গাজীপুরে রোববার নিজের ভিটে-বাড়ি জবরদখলে বাধা দেয়ায় সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে খুন করেছে এক বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাকে। এ সময় সন্ত্রাসীরা ওই মুক্তিযোদ্ধার বসতঘরসহ রান্নাঘর ও খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন মালামাল ভাংচুর ও লুট করে। সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ চারজন আহত হয়েছেন। এলাকাবাসী ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই ভাড়াটে সন্ত্রাসীকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। নিহত মুক্তিযোদ্ধার নাম আবদুল করিম (৭০)।
তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার সারদাগঞ্জ গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে এলাকার কাশিমপুর-শ্রীপুর সড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, গাজীপুর সদর উপজেলার সারদাগঞ্জ এলাকার মালেক কাজীর সঙ্গে সাড়ে ১৬ শতাংশ জমি নিয়ে আবদুল করিমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। নিহতের ছেলে আলী হোসেন ও তারা মিয়া জানান, রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির লোকজন খাবার খাচ্ছিল। এ সময় মালেক কাজীর নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশত সন্ত্রাসী কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে বাড়ি-ভিটে দখল করতে পিস্তল ও দেশি অস্ত্র নিয়ে আবদুল করিমের বাড়িতে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা বাড়ির লোকজনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। বাড়ি ও দোকান ভাংচুর এবং লুটপাট চালায়। এ সময় তারা ২টি বসতঘর, একটি রান্নাঘর ও একটি খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে রান্নাঘর ও খড়ের গাদা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। ঘটনার সময় বাধা দিলে হামলাকারীরা বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা আবদুল করিমকে মারধর করে।
এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এছাড়াও হামলাকারীদের মারধরে মহিলাসহ পরিবারের চারজন আহত হন। আহতরা হলেন নিহতের স্ত্রী তারা বানু (৫০), ছেলে আলী হোসেন (৩৫) ও আবু বকর (২০) এবং পুত্রবধূ ফাতেমা বেগম (২৫)। আহতদের চিত্কারে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে ঘটনায় জড়িত দুই সন্ত্রাসী রুহুল আমিন (২৪) ও আবুল কাশেমকে (৩২) আটক করে গণধোলাই দেয়। সংবাদ পেয়ে চক্রবর্তী ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটক দুজনকে উদ্ধার করে।
ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মাজহার জানান, আটকরা ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে এসেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এদের মধ্যে রুহুল আমীন রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার ছোট ঝিনিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং আবুল কাসেম স্থানীয় মৃত জব্বারের ছেলে।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান জানান, নিহত আবদুল করিম ’৭১-এ তিন নম্বর সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বর্তমানে অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন।
আহত আলী হোসেন জানান, সন্ত্রাসীরা এর আগেও আবদুল করিমকে মারধর করে ঘরে আগুন ধরিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করেছিল।
এসব ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বিকালে গাজীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।