অনেকদিন পর দেশে যাচ্ছিলাম। কাতার এয়ারওয়েজ এর টিকেট পাওয়া গেল অনেক কষ্টে। দোহা ট্রানজিট। নির্দিষ্ট দিনে ই মেগ্রেশন পার হয়ে এয়ার ক্রাফটের ভেতর বসলাম নিদিষ্ট সিটে। লন্ডন হিথরো থেকে কাতারের দোহা পযন্ত কোন সমস্যা হলোনা।
খুব ভালো সাভিস দেয়া হলো এবং এয়ার ক্রাফটের ভেতরে কবরের নিস্তব্ধতা লক্ষ্য করলাম। দোহা এসে গেলাম ঠিক সময়ে এরপর এক ঘন্টা অপেক্ষা করে আবার কাতার এয়ারলাইনসের আরেকটি এয়ার ক্রাফটে। প্রায় সব যাত্রীই বাংলাদেশী। প্রথমেইশুরু হলো সিট নিয়ে বিপত্তি। আমার সিটে এক ভদ্রলোক(?) বসে আছেন এবং এয়ার হোস্টেসরা তাকে যতই অনুরোধ করেন সিট ছেড়ে দিতে ততই তিনি ক্ষেপে যান।
অবশেষে তারা আমার কাছে ক্ষমা চাইলেন এবং ভদ্রলোকের(?) পাশের সিটে বসতে অনুরোধ করলেন। অগ্যতা কি আর করা, বসে পড়লাম। আমার পেছনের সিটগুলুতে বসেছেন দুজন নোয়াখালির লোক(তাদের ভাষা শুনে বুঝেছি)। প্লেন টেক অফ করার পর আামি চেয়ারটা হেলিয়ে দিলাম। এর মধ্যে আমার সামনে ভিডিও স্কিনে ছবি শুরু হয়েছে।
হঠাৎ লক্ষ্য করলাম পেছন থেকে প্রচন্ড জোরে কেউ ধাক্কা দিচ্ছে। পেছনে ফিরে দেখলাম আমার সিট হেলে দেওয়াতে নোয়াখালির ভাইয়ের স্কিনে ছবি দেখতে অসুবিধা হচ্ছে এবং আমার সিটটাকে সামনে ঠেলার জন্য তিনি পা দিয়ে লাথি মারছেন। আমি তাকে এই সমস্যার সমাধান করে দিলাম। তার কোন ভাবান্তর হলোনা। কিছুক্ষণ পর খাবার পরিবেশন করা হলো।
আমার পাশের সিটের ভদ্রলোককে(?) দেখলাম হুয়াইট ওয়াইনের বোতল নিয়ে বসেছেন। এয়ার ক্রাফটের ভেতরটাকে বাজার মনে হলো। সবাই উচ্চ স্বরে কথা বলছে । এর মধ্যে কেউ কেউ দুযোগ মুহূতেও হাটাহাটি করছে। এয়ার হোস্টেসরা বিরক্ত হয়ে অনেক আগেই প্লিজ বলা ছেড়ে দিয়েছে।
বার বার ধুমপান নিষিদ্ধ ঘোষনা করার পরও অনেকে সিগারেট জা্বলিয়ে বসেছেন। কেউ কেউ টয়লেটে গিয়ে সিগারেট খাওয়ার চেষ্টা চালালেন। এসবের পর আমার জন্য আরো চমক অপেক্ষা করছিলো। আমার পাশের ভদ্রলোক(?) আমার গায়ের উপর বমি করে দিলো। অতপর আবার সেই এয়ার হোস্টেসদের ক্ষমা চাওয়া পব।
আামি টয়লেটে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসার সময় পাইলটের ঘোষনা শুনলাম । আর কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা ঢাকা আন্তযাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে যাচ্ছি । জানালা দিয়ে আমার জন্মভূমিটাকে দেখার চেষ্টা করলাম। এতক্ষণের বিরক্তিকর অবস্থাগুলো এক নিমিষেই উড়ে গেলো যখন দেখলাম সবুজের বন আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।