চলচ্চিত্র নির্মাণে আমার ভূমিকা সহকারী পরিচালকের। আমার ভালোবাসা কবিতা।
২ জুন ২০০৯
আজ ফিরে যাব। সন্ধ্যেবেলা আমার ট্রেন। সকালে তো সবাই হৈ হৈ করে তৈরী হয়ে অফিস চলে গেছে।
খাঁ খাঁ ফ্ল্যাটে আমি একা। বাইরে রোদ মাখামাখি হয়ে এলিয়ে আছে নির্জন দুপুর রোদের বেশ তাপ। কেউ কোত্থাও নেই। কেবল দুরন্ত বাতাস বড় বড় গাছগুলোর মাথার চুল ঘেঁটে দিচ্ছে বার বার। অপেক্ষায় ছট্ফট্ করে সাড়ে চারটেয় বেরিয়ে পড়লাম।
কাল সন্ধ্যেবেলা মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। নেটে জানা গিয়েছে আমার টিকেট আর এ সি। ষ্টেশনে এসে দেখি বার্থ পাওয়া গেছে। নতুন ঝক্ঝকে কামরা।
আটটা নাগাদ দুন্দ নামের এক ষ্টেশনে অনেকক্ষণ দাঁড়াল ট্রেনটা এখানে ইঞ্জিন বদল হল।
বদল হল চলার দিকও। যদি পুণা থেকে পশ্চিম দিকে চলা শুরু করে থাকে, এখন চলেছে পুবে। এ যেন কিছুটা পিছিয়ে এসে জোরে দৌড় শুরু। এখানে সাত আট বছরের একটা ছেলে উঠল আমাদের কামরায়। সারা শরীর ধূলি ধুসরিত।
হাফ প্যান্ট, খালি পা, খালি গা। পরণের জামাটা হাতে। সেটা দিয়ে মেঝে মুছতে লাগল। ওরা তো এমন করেই। মেঝে ঝাঁট দিয়ে পয়সা চায়।
ও-ও তাই চাইল। এক রুপিয়া দো আমার কাছে নয়। অপর দিকে বসে থাকা এক দৈত্যর কাছে। দৈত্যই বলতে হবে তাকে। বিশাল চেহারার এক ভদ্রলোক উনি আবার পরে আছেন বিশালকায় উরু দেখানো হাফ প্যান্ট।
হাস্যকর, ভয়ংকরও বটে। সেই দৈত্যটি এবার বালকটির অসহায়তার সাহায্যে তাকে নিয়ে নানান মানষিক অত্যাচারের মজা করতে শুরু করল। এক রুপিয়া কেন? কাকে দিবি? তোরা ক’জন আছিস? গুনে বল। বাচ্চা ছেলেটিও তার সরলতায় উত্তর দেবার চেষ্টা করে যেতে লাগল। শেষে রফা হ’ল, তোর হাতে টাকা দেবনা, কোন খাবার খা, আমি দাম দিয়ে দেব।
ছেলেটি বলল, পয়সা না দিলে যে আমায় কিছু দেবে না। লোকটিতো নিষ্ঠুর মজা করে চলেছে। ছেলেটিই বুদ্ধি করে এক আইসক্রিমওয়ালাকে ধরে নিয়ে এলো। লোকটি একটু থতমত। সামলে নিয়ে চোটপাট শুরু করল, আইসক্রিম খায়েগা, তু আইসক্রিম খায়েগা? উলটো ধমক দিয়ে বলল, আইসক্রিম সে পেট নেহী ভরেগা, দুসরা কুছ খা।
লোকটি পরিস্কার পাশ কাটাবার চেষ্টা করল। ছেলেটি বিফল মনোরথ হয়ে আলোকিত করিডর বেয়ে পাশের কিউবিকলগুলোর দিকে চলে গেল। এই বার শুরু হল নানান মন্তব্য। এরা সব বদমাইশ, চোর। স্টেশনে এদের লোক দাঁড়িয়ে।
সুযোগ পেলেই কারো ব্যাগ বা মোবাইল নিয়ে পালাবে। তারপর গরু ছাগল তাড়াবার মত, হ্যাট হ্যাট, যাঃ যাঃ করে তাড়ানো হল তাকে। এদের কথার কিছুটা তো সত্যি। আমি নীরব দর্শক হয়ে থাকতে বাধ্য হলাম।
৩ জুন ২০০৯
কোলকাতা ফিরতে, এই ট্রেনটায় দুটো রাত কাটাতে হয়।
কাল রাত গেছে, আজ রাতটাও যাবে। সকাল দশটা নাগাদ নাগপুর পেরিয়ে গেল সাড়ে এগারোটা নাগাদ কি একটা জাংশানে থামতে, আইসক্রিম ফেরিওয়ালা এলো। আমি অবাক হয়ে দেখলাম, সেই দৈত্যটি আইসক্রিম কিনে খেলো। আমার জানতে ইচ্ছে করছিল, তার কি একবারও কালকের সেই শিশুটির মুখটি মনে পড়ল?
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।