বাংলার মাটি বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল, পুন্য হউক, পুন্য হউক, পুন্য হউক, হে ভগবান। বাংলার ঘর, বাংলার হাট, বাংলার বন, বাংলার মাঠ, পুর্ন হউক, পূর্ন হউক, পূর্ন হ্উক, হে ভগবান। রবীন্দ্রনাথ
আইজাক বাশেভিস সিঙ্গার।
ইনি ইড্ডিশ ভাষায় একজন শ্রেষ্ট লেখক।
বন্ধুর সঙ্গে অনেকক্ষণ ধরে গল্প করাকে ইড্ডিশ ভাষায় বলে "শমুজ"।
কী খবর? এই কথাটা ইড্ডিশ ভাষায় বলতে হলে আপনাকে বলতে হবে-নু। আবার, ভালো শব্দের অর্থও নু। সুতরাং ইড্ডিশ ভাষায় আপনাকে ভালো বলতেও ওই একই শব্দ ব্যবহার করতে হবে-নু। আর, "চুটজপাহ্" শব্দের অর্থহচ্ছে সাহস।
এই তো গেল শব্দের কথা।
এবার ইড্ডিশ অক্ষরের কথা বলি। ইড্ডিশ বর্ণমালা আদতে হিব্রুর মতোই। তবে অক্ষরের প্রয়োগে রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। The biggest difference between the Hebrew alefbet and the Yiddish alef-beyz is in the use of vowels: in Hebrew, vowels and other pronunciation aids are ordinarily not written, and when they are written, they are dots and dashes added to the text in ways that do not affect the physical length of the text. In Yiddish, however, many of the Hebrew letters have been adapted to serve as vowels and the pronunciation aids in Hebrew are reflected in the consonants. Vowels and other pronunciation aids are always written unless the Yiddish word comes from Hebrew, in which case the Yiddish word is written as it is in Hebrew, without the vowel points but with the dagesh (dot in the middle).
যাক। আর ধন্দ না বাড়িয়ে আসল কথায় আসছি।
আমরা কমবেশি জানি যে- ইহুদিরা ফিলিস্তিন থেকে উৎখাত হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ২০০০ বছর আগে। তার পর তারা পৃথিবীর নানা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। ইহুদিদের একটা বড় দল গেছিল ইউরোপে। ইউরোপে তারা কালক্রমেদুটি ভাগে ভাগ হয়ে পড়ে।
১/Ashkenazic Jews. এবং
২/Sephardic Jewish.
মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের ইহুদিরা হচ্ছে Ashkenazic Jews. আর, স্পেন, পর্তুগাল, বলকান উত্তর আফ্রিকা মধ্য প্রাচ্য হচ্ছে Sephardic Jewish.
(এদের ভাষা ছিল লাদিনো ।
সে ইতিবৃত্ত পরে লিখব। )
ইড্ডিশ ভাষায় কথা বলত মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের Ashkenazic ইহুদিরা। এবং
ভাষাটির অধিকাংশ শব্দই জার্মান ভাষা থেকে নেওয়া। এ কারণেই অনেকেই এটিকে জার্মানিক ভাষা বলে থাকেন। কথাটি অবশ্য প্রশ্নবিদ্ধ।
কেননা ইড্ডিশ হিব্রু ও অন্য ভাষারও শব্দ গ্রহন করেছিল।
ভাষাটির উদ্ভব নবম থেকে একাদশ শতকের মধ্যে। প্রথম দিকে এটি ছিল মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের ইহুদিদের মুখের ভাষা; পরে এটি লিখিত ভাষার রুপ লাভ করে।
কালক্রমে জার্মান থেকে সরে আসে ইড্ডিশ। যেমন বাংলা; সংস্কৃত থেকে।
স্বতন্ত্র হয়ে গঠন করে নিজস্ব উচচারণরীতি। গড়ে ওঠে ভাষাটির শব্দকোষ। হয়ে ওঠে মানবিক আবেগ অনুভূতির অনিবার্য মাধ্যম।
একটা উদাহরণ দিলেই বিষয়টি স্বচ্ছ হবে।
ইড্ডিশ ভাষায় shlemiel মানে: যে নিজের দোষে দুর্ভোগ পোহায়।
আর shlimazl মানে যে কোনও কারণ ছাড়াই দুর্ভোগ পোহায়। এবং nebech হচ্ছে- যে অন্যের সমস্যা কাঁধে তুলে নেয়। সব মিলিয়ে কৌতূকটা এমন- a shlemiel spills his soup, it falls on the shlimazl, and the nebech cleans it up!
এমন একটা ভাষায় লিখেছিলেন কুড়ি শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্পকার আইজাক বাশেভিস সিঙ্গার।
কাজেই ইড্ডিশ সাহিত্য যে গোড়া থেকেই অতুলীয়ন-তেমন অনুমান অস্বাভাবিক নয়। গোড়াতে ভাষাটির সাহিত্য ছিল আদতে নারীদের জন্য লেখা প্রার্থনা ছিল।
সময়টা ষোড়শ শতক। তখনই প্রথম ইড্ডিশ সাহিত্যের নমুনা পাই। নাম: “এসো এবং দেখ। ” মূলক লোকগাথা। কাজেই লেখকের নাম জানা যায় নাই।
“এসো এবং দেখ। ” ছিল নারীদের জন্য লেখা। কেননা, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের Ashkenazic ইহুদি সমাজের মেয়েরা হিব্রু নাকি পড়ত না। তাই।
আঠারো শতক থেকেই ইউরোপের ইহুদি সমাজে ধর্মনিরেপেক্ষ সাহিত্যে লেখা হচ্ছিল।
ধর্মগুরুরা যদিও পছন্দ করেননি সেসব রাবিশ! ছাপাখানায় কর্মীরা নাকি এতই রেগে গিয়েছিল ধর্মনিরেপেক্ষ সাহিত্যিকদের ওপর যে তারা নাকি টাইপ করতে শ্রেফ অস্বীকার করেছিল।
অবশ্য ইউরোপজুড়ে ইহুদিরা ভারি পছন্দ করেছিল সেকুলার লেখকদের লেখাগুলি।
ইড্ডিশ ভাষায় প্রথম সেরা লেখক হলেন শোলেম আনকেভ আব্রামোভিচেক। (শেষ শব্দটা মনে হয় হল না!) শোলেম-এর লেখার বিষয় আধুনিক মানুষ হলেও প্রেক্ষিক ছিল লোকগাথা। "বেঞ্জানিন দ্য থার্ড" হচ্ছে তাঁর লেখা সেরা রচনা।
অনেকটা ডন কুইকঝট ধরনের।
শোলেম আনকেভ আব্রামোভিচেক-এর সময় থেকেই ইড্ডিশ ভাষাটি প্রথম সাহিত্যর ভাষায় মর্যাদা পেল। ইহুদিরা ভারি কৃতজ্ঞ তাঁর কাছে। জেরুজালেমে তাঁর নামে একটি সড়ক রয়েছে নাকি শুনেছি।
শোলেম আনকেভ আব্রামোভিচেক-এর পর আরেকজন গুরুত্বপূর্ন লেখক হলেন ইটজহাক লেই পেরেটজ।
তাঁরও লেখার বিষয় আধুনিক মানুষ হলেও প্রেক্ষিক ছিল লোকগাথা।
তবে আমেরিকায় ইড্ডিশ ভাষায় সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক হলেন সলোমন রবিনোভিচ। শোলেম এ্যালেইচেম-এই ছদ্মনামে লিখতেন। রবিনোভিচ ছিলেন মার্ক টোয়েনের সমসাময়িক। আমেরিকার লোকে ওঁকে ইহুদি মার্ক টোয়েন বলত।
although legend has it that Mark Twain, upon meeting Sholem Aleichem, described himself as "the American Sholem Aleichem"!
মার্কিনীরা ওঁকে চেনে "দুধওয়ালা টেবএ ও তার কন্যারা"-এই লেখাটির জন্য।
আইজাক বাশেভিস সিঙ্গার ছিলেন ইড্ডিশ ভাষায় আরেক জন সেরা লেখক।
১৯৭৮ সালে পেয়েছেন নেবেল সিঙ্গার। নোবেল পুরস্কার গ্রহনের সময় ভাষন দিয়েছেন ইড্ডিশ ভাষায়। সিঙ্গারের জন্ম পোল্যান্ডে।
বাবা ছিলেন রাব্বী। সিঙ্গার ছোট গল্প লিখতেন। অবশ্য কটা উপন্যাস ও কটা শিশুতোষ লেখাও লিখেছেন। আধুনিক সময় ও ঐতিহ্যের বিরোধই তাঁর লেখার মূল বিষয়।
২
এবার ইড্ডিশ ভাষাটির অপমৃত্যু কীভাবে হল তাই বলি।
১৭০০ ও ১৮০০ শতকে ইহুদিরা জার্মান সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসে। ইড্ডিশ কে তখন জার্মানীতে বলা হল ইতরজনের ভাষা; বস্তির ভাষা, ঘেটোর ভাষা। তখন ইহুদিরা ভাবল: এই ভাষাকে বিসর্জন দিলেই আমাদের সম্মান বাড়বে। কাজেই ইহুদিদের মধ্যে ইড্ডিশ-এর ব্যবহার ক্রমেই কমে যেতে লাগল। কাজেই, মনে করা হয়- ইড্ডিশ ভাষাটির বিরোধীতা যতটা না অ্যান্টিসেমিটিক- তার চেয়েও বেশি ইহুদিদের নিজস্ব স্বার্থপরতা, ওদের হীনমন্যতা।
কাজেই আজ থেকে এই ১০০ বছর আগেও যে ভাষায় প্রায় দেড়শ কোটি মানুষ কথা বলত-সেটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে গেল কমে । তার একটা কারণ-আগেই বলেছি: অ্যাসিমিলেশন। অন্যটি হলোকাস্ট।
আজ আমেরিকায় ইহুদি সমাজে ২৫ লক্ষ লোকও ইড্ডিশ ভাষায় কথা বলে কিনা সন্দেহ। ইয়ং জেনারেশন তো ইড্ডিশের নামে তোতলায়।
আমাদের ইয়ং জেনারেশ যেমন বঙ্কিমের ভাষা শুনে বুঝতে পারে না!
তবে ভাষাটি আজও লুপ্ত হয়ে যায়নি।
১৮০০ শতকের মাঝামাঝি প্রকাশ পেয়েছিল ইড্ডিশ ভাষায় প্রথম সংবাদপত্র। সে সবের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক পত্রিকাও ছিল। যেমন-"ইডিশহের আরবেটার। " মানে, “ইহুদি শ্রমিক।
” ১৯৯৭ খ্রিস্টাবে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল “ফরভার্টস” পত্রিকা। অর্থ-দ্য ইড্ডিশ ফরওয়ার্ড। পত্রিকাটি নাকি আজও প্রকাশিত হচ্ছে।
আরও জানার জন্য দেখুন-
http://www.jewfaq.org/yiddish.htm
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।