আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সর্বসম্মতি ক্রমে আমাদিগের মেস "অনাথ আশ্রম" নামকরনে ভুষিত হইল।

সুখের দিনে তোমার কথা ভাবি....দুখের সাথে একলা রয়ে যাই....

সর্বসম্মতি ক্রমে আমাদিগের মেস "অনাথ আশ্রম" নামকরনে ভুষিত হইল। মাতা, পিতা, ভ্রাতা, ভগিনী ছাড়িয়া চরম কৃপণ, শয়তানের দোসর মেস ম্যানেজারের দয়ায় প্রতিপালিত হইতেছি তাহাতেই নামকরনের সার্থকতা। হায় ভগবান কোন কুক্ষনে ইহাকে মেস ম্যানেজার বানাইয়াছিলাম!!! বরবরই আমি গৃহে অলস জীবনযাপন করি । অর্থাৎ আমাকে গৃহকর্ম করিতে বলা হইলে আমি তাহাতে কদাপি সায় দেই না। খাবারে আমার আসক্তি নাই তাই বাজারে থাকিবেনা স্বাভাবিক।

মেস তৈরী করিয়াই নিজ পদবলে ঘোষনা দিয়াছিলাম প্রয়োজনে অর্থ লও, কাজ করিতে বলিবে না। ব্যঞ্জন পাক করিতে ভাল লাগে বলিয়া কদাচিৎ পাক করিয়া খাওয়াইতে স্বীকৃত হইলাম। মেস ম্যানেজার কর্মস্থলে নানাবিধ ত্রুটি সম্পাদন করিত যাহার ফলস্বরুপ আমার নিকট গালি খাইতে খাইতে কখনও অরুচি প্রকাশ করিতনা। তাহাকে যখন এই পদ দান করা হইল সে নির্দ্বিধায় মানিয়া লইল কিন্তু শর্ত রাখিল আমি যেইরুপ পদবলে স্বৈরতন্ত্র চালাই তেমনই মেসে তাহার স্বৈরতন্ত্র মানিয়া লইতে হইবে। বাজার করিবার ভয়ে আমিও মানিলাম।

সেই সময়ে শয়তানি বুঝিতে পারিনাই। সকালে উঠিয়া এক পেয়ালা চা পাইলাম যাহাতে দুগ্ধ নামক তরলের অবস্থান নাই। সাথে দুইখানা বিস্কুট খাইবনা বলিতেই প্লেট হইতে অপসারিত হইয়া গেল। ব্রেকফাস্ট শুধু নামেই শুনিয়াছি দর্শনভাগ্য হয় নাই। অফিস যাইবার আগে ভাত আসিল যাহার একটি মাটিতে ছুড়িয়া মারিলে থালায় ফেরত আইসে।

শুকনা ঢ্যাড়শ ভাজা, সাথে জলকে লজ্জায় ফেলিবার মতন ডাল সহযোগে বোল্ডার চাউল সিদ্ধ খাইয়া অফিস যাইতে হইল। সন্ধ্যায় উদরস্থিত মুষিকপ্রবর ক্ষুধার কথা স্মরন করাইয়া দিলে টিফিন চাহিলাম। জানানো হইল অনতিকাল পরেই ডিনার মিলিবে এখন খাইয়া ডিনার নষ্ট করিবার কোন অর্থ হয়না। ডিনারে ডালের পাশে ঢ্যাঁড়শ সিদ্ধের শোভা লক্ষ করিলাম। ইহাই চলিতে লাগিল।

কোন মদনের বাণে ম্যানেজারের সহিত ঢ্যাঁড়শ আর ডালের গভীর প্রেম জন্মাইল বলিতে পারিব না। এমন হইয়া গিয়াছিল কোয়ার্টারে খাইতে যাওয়ার কথা চিন্তা হইলেই মুষিকপ্রবর গর্তে সেঁধিয়া যাইতেন। কিছু বলিলেই বাজারের থলি দেখাইয়া ফনা নামানো হইত। দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গেলাম। কর্মস্থলে অধিক চাপ চাপানো শুরু করিলাম তাহার ফল হইল বিপরীত।

যাহা জুটিত তাহাও প্রায় বন্ধ হয়। কৈফিয়ত আসিল এত কাজের চাপে বাজার করিতে পারিতেছিনা। ক্ষান্ত দিলাম। অফিসের কাজ কমাইয়া ভাল ব্যবহার শুরু করিলাম। ফল মিলিল অনতিবিলম্বে।

এক ছুটির দিনের প্রভাতে বাবু কহিলেন, দাদা আপনার স্বাস্থ্যের অবনতি হইতেছে তাই কমলালেবু আনিয়াছি। মনে করিয়া খাইবেন। মন অতিশয় পুলকিত, আহাঃ কতদিন খাইনা। দুপুরবেলা আয়েশ করিয়া কমলালেবু লইয়া বসিলাম। আমার সম্মুখে বসিয়া সেও নিরুদ্বেগে লেবু খাইতেছিল।

আমিও একখানা কোয়া লইয়া কেবলই চুষিয়াছি ছিটকাইয়া উঠিলাম। ইহা কি কমলালেবু!!! লেবুও ইহার রসের স্বাদে কষ্ট পাইবে। চিৎকার করিয়া বলিলাম, আমার সহিত তোমার কিসের শত্রুতা। তাহার কোন বিকার নাই, আরেকখানি কোয়া মুখে পুড়িয়া বলে, কেন কি হইয়াছে!!! লেবু টক শুনিয়া বলিল, উহাই বাজারে কম দাম আর টক তাহাতে কি! টক লেবুতে ভিটামিন "সি" বেশি পরিমানে থাকে, আপনার শরীরে ভিটামিন প্রয়োজন। আফশোষ তাহার ভাগের লেবুর এককোয়া সেই দিন খাইয়া দেখিনাই।



এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।