আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনৈতিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ করে।
আমাদের সমাজের ওপরতলার লোকদের দাসত্বমূলক মনোভাবের কারণে রাজনৈতিক দলগুলো বিশ্বাস করা শুরু করেছে বিদেশিদের সাহায্য ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়া যাবে না। কাজেই জনগণের ভোট নিয়েও তারা মেরুদণ্ডহীন থেকে যায়। তৃতীয়ত, রেনাটা তাদের অপকর্মের ছুঁতা খুঁজতে গিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের লোকরাই তাদের কাছে গিয়ে সহায়তা কামনা করেছে। তখনকার ভোটার লিস্টে দেড় কোটি ভুয়া ভোটার আছে বলে তিনি যে কথা বলেছেন তা অর্ধসত্য। প্রথমত, এই দেড় কোটির মধ্যে বেশকিছু এসেছে আগের শাসনামলের ভোটার তালিকা থেকে।
এনডিআই বলেছিল ২০০০ সালে আওয়ামী লীগ শাসনামলে করা তালিকায় ৬৪ লাখ ভুয়া ভোটার ছিল। এছড়া ওই তালিকার মৃত ভোটারদেরও নাম খারিজ করা হয়নি। বিচারপতি এমএ আজিজের নির্বাচন কমিশন এ অবস্থায় নতুন ভোটার তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতারা হাইকোর্টে মামলা করলে প্রথমে হাইকোর্ট ও পরে আপিল বিভাগ থেকে রায় দেয়া হয় আগের তালিকাই হালনাগাদ করতে হবে, নতুন তালিকা করা যাবে না। এসব জটিলতার কারণে তালিকায় অনেক বাড়তি নাম ছিল।
লক্ষণীয় বিষয় পরবর্তীতে জরুরি শাসনামলে নির্বাচন কমিশন যখন ছবিসহ নতুন তালিকা করার সিদ্ধান্ত নেয়, কেউ তখন আর উচ্চবাচ্য করেনি।
মাহমুদুর রহমান : ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট গ্রুপের (এনআইজি) সমন্বয়কারী ও আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, আমি দুঃখিত যে ইউএনডিপি’র বিদায়ী প্রধান রেনাটা বাংলাদেশ থেকে তার বিদায়ের সময়ও স্বচ্ছতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হলেন। এক-এগারোর সময় তার ভূমিকা কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত ও রহস্যময় ছিল। দেশবাসীর স্মরণে থাকার কথা, সে সময় জাতিসংঘ মহাসচিবের বরাতে নিউইয়র্ক থেকে যে বিবৃতি প্রকাশিত এবং ইউএনডিপি’র ঢাকা অফিস থেকে আবাসিক সমন্বয়কারী রেনাটা লক ডেসালিয়ান মহাসচিবের বক্তব্য হিসেবে যে প্রেস রিলিজ পাঠিয়েছিলেন তার মধ্যে বিশাল ফারাক ছিল। ঢাকা থেকে প্রকাশিত বক্তব্যে পরিষ্কারভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জরুরি অবস্থা জারির জন্য প্ররোচিত করা হয়েছিল এবং তাদের ভূমিকার সঙ্গে জাতিসংঘ মিশনের চাকরির সম্পৃক্ততা করা হয়েছিল।
ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট গ্রুপের সমন্বয়কারী হিসেবে গ্রুপের পক্ষ থেকে আমি রেনাটাকে সে সময় এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে প্রকৃত সত্য জানতে চেয়েছিলাম নিউইয়র্ক ও ঢাকার বিবৃতির মধ্যে কোনটি সঠিক? চিঠির অনুলিপি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ প্রধান কার্যালয় ও ঢাকায় তত্কালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. ইফতেখারের কাছেও পাঠানো হয়েছি। কিন্তু রেনাটা সে চিঠির জবাব দেয়ার সৌজন্যটুকুও দেখাননি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইউএনডিপির এই বিদায়ী প্রধানের দায়িত্বপালনের সময়টুকু ইউএনডিপির জন্য একটি বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত হবে।
নূরুল কবীর : নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, রেনাটা লক ডেসালিয়ান বাংলাদেশের অনেক ক্ষতি করেছেন। গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
জরুরি অবস্থা চলার সময়ই তিনি তার এক বসকে নিয়ে নিউ এজ অফিসে এলে দু’টি বিবৃতির কপি তাদের সামনে হাজির করে কোনটি সত্য—এ ব্যাপারে তাদের বক্তব্য চাওয়া হলেও তারা তখন নীরব ছিলেন। রেনাটার সর্বশেষ বক্তব্য সত্য কিনা জাতিসংঘকেই এটা স্পষ্ট করতে হবে। তাদের বলতে হবে একটি সদস্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা ও তাদের প্রতিনিধি কেন নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ করেছিলেন। আসল ঘটনা কী ঘটেছিল। তিনি বলেন, জাতিসংঘের নাম ভাঙিয়েও রেনাটার ইস্যু করা চিঠি দিয়েই সে মুহূর্তে পুরো সেনাবাহিনীকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল।
জাতিসংঘকে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিলেন রেনাটা ও মইন গংরা। রেনাটাকে তার দায়িত্ব এড়িয়ে গেলে যেমন চলবে না, তেমনি জেনারেল মইনকেও জবাব দিতে হবে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশী সৈন্যদের যাওয়া ও রুটিরুজি বন্ধ হওয়ার গল্প তিনি কোথা থেকে ফেঁদেছিলেন। কারা এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত তা দেশবাসীর কাছে তাদের একদিন না একদিন স্পষ্ট করতেই হবে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।