আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভারচুয়াল থেকে রিয়ালিটি


ঘুরাঘুরি করতে আমার কখনই তেমন খারাপ লাগে না কিন্তু শুধু মাত্র ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য যদি পরপর দুই সপ্তাহ হাজার মাইল উইড়া নিউ ইয়র্ক থেকে ডালাস যাইতে হয় তাইলে মনে হয় একটু বেশি বেশি হয়ে যায়। কিন্তু আমার কোন খরচ নাই (সময় খরচ হওয়া ছাড়া) কম্পানী সব খরচ বহন করবে, এই আকালের জব মার্কেটে কোন সুযোগ ছাড়া উচিৎ না ইত্যাদি ইত্যাদি বইলা গুতাগুতি করতে থাকলে আমিও ভাবলাম যাই ঘুইরা আসি। কারন ডালাসে সা. ই. এর ব্লগার নিবিড় থাকে, ওর সাথে এই চান্সে দেখা হইতে পারে। সা. ই. ম্যানিয়াতে যেরকম ভাবে আক্রান্ত হয়ে আছি তাতে এই ভার্চুয়াল জগতের লোকজনকে রিয়ালিটিতে দেখার একটা খায়েশ সবসময়ই থাকে। গলার ভয়েস শুনতে পেয়েও আমরা খুশি হই (ব্লগ আড্ডা তার প্রমান)।

এইটা কি দেশের বাইরে থাকার কারনে হইতেছে নাকি জানি না, দেশের ব্লগারদেরও কি একই রকম অনুভুতি হয়? যাউকগা যথারীতি এয়ার্পোর্টে গাড়ী পার্ক করে উড়াল দিলাম। রাস্তায় কানেক্টিং ফ্লাইট ডিসিতে। পাশের সিটে দেখি এক মাইয়া বইছে, বয়স হবে ১৮/২০, ডাইরীতে ধুমাইয়া কি যেন লেখতাছে। আমি ভাবে বই পড়া শুরু করলাম কারন আমার ইন্টারভিউ আছে সুতরাং পাশের সিটে মনযোগ দেওয়ার টাইম নাই। কিন্তু একটু পরে দেখি মাইয়া ধুমাইয়া কান্দা শুরু করছে।

আমি জিগাইলাম, এক্সকিউজ মি, আর ইউ ওকে? ইয়েস আই এম ওকে, ইটস ওকে। কাহিনি হইলো যে কি এক বই পইড়া সে আবেগের বশে কানতাসে। আমি জিগাইলাম কি লেখা ঐখানে। কয় যে সে বাচ্চাদের ব্যাপারে খুব সেনসিটিভ আর সেখানে মাদার তেরেসার আশ্রম আর বাচ্চাদের কিছু কথা লেখা আছে যা পড়ে তার কান্না পইছে। আমি কইলাম মাদার তেরেসা সেতো আমাদের দেশের পাশেই থাকতো, আমাদের দেশেও কাজ করতো।

বইলাই আমি দেশ নিয়া যে লেকচার মারা শুরু করলাম স্বভাবসুলভ ভংগিতে, পুরা ভুগোল, ইতিহাস, সমাজ সব প্যাচাইয়া একেবারে ৭১ এ চইলা আসলাম যথারীতি আর এর মধ্যে আমরাও গন্তব্যে পৌছে গেলাম। প্রথমে গেলাম এক বন্ধুর বাসায়। সেখান থেকে ইন্টারভিউ দিতে। তারপর সেখান থেকে গেলাম নিবিড়ের বাসায়। আমার বন্ধু অনেক বললো যে তার বাসায় রাতে থাকতে কিন্তু কেন জানি নিবিড়ের বাসায় থাকতে ইচ্ছা হইলো, ওরেই বেশি "কোলোজ" মনে হইতেছিলো।

যাউগকা নিবিড়ের লগে দেখা হইলো। এই প্রথম কোন সা. ই. ব্লগার কে সামনাসামনি দেখলাম। একেবারেই পুলাপাইন কিন্তু আবার দাড়ি রাখছে( ফ্যাশন কইরা মনে হয়, ভালোই)। আমরা ব্লগ নিয়া গল্প শুরু করলাম , বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপুর্ন মতবিনিময় হইলো। ব্লগে ঢু মেরে দেখলাম যে তখন লৈথুলানন্দ লৈয়া তোলপাড় চলতাছে।

গল্প কইরাই সারা রাত পার করে দিলাম, মাত্র এক ঘন্টা ঘুমাইলাম আমি। তারপর ভোর ৬ টায় উঠে আবার দৌড়। বেচারা নিবিড় আমার জন্য সারারাইত ঘুমাইতে পারলো না। ওর কাছে ভালো পিৎজা ছিলো রাতে খাইলাম। আরো কি কি জানি খাইছিলাম মনে নাই।

নিবিড়কে মনে হয় ধন্যবাদ না বইলাই চলে আসছিলাম, কারন ধন্যবাদ জানানোর জন্য তো ব্লগ আছেই। তাই পুরা একটা পোস্ট নাজিল করলাম। ও আরেকটা কথা যে ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য গেসিলাম সেটা হয়নি, কারন যে ম্যানেজার ইন্টারভিউ নিবে সে আসতে পারেনি। মনে হয় আবার যেতে হবে। এইবার গেলে কিন্তু তিন/চাইর দিন থাকমু।

কি নিবিড় ডরাইলা নাকি?
 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।