সবকিছুই চুকিয়ে গেছে গালিব! বাকি আছে শুধু মৃত্যু!!
যেকোন বিষয়ে সরকারকে দোষারূপ করাটা আমাদের কালচারে পরিনত হয়েছে। আমরা প্রায়শই ভুলে যাই সরকার আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন কোন সংগঠন নয়। এটি এমন একটি সংগঠন যা আমাদেরই একটি অংশ, আমাদেরই সৃষ্টি। তবে এটা সত্যি যে তৃতীয় বিশ্বের দেশের সরকার কখনই নিজেকে জনগণের মনে করেনা। তেমনি জনগণও সরকারকে তাদের মনে করেনা।
এই পরস্পর বিচ্ছিন্নতার জন্য সরকার এবং জনগণ দুপক্ষই দায়ী। পারস্পরিক অনভূতি, বোধ এবং সম্পর্কের লেনদেনের ব্যর্থতাই এই বিচ্ছিন্নতার প্রধান নিয়ামক। আমরা প্রতিনিয়তই একে অপরকে বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছি। যার ফলে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে এবং উভয়ের দুরত্ব ক্রমশ বাড়ছে।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার প্রতিনিধি মাত্র।
তার সফলতা কোন অবস্থায়ই তার একক সিদ্ধান্ত, প্রচেষ্টা বা ইচ্ছার উপর নির্ভর করে না। তাকে নির্ভর করতে হয় বিভিন্ন চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী যথাঃ , বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, বুদ্ধিজীবী, সংবাদপত্র এবং সহযোগী গোষ্ঠী যথাঃ আমলা, দাতাগোষ্ঠী ও জনগণের উপর। সরকার, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী এবং সহযোগী গোষ্ঠীর পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমেই কোন কাজে পরিপূর্ণতা আসে। তবে সরকারের সবচেয়ে বড় সহযোগি হচ্ছে জনগণ। স্বাভাবিকভাবে সরকারি কাজের সফলতার প্রধান নিয়ামকও তাঁরা।
এই দু'য়ের পারস্পরিক সমন্বয় এবং সহযোগিতা ব্যতিত কোন কাজেরই ইতিবাচক চূড়ান্ত পরিনতি দেয়া সম্ভব নয়।
শিরোনাম দেখেই হয়তো বুঝতে পেরেছেন দেশের চলমান বিদ্যুত সমস্যা নিয়ে কিছু বলাটাই আমার লেখার উদ্দেশ্য। সন্দেহ নেই যে দেশের সরকারি সেবাখাতগুলো আসলেই বিপর্যস্ত। বছরের পর বছর ধরে চলা অব্যবস্থাপনা, দূর্নীতি, ভুল সিদ্ধান্ত এবং স্বজনপ্রিয়তা এর জন্য দায়ী। সেবাখাতগুলোর মধ্যে বিদ্যূতখাতের অবস্থা সবচেয়ে বেশি করুণ।
মুমূর্ষু বললেও বাড়িয়ে বলা হবেনা। পত্রিকার পাতা উল্টালেই বুঝা যায় বিষয়টা কত মারাত্মক পর্যায়ে গিয়ে পৌচেছে। অবশ্য আমাদের মতো সাধারন জনতার পত্রিকার পাতা উল্টানোর প্রয়োজন নেই। একজন ভুক্তভোগী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়েই আমরা বিষয়টির বেহাল অবস্থা বুঝতে পারি।
স্বভাবতই জনগণ সরকারের উপর ক্ষুব্ধ।
চায়ের আড্ডাগুলোতে এ সমস্যার কারণে সরকারকে উদ্দেশ্য করে এমন ভাষাও উচ্চারণ করা হয় যা ভদ্রসমাজে উচ্চারিত হওয়ার কোন যোগ্যতা রাখেনা। মাঝরাতে বিদ্যূত চলে যাওয়ার কারণে সুখের ঘুমটা ভেঙ্গে গেলে আমি নিজেও সরকারের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করি। কিন্তু সব দোষ কি সরকারের একার? সরকারে সহযোগী হিসেবে আমাদের অর্থাৎ জনগণের কোন গাফিলতি নেই? অবশ্যই আছে।
আমাদের এই গাফিলতিটা হচ্ছে প্রধানত দু'ভাবে , যথাঃ বিদ্যুতের অপব্যবহার ও বিদ্যুতের বিল পরিশোধ না করা (সহজ বাংলায় একে বিদ্যুত চুরিও বলা যেতে পারে)। গৃহস্থালী ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমরা প্রতিনিয়তের বিদ্যুতের অপচয় ও অপব্যবহার করছি।
বিপনী বিতানগুলোতে যে পরিমান বৈদ্যুতিক আলোর সাজসজ্জা করা হয় তার কি আদৌ প্রয়োজন আছে? অবশ্যই নেই। তেমনি বাসাবাড়িতেও আমরা প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের অপচয় করছি। অসাবধানতার কারণেই হোক বা হেয়ালীপনার কারণেই হোক বিনা প্রয়োজনে আমরা দিনের বেলাতে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালিয়ে রাখি। মনুষ্যবিহীন ঘরেও বিনা প্রয়োজনে ফ্যান ঘুরতে দেখাটা আমাদের সমাজে দুর্লভ কোন বস্তু নয়। তেমনি রাতের বেলাতেও যে ঘরে ঠিক সেই সময়ে মানুষ অবস্থান করছেনা সে ঘরে আলো জ্বলতে দেখাটাও আমাদের দেশের সাপেক্ষে অস্বভাবিক কিছু নয়।
এগুলোর মাধ্যমে আমরা কি পরিমান বিদ্যুত অপচয় করছি তা কি কখনো ভেবে দেখেছি? আমাদের চলমান বিদ্যুত সমস্যার জন্য আমাদের এই অসচেতনতা এবং হেয়ালীপনা কি দায়ী নয়? অবশ্যই দায়ী।
বিদ্যুতের এই বেহাল অবস্থার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী সময়মতো বিল পরিশোধ না করা এবং বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কম বিল শোধ করা (সোজা বাংলায় যাকে চুরি বলা যেতে পারে)। আপনি সেবার বিপরীতে সে টাকা পরিশোধ করবেন সরকার সে টাকা দিয়েই আপনাকে পুনরায় সেবা দিবে। আপনি শুধু সেবাই নিবেন কিন্তু তা পরিশোধ করবেন না তখন সরকার এই সেবার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল কোথা থেকে আনবে? সরকারের হাতে নিশ্চয়ই কোন জাদুর চেরাগ নেই। শুধু বিল পরিশোধ না করাই নয় বিদ্যুত চুরিতেও আমরা সিদ্ধহস্ত।
কলকারখানা এবং বেশিরভাগ বড়লোকের ভবনগুলোতে যে পরিমান বিদ্যুত বিল আসার কথা তা কখনই আসেনা। এর প্রধান কারণ কলকারখানা ও ভবনগুলোর মালিকের সাথে বিদ্যুত বিভাগের কর্মচারীদের যোগসাজশ। এই যোগসাজশের ফলস্বরূপ মিটার রিডাররা হয় দেশের সেরা ধনী আর সরকারের ভাগে পরে কানাকড়ি। এই কানাকড়ি দিয়ে সরকার বিদ্যুতের কিভাবে উন্নয়ন ঘটাবে, তা সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সহযোগি হিসেবে আমাদের অবশ্যই ভেবে দেখা প্রয়োজন।
আজকে ব্লগে একজন সাহসী ব্লগারকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানাতে দেখলাম।
সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানানোর জন্য যে যোগ্যতার দরকার আমি নিশ্চিত তা তাঁর মাঝে অবশ্যই আছে। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই আমি বলতে পারি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে বিদ্যুৎবিহীন করার দাবি জানানোর আগে তিনি বিনা প্রয়োজনে জ্বালিয়ে রাখা তার বাথরুমের লাইটটি অবশ্যই অফ রেখেছেন। তদুপরি তিনি এ মাসের বিদ্যুত বিলটি যথাসময়ে পরিশোধ করেছেন। এবং অবশ্যই যতো টাকার বিল তিনি পরিশোধ করেছেন ঠিক ততো টাকার বিদ্যুতই তিনি ব্যবহার করেছেন।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।