জনকণ্ঠ ১৯ েফব্রুয়ারি পর্নোগ্রাফির স্টল! একাডেমীর লজ্জা দিন একাডেমীর ইতিহাসে লজ্জা শব্দটি যুক্ত হলো। কারণ তাদের হাত দিয়েই একাডেমীর মূল চত্বরে স্টল পেয়েছে পর্নোগ্রাফির সাপস্নাইয়ার যৌবনযাত্রা। যা সচেতন মহলের অনুভূতিতে বেশ আঘাত করেছে। তবে একাডেমীর কাছ থেকে স্বচ্ছ কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভাষার মাস একুশ।
এই পবিত্র মাসে বাঙালীর গর্বের ও অহঙ্কারের অনুভূতিতে আবারও আঘাত হানল জামায়াত-শিবিরের অঙ্গ সংগঠন যৌবনযাত্রা ফোরাম। তারা পর্নোগ্রাফির স্টল দিয়ে বসেছে অমর একুশের বইমেলায়। বাংলা একাডেমীর চার দেয়ালের ভেতরেই তারা স্টল বরাদ্দ পেয়েছে। যৌবনযাত্রা শিরোনামে ৩০৬ নম্বর স্টলটি থেকে তারা পর্নোগ্রাফির সিডি বিক্রি করছে। 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই' এই শিরোনাম ব্যবহার করে তারা টিনএজ সদস্য সংগ্রহ করছে, যৌবনযাত্রার ওয়েব সাইট নম্বরটি দিয়ে দিচ্ছে।
যৌবনযাত্রার ওয়েব সাইটে ঢুকে দেখা গেছে বাঙালী টিনএজ ও তরম্নণী মেয়েদের নগ্ন ও অর্ধনগ্ন হাজার হাজার স্টিল ছবি এবং কুরম্নচিপূর্ণ মনত্মব্যে ঠাসা। দেশের কোটি কোটি মানুষ ও বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের এই অনুভূতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা হাজার হাজার যুবকের জীবনবৃত্তানত্ম সংগ্রহ করেছে। যুব সমাজের ধ্বংস তো অবশ্যই, এ ছাড়া আর কি কি উদ্দেশ্যে তারা এ কাজটি করছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। বাঙালীর মেধা ও মননের প্রতীক বাংলা একাডেমী কিভাবে জামায়াতী এই সংগঠনকে স্টল বরাদ্দ দিল, তা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেরই ধারণা বাংলা একাডেমীর ভেতরেই ঘাপটি মেরে আছে জামায়াতী লোকজন।
এ বিষয়ে একাডেমীর মহাপরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টি তেমনভাবে আমলে না নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, টাস্কফোর্সকে বলে দিয়েছি তারা ব্যবস্থা নেবে। তবে রাত অবধি স্টলটি বিষয়ে টাস্কফোর্স বা একাডেমী কেউই কোন ডিসিশন নেয়নি।
জনকণ্ঠ ২০ ফেব্রুয়ারি পর্নোগ্রাফির স্টল
বাংলা একাডেমীর গর্ব ও অহঙ্কারকে ধুলায় মিশিয়ে দিল যে পর্নোগ্রাফির স্টল, তা নিয়ে এখনও কোন সিদ্ধানত্মে আসতে পারেনি একাডেমী। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই_ বাঙালীর এই সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করে জামায়াত-শিবিরের সংগঠন যৌবনযাত্রার স্টলে শুক্রবার কাউকে দেখা না গেলেও স্টলে যৌবনযাত্রার ব্যানারটি লাগানো ছিল। এতেই সেই সংগঠনের পারপাস সার্ভ হতে দেখা গেছে শুক্রবার।
কারণ শুক্রবারের প্রতিটি পত্রিকায় পর্নোগ্রাফির এই স্টলের খবর ছাপা হওয়ায় এদিন টিনএজারদের দেখা গেছে সেই ব্যানার থেকে যৌবনযাত্রার ওয়েব সাইটের নম্বরটি টুকে নিচ্ছে। এদিন এ স্টলে যৌবনযাত্রার কাউকে দেখা যায়নি, অন্যপ্রকাশের বই বিক্রি করতে দেখা গেছে এই স্টলে। যে বই বিক্রি করছিল, সে অন্যপ্রকাশের কেউ কিনা জানা যায়নি, তবে সব বই-ই ছিল অন্যপ্রকাশের। পর্নোগ্রাফির এই স্টলটি প্রসঙ্গে মেলা কমিটির সদস্য সচিব সাহিদা বেগম বলেন, যৌবনযাত্রা ফোরাম দাবি করেছে ,এটা সাবোটাজ। তাঁদের ওয়েব সাইটে কেউ পর্নোগ্রাফির এসব স্টিল ঢুকিয়ে দিয়েছে।
তারা মুক্তিযুদ্ধের পৰের একটি সংগঠন বলেও দাবি করছে। তাদের দাবি নয়, আপনাদের বক্তব্য বলুন? এর জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই- এর পৰে জনমত গঠন করবে বলেই আমরা তাদের স্টল দিয়েছি। যৌবনযাত্রা নামটি কি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই অনুভূতির সঙ্গে যায়? এর জবাবে তিনি বলেন, তা যায় না । তবে আমরা এই স্টল যে ফোরামের তাদের সঙ্গে আজকালের মধ্যেই বসব, তখন সিদ্ধানত্ম নেব। তিনি আবারও বলেন, তারা বলেছে , তারা সাবোটাজের শিকার।
শীঘ্রই তারা তাদের ওয়েব সাইট আপডেট করবে। এ বিষয়ে যৌবনযাত্রা একটি প্রতিবাদও পাঠিয়েছে । কিন্তু প্রতিবাদলিপিতে কোথাও লেখেনি যে , তাদের ওয়েব সাইটে কোন নগ্ন ছবি ছিল না। এখন সহজেই বোঝা যাচ্ছে, যৌবনযাত্রা তাদের কার্যসিদ্ধির জন্য ওয়েব সাইট আপডেট করে বাংলা একাডেমীর সঙ্গে আলোচনায় বসবে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।