জয় আর জিম্বাবুয়ের মাঝখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মিসবাহ-উল-হক। কিন্তু মিসবাহ-বাধা জয় না করেও ম্যাচ জিতে নিয়েছে জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় টেস্টে ২৪ রানে পাকিস্তানকে হারিয়ে পেয়েছে টেস্টে ১১তম জয়। যথেষ্ট ম্যাচ না খেলায় গত কয়েক বছর আইসিসির টেস্ট র্যাঙ্কিংয়েই ছিল না জিম্বাবুয়ে, সিরিজ ড্র করার সঙ্গে আনন্দের বাড়তি উপলক্ষ হয়ে এসেছে র্যাঙ্কিংয়ে প্রত্যাবর্তন। বাংলাদেশকে ১০ নম্বরে নামিয়ে জিম্বাবুয়েই এখন নয় নম্বরে।
বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দলের বিপক্ষে প্রায় ১০ বছর পর টেস্ট জয়। রাহাত আলীর রানআউটে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে উঠল পুরো দল। মাঠের খেলা ও উদ্যাপন দেখে কে বলবে, এই দলটাই ঠিকমতো বেতন-ভাতা না পেয়ে হুমকি দিয়েছিল সিরিজ বর্জনের। জয় থেকে ৫ উইকেটের দূরত্বে থেকেই দিনটা শুরু করেছিল জিম্বাবুয়ে। পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১০৬ রান এবং আশা হয়ে ছিলেন মিসবাহ।
প্রথম ঘণ্টাতেই পাকিস্তান ৭ উইকেটে ১৯৭, মিসবাহর কি তখন মনে পড়ছিল ইনজামামের কথা? ২০০৩ সালে মুলতানে প্রায় একই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় পাওয়াটাকে বছর দেড়েক পিছিয়ে দিয়েছিলেন সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক। মিসবাহ অবশ্য ‘ইনজামাম’ হতে পারলেন না। ব্যাট হাতে অপরাজিত থেকেও হেরে গেলেন টেন্ডাই চাতারা নামের ২২ বছর বয়সী এক তরুণের কাছে। ৬১ রানে ৫ উইকেট, চার টেস্টের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট পেলেন চাতারা। দিনের শুরুতেই আদনান আকমলকে এলবিডব্লু করা চাতারা লাঞ্চের ঠিক আগে আগে একইভাবে ফেরালেন সাঈদ আজমলকে।
যা করার আমাকেই করতে হবে, এই ভাবনা থেকেই লাঞ্চের পর বেশ আক্রমণাত্মক মিসবাহ। চার ওভার পর আসছে নতুন বল, এটাও নিশ্চয়ই মাথায় ছিল। প্রথম দুই ওভারে সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক ধরে রাখার পর চাতারার এক ওভার থেকেই নিলেন দুটি চারসহ ১১ রান। পরের ওভারে ভিটরিকেও দুটি চার। সর্বনাশ করেছে শেষ বাউন্ডারিটাই।
ভিটরির শেষ বলে ওই বাউন্ডারির কারণেই নতুন বলের প্রথম ওভারে স্ট্রাইক পেলেন না মিসবাহ। জুনাইদ খান চাতারার করা প্রথম তিন বল কোনোরকমে পার করলেও চতুর্থ বলে স্লিপে ক্যাচ দিলেন। পরের বলে রাহাত আলী ক্যাচ হতে হতেও পেলেন ১ রান। শেষ বলটা মিসবাহ কাভারে ঠেলে দেওয়ার পরই রানের জন্য ছুটলেন রাহাত। মিসবাহ তাঁকে ফিরিয়ে দিলেও রাহাত আর ফিরতে পারলেন না নন-স্ট্রাইক প্রান্তে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।