বরিশাল নগরীর সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পূর্বপ্রান্ত চরকাউয়া ফেরিঘাট এলাকায় আকস্মিক ভাঙনে বসতবাড়িসহ কমপক্ষে ২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গতকাল বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময়ে তীব্র ভাঙনের ফলে চরকাউয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন বাস টার্মিনাল থেকে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জানান, নদীর তীর সংলগ্ন ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং প্রায় ২৫০ ফুট প্রশস্ত এলাকা পুরোপুরি নদীগর্ভে চলে গেছে। সেখানকার বহুদিনের পুরনো আমির আলী চেয়ারম্যানের বাড়ি ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। মাত্র দুই ঘণ্টার ভাঙনে পাকা রাস্তা নদীর কাছাকাছি চলে আসায় স্থানীয় জনতা বাস টার্মিনাল থেকে সব বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।
গাড়ির ঝাঁকুনিতে ভাঙন বৃদ্ধি পেতে পারে এমন আশঙ্কায় জনগণ এ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন। ফলে চরকাউয়া থেকে অভ্যন্তরীণ কয়েকটি রুটের বাস চলাচল গতকাল বিকাল থেকে বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও জানান, ভাঙন শুরু হওয়ার পরই তিনি জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রশাসনের কেউ ঘটনাস্থলে যাননি। ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা ওবায়েদুল হোসেন শাওন জানান, বিকাল ৪টা থেকে কীর্তনখোলায় ভাঙন শুরু হয়।
প্রথমে ফাটল নেওয়া অংশ ৫/৬ ইঞ্চি দেবে যায়। এর পরই ফাটল নেওয়া অংশটি কীর্তনখোলায় তলিয়ে যায়। ফেরিঘাট সংলগ্ন কমপক্ষে ২০টি দোকান গতকাল ভাঙনের কবলে পড়ে বলে তিনি জানিয়েছেন। দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে মুদি-মনোহারি, ওষুধের ফার্মেসি, কনফেকশনারি, তেলের দোকান ইত্যাদি। ভাঙন শুরু হওয়ার পর দোকানিরা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় দোকানের মালামালের কিছু অংশ সরানো গেলেও দোকান ঘরগুলো পুরোপুরি নদীতে তলিয়ে গেছে।
ভাঙন কবলিত দোকানি ও তাদের স্বজনদের আহজারিতে সেখানে এক শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চরকাউয়া রুটের ফেরির কর্মচারী কাজী নুরুজ্জামান জানান, ফেরির পন্টুনের উত্তর পাশ থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে। তবে পন্টুনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।