আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নাগিনেরা চারিদিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিঃশ্বাসঃ একটি তৈলাক্ত পোষ্ট বাই সৈয়দ বোরহান কবীর

ফেসবুক আইডি:নাই
ওয়ান-ইলেভেনের পর যারা ‘মাইনাস’ ফর্মুলার প্রচারক ছিলেন, তারা আস্তে আস্তে সরব হচ্ছেন। আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় মুকুল বোসের বক্তব্যের পর কিংস পার্টির ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর বক্তব্য আর সবশেষে পীর হাবিবের লেখা, একই সূত্রে গাঁথা। শীতের শেষে সাপ যেমন খোলস পাল্টে বেরিয়ে আসে, তেমনি তারা বেরিয়ে আসছেন। আমার মনে হচ্ছে আবার ‘নাগিনেরা চারিদিকে ফেলিতেছে বিষাক্ত নিঃশ্বাস’। এ মন্তব্যের কারণ হলো পীর হাবিব তার দীর্ঘ লেখায় আওয়ামী লীগের (তার ভাষায় জন্মসূত্রে আওয়ামী লীগ) চারজন নেতার নাম লিখেছেন এদের একজন মুকুল বোস, অন্য তিনজন হলে আমু-রাজ্জাক-তোফায়েল।

এরা চারজন সংস্কারপন্থি। কঠিন সময়ে নেতৃত্বের বিভাজন সৃষ্টির অভিযোগে অভিযুক্ত। পীরের জন্ম সূত্রে মতবাদের আলোকেই অনেক ত্যাগী নেতা আওয়ামী লীগে ছিলেন, আছেন। যেমন বর্ষীয়ান নেতা এবং রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, প্রয়াত নেত্রী আইভি রহমান, আজন্ম রাস্তা-মাঠ চষে বেড়ানো সাহারা খাতুনসহ হাজারো ত্যাগী আওয়ামী লীগারের নাম উচ্চারণ না করে পীর হাবিব বেছে একহালি সংস্কারপন্থির নাম বললেন, কী উদ্দেশ্যে তা অবশ্য এখন পাঠকরা জানেন। প্রয়াত আহমেদ ছফা বলেছেন, ‘আমাদের লেখক বুদ্ধিজীবীদের লেখাপড়ার অবস্থা এমন যে, তারা তাদের স্ত্রীর দেয়া বাজারের ফর্দটাও ঠিকমতো পড়েন না।

বইয়ের পেছনের ফ্ল্যাপ পড়ে বইয়ের রিভিউ লিখে ফেলেন। এরা পড়েন খণ্ডিত, লেখেন বিকৃত’ (আহমেদ ছফা: বক্তৃতাগুচ্ছ, পৃষ্ঠা-৯৩)। এর আগেও পীর হাবিব এক লেখায় রবীন্দ্র অনুরাগী এবং সমালোচক মোহিতলাল মজুমদারকে রবীন্দ্র-বিদ্বেষী বানিয়ে ফেলেছিলেন। আমি তার জবাবে ‘আপনার অপেক্ষাতেই গোটা জাতি’ শিরোনামের লেখায় বলেছিলাম. ‘পীর হাবিবের লেখার সমস্যা হলো সবকিছু তিনি খণ্ডিতভাবে দেখেন। ফলে যে কোনো জিনিসের একটি অবিকৃত চিত্র ও তথ্য তার লেখায় অনুপস্থিত থাকে।

’ঃ আমাকে গভীর দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে তার সা¤প্রতিক লেখাটিও একই দোষে দুষ্ট। আমি ‘ভূত দেখেছি কমিউনিজমের ভূত’ লেখাটি লিখেছিলাম আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের সূত্র ধরে। আমার লেখার মূল বক্তব্য ছিল, আওয়ামী লীগ একটি সমুদ্রের মতো দল। নানা নদী, উপ-নদী যেমন সাগরে মেশে, সেরকম নানা মত ও পথ আওয়ামী লীগে আসে। কিন্তু ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ, মুক্তক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং মানুষের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার’ এর মূল বক্তব্যে তারা ঐক্যবদ্ধ এবং অভিন্ন।

তাই কে ছাত্র ইউনিয়ন থেকে এলো, কে মুসলিম লীগ থেকে এলো, কে সেনাবাহিনী থেকে এলো, কে ব্যবসায়ী তা এখানে অবান্তর এবং অপ্রাসঙ্গিক। যারাই আওয়ামী লীগের নীতি-আদর্শ মেনে, আওয়ামী লীগের পতাকা তলে সমবেত হয়েছে তাদের পরিচয় একটাই তারা আওয়ামী লীগের কর্মী। আমি আমার লেখায় বোঝাতে চেয়েছি ‘কমিউনিস্ট’ বলে আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করা সংস্কারপন্থি, ষড়যন্ত্রকারী এবং মতলবাজদের আরেক খেলা। মতিয়া চৌধুরীর মতো অগ্নিকন্যা, আবুল মাল আবদুল মুহিতের মতো নিরহঙ্কারী পণ্ডিত, নুরুল ইসলাম নাহিদের মতো সজ্জন, সৎ মানুষরা যেমন দলের দুর্দিনে পথস্খলিত হননি। তেমনি জিল্লুর রহমানের মতো আদর্শ পুরুষরাও আওয়ামী লীগকে একটি ‘অনুকরণীয়’ রাজনৈতিক দলে উন্নীত করেছেন।

লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খানের মতো সেনাবাহিনী থেকে আসা ব্যক্তি, ক্রান্তিকালে দলের আদর্শের জন্য দাঁড়িয়েছেন। সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী ছাত্রাবস্থায় ছাত্রলীগ করতেন। এরপর তিনি পেশাগত জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু ’৯৪-এ প্রতিকূল সময়ে নির্ভীকভাবে তিনি ‘নির্বাসিত’ জাতির জনকের ছবি তার সরকারি অফিসে লাগান। ওয়ান-ইলেভেনে জাতির জনকের কন্যার পক্ষে তার সোচ্চার বাণী আর আবেদনগুলো শোনার জন্য জাতি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতো।

ফজলে নূর তাপস হলেন আওয়ামী পরিবারের সদস্য আর ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ হলেন প্রগতিমনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ। কিন্তু এই দুধারার মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আইনি যুদ্ধে নেমেছিলেন, অসত্যের বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, জাতিকে অভিভাবকহীন করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এটাই হলো আওয়ামী লীগ। ‘বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রিস্টান, বাংলার মুসলমান আমরা সবাই বাঙালি’ এ অমর বাণী ধারণ করেই আওয়ামী লীগ এদেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক। বিভক্তির বিরুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এক ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন ১৯৭৫ সালেঃ এই সন্দেহটা দূর করা দরকার। এবং দূর করে সকলেই যে এক এবং সকলেই যে দেশকে ভালোবাসে এবং মঙ্গল চায় এটা প্রমাণ করতে হবে (সূত্র: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান : জীবন ও রাজনীতি, পৃষ্ঠা ৯১০)।

ওয়ান-ইলেভেন ছিল আওয়ামী লীগের অস্তিত্বের এক এসিড টেস্ট। এ পরীক্ষায় অনেকে আদর্শের প্রতি আনুগত্যের চরম প্রমাণ রেখেছেন। অনেকে স্রোতে গা ভাসিয়ে কাপুরুষের মতো ‘সংস্কারপন্থি’ হয়ে গেছেন। এখানে ছাত্রলীগ-ছাত্র ইউনিয়ন বিভাজনের সুযোগ নেই। পীর হাবিবের ‘রোমান্টিক রাজনৈতিক সূত্রধর’ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, কিংবা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মতো প্রাক্তন বামপন্থিরা যেমন যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারেননি তেমনি দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আযমের মতো প্রাক্তন ছাত্রলীগ কর্মীরা দলের বিপদে আদর্শের লড়াই করেছেন।

তাই এ বিভাজনের চেষ্টাটাই মতলববাজি। দুঃখিত পীর হাবিব, আপনি আপনার লেখায় ইচ্ছে করে বিভাজনটা টানতে চেয়েছেন। এটা অনৈতিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পীর হাবিব তার লেখায় বলেছেন, মুকুল বোসকে ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বস্তায় বন্দি করে পেটানো হয়। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বহু নেতা-কর্মী নিগৃহীত হয়েছেন।

জেলে চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। ’৭৫-এ মুকুল বোসের নির্যাতন তাকে সারাজীবনের আদর্শবাদিতার সার্টিফিকেট দেয় না। যেমন দেয় না খন্দকার মুশতাককে, তাহের উদ্দিন ঠাকুরের মতো ষড়যন্ত্রকারীদের। এরা ’৬৮, ’৬৯-এ নির্যাতিত হয়েছিলেন, নিগৃহীত হয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল তাহেরের সেই ঐতিহাসিক উক্তি স্মরণ করতে চাই ‘একবার রাজাকার সারাজীবন রাজাকার, কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধাকে প্রতিনিয়ত প্রমাণ করতে হবে তিনি মুক্তিযোদ্ধা।

তার নীতি দিয়ে আদর্শ দিয়ে’ঃ পীর হাবিব নিশ্চয়ই জানেন, মুকুল বোসরা আদর্শের সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কি-না। আমি পীর হাবিবের সঙ্গে বাহাসে যাব না। কিন্তু কিছু তথ্য বিকৃতি এবং ভুল তথ্য জাতির সামনে পরিষ্কার হওয়া দরকার। পীর লিখেছেন ‘জিয়ার মার্শাল ল’র জামানায় এ কমিউনিস্টরা খাল কেটে সেনাশাসকের বিপ্লবী কর্মী সেজেছেন। ’ পীর হাবিবের জানা উচিত, জিয়ার জামানায় কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ হয়েছিল।

মোহাম্মদ ফরহাদসহ অনেক কমিউনিস্ট নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। নির্যাতন চালানো হয়েছিল। এ অবস্থা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে খালকাটা কর্মসূচি ছিল তাদের একটি আপসরফা। যাকে কমিউনিস্ট পার্টিই তাদের রাজনৈতিক দলিলে বলেছে, ‘ভুল সিদ্ধান্ত। ’ ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জিয়ার ‘আই উইল মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট’-এর বুলডোজারে শুধু কমিউনিস্ট আর ন্যাপ নয়, আওয়ামী লীগের অনেক ডাকসাইটে নেতারাও পিষ্ট হয়েছিলেন।

মুশতাকের মন্ত্রিসভার তালিকাটা নিশ্চয়ই পীরের কাছে আছে। পীর হাবিব তার লেখায় বলেছেন, ‘ছাত্র ইউনিয়নঃ চাটুকারিতা এবং উপর তলার আশীর্বাদ লাভের শিক্ষা অর্জন করেছেন তখন ছাত্রলীগের শিক্ষাই হলো প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ। ’ পীর হাবিব, এই সরলীকরণেরই বিরুদ্ধে আমি। শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ১৯৬১-৬২ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন, ১৯৬৩-৬৪ সালে ছিলেন কেএম ওবায়দুর রহমান, ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন ১৯৬৬-৬৭ সালে, শাজাহান সিরাজ ১৯৭০-৭১ সালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এদের নৈতিক এবং আদর্শিক মান, এদের কুৎসিত সুবিধাবাদী রাজনীতির চেহারা জাতি বহুবার দেখেছে।

এই তালিকা আরো অনেক দীর্ঘ। এরকম পদস্খলিত নেতা ছাত্র ইউনিয়নেও আছে কিন্তু এর সংখ্যা অনেক কম। এজন্যই আমি আমার লেখায় ছাত্র ইউনিয়নের আদর্শিক মান নিয়ে অংশে বলেছিলাম ‘কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে। ’ পদস্খলন, সুবিধাবাদ দুর্বৃত্তায়ন রাজনীতির পায়ে পায়ে হাঁটে। এটা জামায়াতের কর্মীরও হতে পারে, হতে পারে আওয়ামী লীগ বা কমিউনিস্টদের।

পীর হাবিব তার লেখার দীর্ঘ অংশ ধরে বামপন্থিরা কীভাবে আওয়ামী লীগে বিলীন হয়েছে তার ফিরিস্তি দিয়েছেন। রাশেদ খান মেনন এবং ফজলে হোসেন বাদশাকে কটাক্ষ করতেও পীর হাবিব ছাড়েননি। রাশেদ খান মেননের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন যদি পাপ হয় তাহলে ছাত্রলীগ নেতা (জন্মসূত্রে আওয়ামী লীগ) শাহ মোয়াজ্জেম, ফজলুর রহমান পটল, শাজাহান সিরাজের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কী? এবারে নির্বাচন কেবল একটি দলের দেশ পরিচালনার রুটিন ওয়ার্ক ছিল না। এবারের নির্বাচন ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে কিনা সে প্রশ্নে গণভোট, আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় চলব কিনা সে প্রশ্নে গণরায়। বাংলাদেশ কি জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে? সে প্রশ্নে জনগণের রায়।

জাতির অস্তিত্বের প্রয়োজনে এরকম কটি নির্বাচনে যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন তা কি অন্যায়? আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জাতি যখন মুক্তিযুদ্ধ করে তখন কমিউনিস্ট দেশগুলোই প্রধানত বাংলাদেশ সমর্থন দিয়েছিল অকুণ্ঠভাবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিল সা¤প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে। এটাই হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বামপন্থি দলগুলোর নীতি এবং আদর্শ সঙ্গতিপূর্ণ। আর একারণেই স্বাধীনতার পর থেকেই বাম দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগের নৈকট্য।

এ নৈকট্যের কারণে অনেক বামপন্থি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন এই বিশ্বাস থেকে যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসা¤প্রদায়িক বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে হবে। এদের কেউই ‘মন্ত্রিত্ব হাতিয়ে’ নেয়ার জন্য আওয়ামী লীগে যোগ দেননি বিবেক এবং আদর্শের তাড়নায় যোগ দিয়েছেন। পীর হাবিব যদি কষ্ট করে তাদের যোগদানের সময়গুলো দেখতেন তাহলে এরকম ঢালাও মন্তব্য করতে পারতেন না। মতিয়া চৌধুরী আওয়ামী লীগে যোগ দেন ১৯৭৮-৭৯ সালে, নুরুল ইসলাম নাহিদ ১৯৯২-এ। এরকম দীর্ঘ তালিকা দেয়া যায়।

পীর হাবিব কার্ল মার্কসের সমাধি প্রসঙ্গ এনেছেন অপ্রাসঙ্গিকভাবে। তার জ্ঞানের অপ্রতুলতার জন্য জানাচ্ছি বিশ্বে যার সমাধিস্থলে সবচেয়ে বেশি পর্যটক যান, তিনি হলেন মাও সেতুং, একজন কমিউনিস্ট। এ তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছে লেনিনের সমাধি। কার্ল মার্কসের সমাধি আছে পর্যটকদের পছন্দে ১৭তম স্থানে (সূত্র World Tourism Report 2007 ২০০৭)। আর সমাজতন্ত্রের মৃত্যু হয়নি, পীর হাবিব।

আজ বিশ্বমন্দায় মার্কিনিরা যে ‘বেল আউট’ কর্মসূচি নিয়েছে তা মার্কসবাদের আবিষ্কার। পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ ঘৃণা ঠেকাতে বিশ্বে এসেছে কল্যাণকামী রাষ্ট্রের তত্ত্ব (Welfare State)। শ্রমিকদের অধিকার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। নাগরিকের বেকার ভাতা, চিকিৎসা, শিক্ষা সুবিধা দেয়ার যে চল এখন পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে হয়েছে তা মার্কসবাদ থেকেই আহরিত। পুঁজিবাদ তার ফ্যাসিস্ট রূপ ত্যাগ করে যতটুকু সভ্য মানবিক হয়েছে তা সমাজতন্ত্রের জন্যই।

আদর্শ হিসেবে সমাজতন্ত্রের মৃত্যু হবে না কোনোদিন। কমিউনিস্টদের গালি দিতে গিয়ে পীর হাবিবের অসংযত কলম আমাকেও আক্রমণ করেছে। সাংবাদিকতা করে যে বেতন পাওয়া যায় সে বেতনে সচ্ছল এবং দুশ্চিন্তাহীন জীবন কাটানো যায় না বলেই আমি গণযোগাযোগ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়েছি। পীর হাবিব তার নাম দিলেন ‘মিডিয়া ঠিকাদারি’। ভালো কথা।

আমি যে টাকার আয়কর দেই, অনেক সাংবাদিক সেই টাকা সারা বছরেও বেতন পান না। কিন্তু অবাক লাগে এরকম বেতনে দু-একজন সাংবাদিক ফ্ল্যাটের মালিক হন, গাড়িও হাঁকান। তাদের বাড়িতে ডাকসাইটে নেতা আমন্ত্রিত হয়ে ভূরিভোজও করেন। সাংবাদিকতার মতো পেশায় থেকে মাসিক বেতনে চাকরি করে কীভাবে এরকম বিত্তবান হওয়া যায়; সেই ‘ঠিকাদারি সাংবাদিকতা’ আমার জানা নেই। সে জন্যই আমাকে তিল তিল করে এ প্রতিষ্ঠান গড়তে হয়েছে।

পীর হাবিব, আমার উদাহরণ দিলেন অথচ বললেন না, ফয়েজ আহমেদ, কেজি মুস্তফা, বজলুর রহমান, সন্তোষ গুপ্তের মতো বিবেকবান, আদর্শ সাংবাদিকদের কথা। যাদের কারণে এ পেশা এখনো সম্মানিত, গৌরবের। তারা ছাত্র ইউনিয়নে ছিলেন পীর হাবিব। এ সময়েও মনজুরুল আহসান বুলবুল, আহমেদ ফারুক হাসানের মতো মেধাবী পরিশ্রমী সাংবাদিকরা ছাত্র ইউনিয়নেরই সৃষ্টি। পীর হাবিব তার লেখার শেষ অংশে চমকপ্রদ তত্ত্ব হাজির করেছেন।

‘আসলে আওয়ামী লীগ হয়ে জন্মাতে হয়, বাইরে থেকে এসে আওয়ামী লীগ হওয়া যায় না। এটাই আওয়ামী লীগের চির সত্য। ’ সমাজ বিজ্ঞানে এই ‘জš§সূত্র তত্ত্বে’র ভিত্তি হলো পরিবারতন্ত্র। পিতার সন্তান পরিবার প্রধান হবেন, তার সন্তান হবেন এভাবেই জন্মসূত্র মতবাদে সমাজ বিকশিত হয়। পীর হাবিবের এ বক্তব্য যদি আমরা সত্য ধরে নেই, তাহলে ওয়ান-ইলেভেনের পর পীর হাবিব ‘পরিবারতন্ত্র থেকে আওয়ামী লীগের মুক্তি চাইলেন কেন? কেন তিনি জাতির জনকের কন্যাকে অশালীন, কুৎসিত এবং রুচিহীন ভাষায় আক্রমণ করে রাজনীতি থেকে সরে যেতে বললেন? কেন মাহমুদুর রহমান মান্না, আখতারুজ্জামানের মতো ‘বহিরাগত বামপন্থি’দের নেতৃত্বে আনার জন্য সহস্র শব্দের কাব্য রচনা করলেন? পীর হাবিব আপনি বলুন, আপনার কোন অবস্থান সত্য এবং সঠিক? তা নাহলে, আমি বিশ্বাস করব, আপনি একজন ‘ঠিকাদার সাংবাদিক’।

রাজনীতি জন্মসূত্রে হয় না, রাজনীতি হয় আদর্শের সূত্রে। আর আওয়ামী লীগের আদর্শে অটুট যারা সবাই আওয়ামী লীগ। কেউ কমিউনিস্ট না, কেউ মুসলিম লীগও নয়। কমিউনিস্ট বলে গালি দেয়া হলো বিভক্তির এক কৌশল, মতলববাজি। ভারতের প্রয়াত নেতা জওহর লাল নেহরুকে, চিলির জাতীয়তাবাদী নেতা আলেন্দেকে, যুগোস্লাভিয়ার মার্শাল টিটোকে, ইন্দোনেশিয়ার সুকর্নকেও কমিউনিস্ট বলে গালি দেয়া হতো।

কিন্তু তারা আসলে ছিলেন জনগণের কল্যাণে, জনগণের জন্য। এবার মার্কিন নির্বাচনেও বারাক ওবামাকেও কেউ কেউ কমিউনিস্ট বলে গালি দিয়েছিল। জনগণকে বিভ্রান্ত করার এ এক পুরনো কৌশল। এগুলো হলো পরাজিতদের পুরনো ষড়যন্ত্রেরই ধারাবাহিকতা। তাই কি মুকুল বোস-পীর হাবিবের এই ঐক্য? লেখক: নির্বাহী পরিচালক, পরিপ্রেক্ষিত [ছবিটি অনলাইনে, এই ধরণের বিষয় নিয়ে বোরহান সাহেবরা মাথা ঘামান না]
 


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।