আমি আমার পৃথিবীর রাজা
খন্ড এক.
রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন কবি মাত্রই উচিত ৫ (পাঁচ) বছর কবিত্ব করতে হবে। একটা দিক দিয়ে কথাটা আমি মানি। আমি মনে করি কবির কবিত্ব কাল খুব অল্পই হওয়া উচিত। আর এই অল্প সময়ের মাঝেই সে উৎকৃষ্ট মানের কবিতাগুলো রচনা করবে। সেটা তার জীবনের সেরা সময়ই হোক আর সারা জীবন চেষ্টা চরিত্র করেই অর্জন করে হোক।
কবির কবিতা যদি অতিরিক্ত পরিমাণ বেশী হয়ে যায় তবে সেই কবির কবিত্ব শক্তির পুনরাগমন ঘটতে পারে বলে মনে করেই হয়তো রবীন্দ্রনাথ এই কথাটা বলেছিলেন। এবং তাঁর কথাটা তাঁর নিজের ক্ষেত্রেই সত্যিতে পরিণত হয়েছে। আংশিক ভাবে পরিণত হয়েছে জীবনানন্দের বেলায়ও। আর আমাদের কালের প্রয়াত কবি শামসুর রাহমানের ক্ষেত্রেও তা স্পষ্ট হতে বাদ যায় নি। এই বিষয়গুলো আমাদের চোখের সামনে ধরা পড়ে কিভাবে? ধরা পড়ে সমগ্র রচনার দিকে বীক্ষণ দৃষ্টি দিলেই।
কারণ কবির জীবনই কবিতায় পর্যবষিত হয়। কবি তার দেখা জীবন ঘটনাকে একবার বর্ণনা করেই সে তৃপ্তি পায় না। মনে করে তার এর আরো বর্ণনা বা বিশেষ ভাবে উপস্থাপন করার প্রয়োজন। এই প্রয়োজনের কথা মনে করেই পরবর্তিতে কবিতা লিখতে চেষ্টা করে। কিন্তু সেই কবিতার মত তো হয়ই না, বরংচ আরো বিভৎস রূপ ধারণ করে।
খন্ড দুই.
যখন আমি নগ্ন হই
তখন আমি কবি
বাৎসায়ন ২৪
আমি মনে করি প্রত্যেক কবিই তার পাঠকের কাছে একেবারে নগ্ন হয়ে ধরা দেয়। মূলত কবি মাত্রই নগ্ন। এই নগ্নতা পাঠক কবির কবিতার মাঝ দিয়ে দেখতে পায়। কবিতা আর কবি তখন পাঠকের কাছে একই রূপে ধরা দেয়। পাঠক কবিতার শরীর ছুয়ে কবির সত্ত্বাকে ছুয়।
সেই সত্ত্বার মাঝ দিয়ে ছুয় কবির রচিত অভিজ্ঞতার পৃথিবী। পাঠক যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে সেই অভিজ্ঞতাকে তার ব্যক্তি শিল্পায়নে ধরতে না পারে সেই অভিজ্ঞতার শৈল্পিক উপস্থাপন কবির কবিতায় পায়। এবং এক এক করে কবিতা পাঠকের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে সার্বজনিন ভাবে। এই সার্বজনিন সম্পর্কের মাঝে কবি এক একক সত্ত্বার রূপ। আর কবিতা তার শ্রেষ্ঠ প্রকৃতি।
খন্ড তিন.
মূলত কবিতা প্রকৃতির সন্তান। প্রকৃতির বীর্য কবি তার গর্ভে ধারণ করে কবি তাকে একটা পূর্ণতার দিকে ধাবিত করে। এক সময় তার জন্ম দান করে। এই গর্ভ ধারণ কবি সামাজিক বা অসামাজিক ভাবে যে কোন উপায়ে ধারণ করতে পারে। তবে এই ধারণ করা যেন অবশ্যই কবির নিজস্বতাকে ছাপিয়ে যেতে পারার ক্ষমতা রাখে।
তার নয়তো কবিতা হয়ে উঠবে অর্থহীন। যদিও কবিতার সাথে কবির সংসার দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও। কবি তখন প্রকৃতই ব্যর্থ। সমাজের অশ্লীল মানুষগুলোর জন্য যেমন মানুষ তার সমাজকে দায়ী না করে তাদের পিতা-মাতাকে। ঠিক তেমনই এই বিষয়টাও।
খন্ড চার.
আসুন এবার আমরা একটা কবিতা পড়ি। তারপর বুঝি কবিতা কিভাবে কবিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। বা ছাড়ানোর চেষ্টা করে।
মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়
-বিনয় মজুমদার
রিউমার ছড়ালো ক্যাম্পাসেÑ
আমার নাকি প্রেম হয়েছে!
খবরটা শুনে আমার তো বেশ ফিলিংস হলো,
এই প্রথমবারের মতো আমাকে জড়িয়ে ধরেছে অশ্বত্থ গাছ
হাঁটার মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে নৈঃশব্দের সবটুকু লাল
এবার যে কেউ এসে আমাকে গুলি করুক
কেননা মানুষ মরে গেলে কাছে আসে প্রকৃত মরাল।
রিউমার/ জাকির জাফরান / সমুদ্র পৃষ্ঠা
এই কবিতাটাকে আমার কবিতা মনে হয় নি।
মনে হয়েছে পরগাছা। এই কবিতাটা সৃষ্টির পূর্বে একজন কবির সারা জীবনের তপস্যার সম্পদকে কবিতার দ্বার খুলার চাবি করে যে কবিতাটি কবি রচনা করেছেন তার মাঝে নতুন কিছু তিনি দিতে পারেন নি। দিয়েছেন সরলতা মিশ্রিত একটি বাক্য। অথচ একই বিষয়বস্তুকে ধারণ করে আরো ভালো কবিতার সৃষ্টি হতে পারতো। এবং তা পরগাছা হতো না।
হতো নতুন সৃষ্টি। আধুনিক তবে নিকট অতীতের একটা দর্শন কে (বিনয় মজুমদারের ঐ বাক্যটিকে একটি আমি দর্শনই বলব) পূর্বে যেভাবে আমাদের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে, সেই ব্যক্তি বা অন্য কেউ যদি একই দর্শন কে আবারও পাঠকের সামনে তুলে ধরতে চায় তবে আমাদের আরো নতুন ও আরো আধুনিক ভাবে তা উপস্থাপন করা জরুরি বলে মনে করি। সেই উপস্থাপনার ভাষা আঙ্গিক হবে আঁধার রাতের বাতির মতো। কিন্তু তা এই কবিতাটায় হলো কই! এই কবিতায় কবি নিজে বিনয়ের দর্শন থেকে বের হতে পারেন নি। পারেন নি বিনয়ের সৃষ্ট দর্শন কে ছাড়িয়ে যেতে।
যার কারণেই এই লেখাটাকে আমার কবিতা মনে হয় নি। যদিও এখানে কবি পাঠকের সামনে পূর্বজ বক্তব্যের মত নগ্ন হয়েই উপস্থিত হয়েছেন। কিন্তু আমরা জানি এই নগ্নতা আমাদের কাছে টানে না। যেমন অর্ধ নগ্ন নারী শরীরের চাইতে কাছে টানে না পুরো নগ্ন শরীর।
খন্ড পাঁচ.
আমি মূলত কবিতা নিয়ে খুব বেশী নারাচারা করতে পছন্দ করি না।
কবিতাকে আমি তার নিজের মত চলতে দিতে পছন্দ করি। আমার কখনই মনে হয় না কবিতাকে নিয়ে অপারেশন টেবিলে যাবার প্রয়োজন আছে। তার কারণ কবিতা মানুষের শরীর না। আর কবিও সার্জারির ডাক্তার না। ফলে যারা চাকু ছুড়ি নিয়ে সার্জারি টেবিলে কবিতানে নিয়ে বসে অথবা যারা ক্যালকুলেটর নিয়ে গণিতের হিসাবের মত কবিতাকে দেখে তাদের দ্বারা কবিতা হবে না।
কারণ হিসাব নিকাশ করে বাণিজ্য হয়। ভাবের আদান প্রদান করা সম্ভব নয়।
খন্ড ছয়.
আমার কবিতাকে আমি আমার এই পথ দেখিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। বলেছি তোমার ভালো মন্দ যা খুশি করে যাও। তা সম্পূর্ণই তোমার।
আমাকে তুমি যেভাবে চলতে বলবে আমি বাবা তাতেই রাজি। যার কারণে আমার কবিতা আমার মতই বা আমি আমার কবিতার মতই।
খন্ড সাত.
এবার একটা গল্প শোনাই। কবিতার গল্প। একটা মানুষ প্রায়শই বন দেখে।
বন দেখে দেখে তার বনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। সে মনে করে বন মানুষের প্রকৃত বন্ধু। তবে মানুষ বনের কখনই প্রকৃত বন্ধু হতে পারে নি (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া)। যার কারণে বনের অযতœ অবহেলায় তার ভেতর একটা অত্যন্ত কষ্ট অনুভব হয়। সে মনে করে বনের গাছগুলো যেমন মানুষের সাথে বন্ধুর মত আচরণ করছে, মানুষও সেই একই রকম ভাবে বনের মত হয়ে যায় মানুষের নিজস্ব একান্ত পৃথিবীতে।
আর সে একান্ত ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে মানুষ আর বৃক্ষ একই সম চেহারার অধিকারী। আর সেই অনুভব থেকে জন্ম নেয় তার একটা কবিতা। এবার আসুন সেই কবিতাটা পড়ি।
বনে যাবেন? যান। ভাওয়াল, মধুপুর অথবা সুন্দরবন।
দাড়ান বন শব্দের মানে জানেন তো? বন শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ? তাও জানেন না? বন মানে বন। মন এর প্রাকৃত রূপ।
আসেন। আসেন, মামা, চাচি, খালারা, বইনেরা,
এইটা হলো আমার কবিতার বয়ান। এরচেয়ে বেশী বলে আমি আর বুদ্ধিজীবী সাজতে চাই না।
তার চেয়ে বরং আমরা আরো একটা কবিতা পড়ি।
এ বিধি লাগে না ভালো : জন্মলজ্জা ফেলে দিতে
কাঁদিবার কথা
এ বড় রহস্যকথা সান্দ্রকথা আমি তার বুঝি নাতো সার
আমার সঙ্গীরা বলো
কাহার গলায় ধরে বলি আজ জননী জননী
এত যে ঘুরেছি ভূমি তবু আমি জীবন চিনি না
জন্মলজ্জা / মোস্তাক আহমাদ দীন / কথা ও হাড়ের বেদনা
এই রচনাটাকে আমার কবিতা মনে হয়। আমার এই দর্শন (দৃষ্টি ভঙ্গি গত ভাব) কোন আপ্ত বাক্য হোক এটা আমি চাই না। তবে সার কথা হলো আমি, আপনি আর অমুক তমুক যে যতই বলুকনা যে কবিতা এই কবিতা সেই কবিতা তার নিজের গতি অনুসারেই চলবে।
খন্ড আট.
আসলে আমাদের যে বিষয়টা বুঝা অতি জরুরী যে, রবীন্দ্রনাথের পর কবিতার পরিবর্তনের যে নব রূপায়ন শুরু হয়েছিলো তার একজন কবির মাত্র দর্শন ছিলো ইউরোপিয়।
কিন্তু সে কবিও শেষ পর্যন্ত বাংলার নিজস্ব দর্শনে ফিরে এসেছে বলেই শেষ পর্যন্ত তিনি রূপসি বাংলার কবি। আর সা¤প্রতিক সময়ে আমাদের ঘারে যে উত্তর আধুনিকতা নামে অপ-দর্শন নিঃশ্বাস ফেলছে সেই দর্শনের বাইরে গিয়ে নিজেদের স্বরূপ উন্মোচনের এই সময়ে এসে আমাদের লৌকিক দর্শন গুলোর উপরই নির্ভর করতে হবে। সেটা হচ্ছে শুদ্ধতার দর্শন। এই দর্শনেরই চর্চা করেছে মাইকেল-রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দ। আমাদের এখন সেই দর্শনের কাঠামোটা বোঝা উচিত।
কিন্তু সেই দর্শনের জন্য চাই সজিব মানুষ। কিন্তু আবুল হাসান যে মুখস্ত মানুষগুলো আমাদের চোখের সামনে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন তাদের দ্বারা এই সজিবতা গ্রহণ সম্ভব নয়। আর তাই কবিতার জন্যই আত্ম সুদ্ধির মাধ্যমে সজিব হতে হবে। আসুন আমরা সজিব হই, আর আরো ভালো ভালো কবিতা লিখি।
খন্ড দুই.
যখন আমি নগ্ন হই
তখন আমি কবি
বাৎসায়ন ২৪
আমি মনে করি প্রত্যেক কবিই তার পাঠকের কাছে একেবারে নগ্ন হয়ে ধরা দেয়।
মূলত কবি মাত্রই নগ্ন। এই নগ্নতা পাঠক কবির কবিতার মাঝ দিয়ে দেখতে পায়। কবিতা আর কবি তখন পাঠকের কাছে একই রূপে ধরা দেয়। পাঠক কবিতার শরীর ছুয়ে কবির সত্ত্বাকে ছুয়। সেই সত্ত্বার মাঝ দিয়ে ছুয় কবির রচিত অভিজ্ঞতার পৃথিবী।
পাঠক যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে সেই অভিজ্ঞতাকে তার ব্যক্তি শিল্পায়নে ধরতে না পারে সেই অভিজ্ঞতার শৈল্পিক উপস্থাপন কবির কবিতায় পায়। এবং এক এক করে কবিতা পাঠকের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে সার্বজনিন ভাবে। এই সার্বজনিন সম্পর্কের মাঝে কবি এক একক সত্ত্বার রূপ। আর কবিতা তার শ্রেষ্ঠ প্রকৃতি।
খন্ড তিন.
মূলত কবিতা প্রকৃতির সন্তান।
প্রকৃতির বীর্য কবি তার গর্ভে ধারণ করে কবি তাকে একটা পূর্ণতার দিকে ধাবিত করে। এক সময় তার জন্ম দান করে। এই গর্ভ ধারণ কবি সামাজিক বা অসামাজিক ভাবে যে কোন উপায়ে ধারণ করতে পারে। তবে এই ধারণ করা যেন অবশ্যই কবির নিজস্বতাকে ছাপিয়ে যেতে পারার ক্ষমতা রাখে। তার নয়তো কবিতা হয়ে উঠবে অর্থহীন।
যদিও কবিতার সাথে কবির সংসার দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও। কবি তখন প্রকৃতই ব্যর্থ। সমাজের অশ্লীল মানুষগুলোর জন্য যেমন মানুষ তার সমাজকে দায়ী না করে তাদের পিতা-মাতাকে। ঠিক তেমনই এই বিষয়টাও।
খন্ড চার.
আসুন এবার আমরা একটা কবিতা পড়ি।
তারপর বুঝি কবিতা কিভাবে কবিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। বা ছাড়ানোর চেষ্টা করে।
মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়
-বিনয় মজুমদার
রিউমার ছড়ালো ক্যাম্পাসেÑ
আমার নাকি প্রেম হয়েছে!
খবরটা শুনে আমার তো বেশ ফিলিংস হলো,
এই প্রথমবারের মতো আমাকে জড়িয়ে ধরেছে অশ্বত্থ গাছ
হাঁটার মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে নৈঃশব্দের সবটুকু লাল
এবার যে কেউ এসে আমাকে গুলি করুক
কেননা মানুষ মরে গেলে কাছে আসে প্রকৃত মরাল।
রিউমার/ জাকির জাফরান / সমুদ্র পৃষ্ঠা
এই কবিতাটাকে আমার কবিতা মনে হয় নি। মনে হয়েছে পরগাছা।
এই কবিতাটা সৃষ্টির পূর্বে একজন কবির সারা জীবনের তপস্যার সম্পদকে কবিতার দ্বার খুলার চাবি করে যে কবিতাটি কবি রচনা করেছেন তার মাঝে নতুন কিছু তিনি দিতে পারেন নি। দিয়েছেন সরলতা মিশ্রিত একটি বাক্য। অথচ একই বিষয়বস্তুকে ধারণ করে আরো ভালো কবিতার সৃষ্টি হতে পারতো। এবং তা পরগাছা হতো না। হতো নতুন সৃষ্টি।
আধুনিক তবে নিকট অতীতের একটা দর্শন কে (বিনয় মজুমদারের ঐ বাক্যটিকে একটি আমি দর্শনই বলব) পূর্বে যেভাবে আমাদের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে, সেই ব্যক্তি বা অন্য কেউ যদি একই দর্শন কে আবারও পাঠকের সামনে তুলে ধরতে চায় তবে আমাদের আরো নতুন ও আরো আধুনিক ভাবে তা উপস্থাপন করা জরুরি বলে মনে করি। সেই উপস্থাপনার ভাষা আঙ্গিক হবে আঁধার রাতের বাতির মতো। কিন্তু তা এই কবিতাটায় হলো কই! এই কবিতায় কবি নিজে বিনয়ের দর্শন থেকে বের হতে পারেন নি। পারেন নি বিনয়ের সৃষ্ট দর্শন কে ছাড়িয়ে যেতে। যার কারণেই এই লেখাটাকে আমার কবিতা মনে হয় নি।
যদিও এখানে কবি পাঠকের সামনে পূর্বজ বক্তব্যের মত নগ্ন হয়েই উপস্থিত হয়েছেন। কিন্তু আমরা জানি এই নগ্নতা আমাদের কাছে টানে না। যেমন অর্ধ নগ্ন নারী শরীরের চাইতে কাছে টানে না পুরো নগ্ন শরীর।
খন্ড পাঁচ.
আমি মূলত কবিতা নিয়ে খুব বেশী নারাচারা করতে পছন্দ করি না। কবিতাকে আমি তার নিজের মত চলতে দিতে পছন্দ করি।
আমার কখনই মনে হয় না কবিতাকে নিয়ে অপারেশন টেবিলে যাবার প্রয়োজন আছে। তার কারণ কবিতা মানুষের শরীর না। আর কবিও সার্জারির ডাক্তার না। ফলে যারা চাকু ছুড়ি নিয়ে সার্জারি টেবিলে কবিতানে নিয়ে বসে অথবা যারা ক্যালকুলেটর নিয়ে গণিতের হিসাবের মত কবিতাকে দেখে তাদের দ্বারা কবিতা হবে না। কারণ হিসাব নিকাশ করে বাণিজ্য হয়।
ভাবের আদান প্রদান করা সম্ভব নয়।
খন্ড ছয়.
আমার কবিতাকে আমি আমার এই পথ দেখিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। বলেছি তোমার ভালো মন্দ যা খুশি করে যাও। তা সম্পূর্ণই তোমার। আমাকে তুমি যেভাবে চলতে বলবে আমি বাবা তাতেই রাজি।
যার কারণে আমার কবিতা আমার মতই বা আমি আমার কবিতার মতই।
খন্ড সাত.
এবার একটা গল্প শোনাই। কবিতার গল্প। একটা মানুষ প্রায়শই বন দেখে। বন দেখে দেখে তার বনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
সে মনে করে বন মানুষের প্রকৃত বন্ধু। তবে মানুষ বনের কখনই প্রকৃত বন্ধু হতে পারে নি (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া)। যার কারণে বনের অযতœ অবহেলায় তার ভেতর একটা অত্যন্ত কষ্ট অনুভব হয়। সে মনে করে বনের গাছগুলো যেমন মানুষের সাথে বন্ধুর মত আচরণ করছে, মানুষও সেই একই রকম ভাবে বনের মত হয়ে যায় মানুষের নিজস্ব একান্ত পৃথিবীতে। আর সে একান্ত ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে মানুষ আর বৃক্ষ একই সম চেহারার অধিকারী।
আর সেই অনুভব থেকে জন্ম নেয় তার একটা কবিতা। এবার আসুন সেই কবিতাটা পড়ি।
বনে যাবেন? যান। ভাওয়াল, মধুপুর অথবা সুন্দরবন। দাড়ান বন শব্দের মানে জানেন তো? বন শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ? তাও জানেন না? বন মানে বন।
মন এর প্রাকৃত রূপ।
আসেন। আসেন, মামা, চাচি, খালারা, বইনেরা,
এইটা হলো আমার কবিতার বয়ান। এরচেয়ে বেশী বলে আমি আর বুদ্ধিজীবী সাজতে চাই না। তার চেয়ে বরং আমরা আরো একটা কবিতা পড়ি।
এ বিধি লাগে না ভালো : জন্মলজ্জা ফেলে দিতে
কাঁদিবার কথা
এ বড় রহস্যকথা সান্দ্রকথা আমি তার বুঝি নাতো সার
আমার সঙ্গীরা বলো
কাহার গলায় ধরে বলি আজ জননী জননী
এত যে ঘুরেছি ভূমি তবু আমি জীবন চিনি না
জন্মলজ্জা / মোস্তাক আহমাদ দীন / কথা ও হাড়ের বেদনা
এই রচনাটাকে আমার কবিতা মনে হয়। আমার এই দর্শন (দৃষ্টি ভঙ্গি গত ভাব) কোন আপ্ত বাক্য হোক এটা আমি চাই না। তবে সার কথা হলো আমি, আপনি আর অমুক তমুক যে যতই বলুকনা যে কবিতা এই কবিতা সেই কবিতা তার নিজের গতি অনুসারেই চলবে।
খন্ড আট.
আসলে আমাদের যে বিষয়টা বুঝা অতি জরুরী যে, রবীন্দ্রনাথের পর কবিতার পরিবর্তনের যে নব রূপায়ন শুরু হয়েছিলো তার একজন কবির মাত্র দর্শন ছিলো ইউরোপিয়। কিন্তু সে কবিও শেষ পর্যন্ত বাংলার নিজস্ব দর্শনে ফিরে এসেছে বলেই শেষ পর্যন্ত তিনি রূপসি বাংলার কবি।
আর সা¤প্রতিক সময়ে আমাদের ঘারে যে উত্তর আধুনিকতা নামে অপ-দর্শন নিঃশ্বাস ফেলছে সেই দর্শনের বাইরে গিয়ে নিজেদের স্বরূপ উন্মোচনের এই সময়ে এসে আমাদের লৌকিক দর্শন গুলোর উপরই নির্ভর করতে হবে। সেটা হচ্ছে শুদ্ধতার দর্শন। এই দর্শনেরই চর্চা করেছে মাইকেল-রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দ। আমাদের এখন সেই দর্শনের কাঠামোটা বোঝা উচিত। কিন্তু সেই দর্শনের জন্য চাই সজিব মানুষ।
কিন্তু আবুল হাসান যে মুখস্ত মানুষগুলো আমাদের চোখের সামনে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন তাদের দ্বারা এই সজিবতা গ্রহণ সম্ভব নয়। আর তাই কবিতার জন্যই আত্ম সুদ্ধির মাধ্যমে সজিব হতে হবে। আসুন আমরা সজিব হই, আর আরো ভালো ভালো কবিতা লিখি।
খন্ড এক.
রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন কবি মাত্রই উচিত ৫ (পাঁচ) বছর কবিত্ব করতে হবে। একটা দিক দিয়ে কথাটা আমি মানি।
আমি মনে করি কবির কবিত্ব কাল খুব অল্পই হওয়া উচিত। আর এই অল্প সময়ের মাঝেই সে উৎকৃষ্ট মানের কবিতাগুলো রচনা করবে। সেটা তার জীবনের সেরা সময়ই হোক আর সারা জীবন চেষ্টা চরিত্র করেই অর্জন করে হোক। কবির কবিতা যদি অতিরিক্ত পরিমাণ বেশী হয়ে যায় তবে সেই কবির কবিত্ব শক্তির পুনরাগমন ঘটতে পারে বলে মনে করেই হয়তো রবীন্দ্রনাথ এই কথাটা বলেছিলেন। এবং তাঁর কথাটা তাঁর নিজের ক্ষেত্রেই সত্যিতে পরিণত হয়েছে।
আংশিক ভাবে পরিণত হয়েছে জীবনানন্দের বেলায়ও। আর আমাদের কালের প্রয়াত কবি শামসুর রাহমানের ক্ষেত্রেও তা স্পষ্ট হতে বাদ যায় নি। এই বিষয়গুলো আমাদের চোখের সামনে ধরা পড়ে কিভাবে? ধরা পড়ে সমগ্র রচনার দিকে বীক্ষণ দৃষ্টি দিলেই। কারণ কবির জীবনই কবিতায় পর্যবষিত হয়। কবি তার দেখা জীবন ঘটনাকে একবার বর্ণনা করেই সে তৃপ্তি পায় না।
মনে করে তার এর আরো বর্ণনা বা বিশেষ ভাবে উপস্থাপন করার প্রয়োজন। এই প্রয়োজনের কথা মনে করেই পরবর্তিতে কবিতা লিখতে চেষ্টা করে। কিন্তু সেই কবিতার মত তো হয়ই না, বরংচ আরো বিভৎস রূপ ধারণ করে।
খন্ড দুই.
যখন আমি নগ্ন হই
তখন আমি কবি
বাৎসায়ন ২৪
আমি মনে করি প্রত্যেক কবিই তার পাঠকের কাছে একেবারে নগ্ন হয়ে ধরা দেয়। মূলত কবি মাত্রই নগ্ন।
এই নগ্নতা পাঠক কবির কবিতার মাঝ দিয়ে দেখতে পায়। কবিতা আর কবি তখন পাঠকের কাছে একই রূপে ধরা দেয়। পাঠক কবিতার শরীর ছুয়ে কবির সত্ত্বাকে ছুয়। সেই সত্ত্বার মাঝ দিয়ে ছুয় কবির রচিত অভিজ্ঞতার পৃথিবী। পাঠক যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে সেই অভিজ্ঞতাকে তার ব্যক্তি শিল্পায়নে ধরতে না পারে সেই অভিজ্ঞতার শৈল্পিক উপস্থাপন কবির কবিতায় পায়।
এবং এক এক করে কবিতা পাঠকের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে সার্বজনিন ভাবে। এই সার্বজনিন সম্পর্কের মাঝে কবি এক একক সত্ত্বার রূপ। আর কবিতা তার শ্রেষ্ঠ প্রকৃতি।
খন্ড তিন.
মূলত কবিতা প্রকৃতির সন্তান। প্রকৃতির বীর্য কবি তার গর্ভে ধারণ করে কবি তাকে একটা পূর্ণতার দিকে ধাবিত করে।
এক সময় তার জন্ম দান করে। এই গর্ভ ধারণ কবি সামাজিক বা অসামাজিক ভাবে যে কোন উপায়ে ধারণ করতে পারে। তবে এই ধারণ করা যেন অবশ্যই কবির নিজস্বতাকে ছাপিয়ে যেতে পারার ক্ষমতা রাখে। তার নয়তো কবিতা হয়ে উঠবে অর্থহীন। যদিও কবিতার সাথে কবির সংসার দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও।
কবি তখন প্রকৃতই ব্যর্থ। সমাজের অশ্লীল মানুষগুলোর জন্য যেমন মানুষ তার সমাজকে দায়ী না করে তাদের পিতা-মাতাকে। ঠিক তেমনই এই বিষয়টাও।
খন্ড চার.
আসুন এবার আমরা একটা কবিতা পড়ি। তারপর বুঝি কবিতা কিভাবে কবিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
বা ছাড়ানোর চেষ্টা করে।
মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়
-বিনয় মজুমদার
রিউমার ছড়ালো ক্যাম্পাসেÑ
আমার নাকি প্রেম হয়েছে!
খবরটা শুনে আমার তো বেশ ফিলিংস হলো,
এই প্রথমবারের মতো আমাকে জড়িয়ে ধরেছে অশ্বত্থ গাছ
হাঁটার মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে নৈঃশব্দের সবটুকু লাল
এবার যে কেউ এসে আমাকে গুলি করুক
কেননা মানুষ মরে গেলে কাছে আসে প্রকৃত মরাল।
রিউমার/ জাকির জাফরান / সমুদ্র পৃষ্ঠা
এই কবিতাটাকে আমার কবিতা মনে হয় নি। মনে হয়েছে পরগাছা। এই কবিতাটা সৃষ্টির পূর্বে একজন কবির সারা জীবনের তপস্যার সম্পদকে কবিতার দ্বার খুলার চাবি করে যে কবিতাটি কবি রচনা করেছেন তার মাঝে নতুন কিছু তিনি দিতে পারেন নি।
দিয়েছেন সরলতা মিশ্রিত একটি বাক্য। অথচ একই বিষয়বস্তুকে ধারণ করে আরো ভালো কবিতার সৃষ্টি হতে পারতো। এবং তা পরগাছা হতো না। হতো নতুন সৃষ্টি। আধুনিক তবে নিকট অতীতের একটা দর্শন কে (বিনয় মজুমদারের ঐ বাক্যটিকে একটি আমি দর্শনই বলব) পূর্বে যেভাবে আমাদের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে, সেই ব্যক্তি বা অন্য কেউ যদি একই দর্শন কে আবারও পাঠকের সামনে তুলে ধরতে চায় তবে আমাদের আরো নতুন ও আরো আধুনিক ভাবে তা উপস্থাপন করা জরুরি বলে মনে করি।
সেই উপস্থাপনার ভাষা আঙ্গিক হবে আঁধার রাতের বাতির মতো। কিন্তু তা এই কবিতাটায় হলো কই! এই কবিতায় কবি নিজে বিনয়ের দর্শন থেকে বের হতে পারেন নি। পারেন নি বিনয়ের সৃষ্ট দর্শন কে ছাড়িয়ে যেতে। যার কারণেই এই লেখাটাকে আমার কবিতা মনে হয় নি। যদিও এখানে কবি পাঠকের সামনে পূর্বজ বক্তব্যের মত নগ্ন হয়েই উপস্থিত হয়েছেন।
কিন্তু আমরা জানি এই নগ্নতা আমাদের কাছে টানে না। যেমন অর্ধ নগ্ন নারী শরীরের চাইতে কাছে টানে না পুরো নগ্ন শরীর।
খন্ড পাঁচ.
আমি মূলত কবিতা নিয়ে খুব বেশী নারাচারা করতে পছন্দ করি না। কবিতাকে আমি তার নিজের মত চলতে দিতে পছন্দ করি। আমার কখনই মনে হয় না কবিতাকে নিয়ে অপারেশন টেবিলে যাবার প্রয়োজন আছে।
তার কারণ কবিতা মানুষের শরীর না। আর কবিও সার্জারির ডাক্তার না। ফলে যারা চাকু ছুড়ি নিয়ে সার্জারি টেবিলে কবিতানে নিয়ে বসে অথবা যারা ক্যালকুলেটর নিয়ে গণিতের হিসাবের মত কবিতাকে দেখে তাদের দ্বারা কবিতা হবে না। কারণ হিসাব নিকাশ করে বাণিজ্য হয়। ভাবের আদান প্রদান করা সম্ভব নয়।
খন্ড ছয়.
আমার কবিতাকে আমি আমার এই পথ দেখিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। বলেছি তোমার ভালো মন্দ যা খুশি করে যাও। তা সম্পূর্ণই তোমার। আমাকে তুমি যেভাবে চলতে বলবে আমি বাবা তাতেই রাজি। যার কারণে আমার কবিতা আমার মতই বা আমি আমার কবিতার মতই।
খন্ড সাত.
এবার একটা গল্প শোনাই। কবিতার গল্প। একটা মানুষ প্রায়শই বন দেখে। বন দেখে দেখে তার বনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। সে মনে করে বন মানুষের প্রকৃত বন্ধু।
তবে মানুষ বনের কখনই প্রকৃত বন্ধু হতে পারে নি (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া)। যার কারণে বনের অযতœ অবহেলায় তার ভেতর একটা অত্যন্ত কষ্ট অনুভব হয়। সে মনে করে বনের গাছগুলো যেমন মানুষের সাথে বন্ধুর মত আচরণ করছে, মানুষও সেই একই রকম ভাবে বনের মত হয়ে যায় মানুষের নিজস্ব একান্ত পৃথিবীতে। আর সে একান্ত ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে মানুষ আর বৃক্ষ একই সম চেহারার অধিকারী। আর সেই অনুভব থেকে জন্ম নেয় তার একটা কবিতা।
এবার আসুন সেই কবিতাটা পড়ি।
বনে যাবেন? যান। ভাওয়াল, মধুপুর অথবা সুন্দরবন। দাড়ান বন শব্দের মানে জানেন তো? বন শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ? তাও জানেন না? বন মানে বন। মন এর প্রাকৃত রূপ।
আসেন। আসেন, মামা, চাচি, খালারা, বইনেরা,
এইটা হলো আমার কবিতার বয়ান। এরচেয়ে বেশী বলে আমি আর বুদ্ধিজীবী সাজতে চাই না। তার চেয়ে বরং আমরা আরো একটা কবিতা পড়ি।
এ বিধি লাগে না ভালো : জন্মলজ্জা ফেলে দিতে
কাঁদিবার কথা
এ বড় রহস্যকথা সান্দ্রকথা আমি তার বুঝি নাতো সার
আমার সঙ্গীরা বলো
কাহার গলায় ধরে বলি আজ জননী জননী
এত যে ঘুরেছি ভূমি তবু আমি জীবন চিনি না
জন্মলজ্জা / মোস্তাক আহমাদ দীন / কথা ও হাড়ের বেদনা
এই রচনাটাকে আমার কবিতা মনে হয়।
আমার এই দর্শন (দৃষ্টি ভঙ্গি গত ভাব) কোন আপ্ত বাক্য হোক এটা আমি চাই না। তবে সার কথা হলো আমি, আপনি আর অমুক তমুক যে যতই বলুকনা যে কবিতা এই কবিতা সেই কবিতা তার নিজের গতি অনুসারেই চলবে।
খন্ড আট.
আসলে আমাদের যে বিষয়টা বুঝা অতি জরুরী যে, রবীন্দ্রনাথের পর কবিতার পরিবর্তনের যে নব রূপায়ন শুরু হয়েছিলো তার একজন কবির মাত্র দর্শন ছিলো ইউরোপিয়। কিন্তু সে কবিও শেষ পর্যন্ত বাংলার নিজস্ব দর্শনে ফিরে এসেছে বলেই শেষ পর্যন্ত তিনি রূপসি বাংলার কবি। আর সা¤প্রতিক সময়ে আমাদের ঘারে যে উত্তর আধুনিকতা নামে অপ-দর্শন নিঃশ্বাস ফেলছে সেই দর্শনের বাইরে গিয়ে নিজেদের স্বরূপ উন্মোচনের এই সময়ে এসে আমাদের লৌকিক দর্শন গুলোর উপরই নির্ভর করতে হবে।
সেটা হচ্ছে শুদ্ধতার দর্শন। এই দর্শনেরই চর্চা করেছে মাইকেল-রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দ। আমাদের এখন সেই দর্শনের কাঠামোটা বোঝা উচিত। কিন্তু সেই দর্শনের জন্য চাই সজিব মানুষ। কিন্তু আবুল হাসান যে মুখস্ত মানুষগুলো আমাদের চোখের সামনে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন তাদের দ্বারা এই সজিবতা গ্রহণ সম্ভব নয়।
আর তাই কবিতার জন্যই আত্ম সুদ্ধির মাধ্যমে সজিব হতে হবে। আসুন আমরা সজিব হই, আর আরো ভালো ভালো কবিতা লিখি।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।