ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেতা কমল হাসান এই খেতাবপ্রাপ্তির পর এক বিবৃতিতে ব্যক্ত করেন তার অনুভূতি।
তিনি বলেন, “আমি বিস্মিত। এই খেতাবপ্রাপ্তি আমাকে আবেগাপ্লুত করে তুলেছে। ভারতীয় হিসেবে আমি গর্বিত। ”
তিনি আরও বলেন, “আজ আমি যেখানে ছিলাম, সেখানে আমার চারপাশে ছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের সফল মানুষেরা।
এমন সব রথী-মহারথীদের মধ্যে দাঁড়াতে পেরে আমি দারুণ শিহরিত। আজ, আরও একবার নিজের দেশের প্রতি কর্তব্যের শপথ গ্রহণ করলাম। আশা করছি, ভবিষ্যতে আর আমাকে অভিমান করে দেশ ছাড়ার কথা ভাবতে হবে না। নিজেকে এখন একজন ইতিবাচক মানুষ হিসেবেই দেখতে পাচ্ছি আমি। ”
ষাটের দশকে একজন শিশুশিল্পী হিসেবে রূপালিজগতে পদার্পণ করা কমল হাসানকে অভিহিত করা হয় ভারতের সবচেয়ে প্রতিভাবান এবং প্রভাবশালী অভিনেতাদের একজন হিসেবে।
মাত্র চার বছর বয়সে তার অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘কাল্লাতুর কান্নামা’-এর জন্য রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক অর্জন করেন তিনি।
৫০ বছরেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তার অর্জন ৪টি জাতীয় পুরস্কার এবং ১৯টি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড। প্রধানত তামিল ভাষার সিনেমায় অভিনয় করলেও তেলেগু এবং হিন্দি ভাষার সিনেমায়ও একসময় অভিনয় করেছেন সমানতালে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘কন্যাকুমারী’(১৯৭৪) ‘আপুর্ভা রাঙ্গালাল’ (১৯৭৫), ‘আকালি রাজ্ইয়াম’(১৯৮১), ‘মুন্দ্রাম পিরাই’(১৯৮২), ‘সাগারা সাঙ্গাম’ (১৯৮৩), ‘সাদমা’(১৯৮৩), ‘নায়াগান’ (১৯৮৭), ‘ইন্ডিয়ান’ (১৯৯৬), ‘হে রাম’ (২০০০)।
নব্বইয়ের দশকপরবর্তী কমল হাসানকে দেখা গেছে নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থার সিনেমাগুলোতে।
২০১৩ সালের সিনেমা ‘বিশ্বরূপম’-এর মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। বিশাল বাজেটের ওই সিনেমার বিষয়বস্তু ‘বিতর্কিত’ হওয়ায় দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এর মুক্তির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছিল তামিলনাড়ু সরকার। বিষয়টি নিয়ে অসন্তুষ্ট কমল অভিমান করে ওই সময় ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার। পরে অবশ্য সকল আইনি বাধা কাটিয়ে ঠিকই মুক্তি পায় ‘বিশ্বরূপম’। দেড় কোটি মার্কিন ডলার বাজেটের ওই সিনেমা বিশ্বব্যাপী আয় করে ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
এ বছর ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক খেতাব ‘পদ্মভূষণ’ অর্জনের আগে ১৯৯০ সালে ‘পদ্মশ্রী’তে ভূষিত হয়েছিলেন কমল।
অন্যদিকে, বলিউডি অভিনেত্রী বিদ্যা বালানের এটিই প্রথম পদ্ম সম্মাননা। নারীকেন্দ্রিক সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সুপরিচিত ওই অভিনেত্রী এর আগে ‘ডার্টি পিকচার’ সিনেমার জন্য অর্জন করেছিলেন ২০১১ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
দশ বছরের অভিনয় জীবনে তিনি জিতে নিয়েছেন পাঁচটি ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড। তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ‘পরিণীতা(২০০৫), ‘গুরু’ (২০০৭) ‘পা’ (২০০৯), ‘ইশকিয়া’(২০১০), ‘নো ওয়ান কিল্ড জেসিকা’(২০১০), ‘দ্য ডার্টি পিকচার’(২০১১) এবং ‘কাহানি’ (২০১২)।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।