মিলিব্যান্ডের নির্বাচনী ম্যাজিকঃইউনির্ভাসিটি ফিস ৩,০০০ পাউন্ড কমানোর পরিকল্পনা আর আমাদের নেত্রীরা
সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ-লন্ডন থেকে
ব্রিটিশ লেবার পার্টি স্টুডেন্ট এবং অভিভাবকদের মন জয় ও একই সাথে গ্র্যাজুয়েটদের পাহাড় সমান ঋণ ও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফিস কমানোর লক্ষ্যে পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ফাইনালাইজড করেছে বলে জানা গেছে।
লেবার দলীয় নেতা মিলিব্যান্ড চাচ্ছেন উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে স্টুডেন্ট ফিস ৯,০০০ পাউন্ড থেকে কমিয়ে ৩,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত করার। লেবার দলের ভিতরের পলিসি মেকার সূত্রে জানা গেছে এই ফিস কমানোর হার ৪,০০০ হাজার পর্যন্তও হতে পারে, কনজারভেটিভ দলের পেনশন রিফর্মসের বিপরীতে ভোটারদের দৃষ্টি ও সহানুভূতি আকর্ষণের জন্যে।
অনেকেই সমালোচনা করছেন, লেবার যদি তাই করে তাহলে ট্রেজারির অতিরিক্ত খরচ হবে এটা বাস্তবায়নের জন্য ১.৭ বিলিয়ন পাউন্ড কিন্তু লেবার দলীয় সূত্র দাবী করছেন, এর জন্য ট্রেজারির অতিরিক্ত খরচ বাড়াতে হবেনা, কেননা অধিক হারের স্টুডেন্ট ডেবট রাইট-অফ করার পরিকল্পনা নিয়েই মিলিব্যান্ড স্টুডেন্ট ফিস কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন।
বিগত ২০১১ সালের লেবার দলের কনফারেন্সে দলের লিডার মিলিব্যান্ডের স্পীচে স্টুডেন্ট লোন উঠেছিলো, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমানে লেবার দল কালকুলেট করে পেয়েছে অন্তত: ৪৫ পার্সেন্ট ডেবট রাইট-অফ করতে হবে।
দলীয় পলিসি মেকারদের ভিতরের সূত্র দাবী করছে, লেবার দল হয়তো স্টুডেন্ট লোন স্ক্র্যাপ করে ফেলতে পারে। সেরকম চিন্তা-ভাবনা নিয়েই কাজ চলছে। লেবার দলের শ্যাডো এডুকেশন মিনিস্টার লিয়াম জানিয়েছিলেন, লেবার দল স্টুডেন্ট লোন নিয়ে দুধরনের রিফর্ম নিয়ে ভাবছে। এর একটি হলো কন্টিনিউ ফিস কাট এবং দ্বিতীয়স্টেজে গ্র্যাজুয়েট ট্যাক্সে রূপান্তর।
স্টুডেন্ট লোনের ডিফল্ট রেকর্ড পরিমাণ সর্বোচ্চ- পরিসংখ্যান তাই বলছে।
বিবিসির আন্ড্রোমার- শোর সাথে আলাপ কালে লেবার দলের শ্যাডো ফরেন সেক্রেটারি ডগলাস অ্যালেক্সান্ডার বলেছেন, আমি আশা করছি এবং দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের কাছে স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স ও লোন এবং ছাত্র ছাত্রীদের জন্য সব চাইতে বেটার সলিউশন আছে, যা আমরা কনজারভেটিভের নেয়া স্টুডেন্ট ফিস বৃদ্ধির কাজ দেখেছি, এবং সেজন্যেই আমরা আমাদের ম্যানিফেস্টোতে এ ব্যাপারে যথাযথভাবেই এড্রেস করেছি।
গতরাতে লেবার দলের মুখপাত্র জানিয়েছেন, লেবার দলের ম্যানিফেস্টোতে স্টুডেন্টদের ফিস নিয়ে যথার্থই এড্রেস করেছে, তবে লেবার লিডার মিলিব্যান্ড এখন ক্লিয়ারলি স্টুডেন্টদের কল্যাণে সঠিক ডাইরেকশন নির্ধারণ করছেন, যাতে আমরা সকলেই যাত্রী হবো।
কোয়ালিশন সরকার ও কনজারভেটিভ সময়ে এখন একজন উচ্চ শিক্ষার জন্য ইউনিভার্সিটিতে টিউশন ফিস বছরে ৯,০০০ পাউন্ড সহ আরো আনুষঙ্গিক খরচ কন্টিনিউ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা গ্র্যাজুয়েট হওয়ার সাথে সাথে একজন ছাত্র কিংবা ছাত্রী লোনের পাহাড় মাথায় নিয়ে ইউনিভার্সিটি থেকে বের হচ্ছেন, যা সেই ছাত্র কিংবা ছাত্রী ও তার পরিবারের সকলের জন্যই উদ্বেগের।
মিলিব্যান্ড আগামী নির্বাচনের যাত্রায় স্টুডেন্টদের এবং অভিভাবকদের এই লোনের বোঝা কমিয়ে ৯,০০০ থেকে ৩,০০০ হাজার পাউন্ড কিংবা ৪,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত হ্রাস করার পরিকল্পনা নিয়েছেন।
কনজারভেটিভের একজন মুখপাত্র মিলিব্যান্ডের এই পরিকল্পনার ব্যাপারে বলছেন, মিলিব্যান্ড ৮০০ মিলিয়ন আনফান্ডেড স্পেন্ডিং এর প্রমিজ করেছেন, যার মানে হলোই আরো অধিক পরিমাণে বরোয়িং এবং অধিকহারে ট্যাক্স- আর এর অর্থই হলো ব্রিটেনের ফিউচার অর্থনীতির নিরাপত্তা অনিশ্চিত।
উল্লেখ্য লিবারেল ডেমোক্রেট ইলেকশনের পূর্বে স্টুডেন্ট টিউশন ফিস কমানোর কথা বললেও যখন কোয়ালিশনে জয়েন করলেন তখন স্টুডেন্ট ফিস ৯,০০০ পাউন্ড করার সিদ্ধান্তে সাপোর্ট করেন। এ নিয়ে লিবারেল ডেমোক্রেটের লিডার নিক ক্লেগ স্টুডেন্টদের ঘেরাও ও সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন।
তবে মিলিব্যান্ড ও লেবারের এই নতুন টিউশন ফিস হ্রাসের পরিকল্পনা ব্রিটিশ পরিবার ও অভিভাবকদের জন্যে সুখবর সন্দেহ নেই। ইতিমধ্যেই অনেক অভিভাবক মিলিব্যান্ডকে স্বাগত জানিয়েছেন।
পাদটীকা- আমাদের দেশেও আছেন সরকারি দল, বিরোধী দল।
আছে পার্লামেন্ট, বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি। যথারীতি নির্বাচনের সময় ম্যানিফেস্টো দেয়া হয়। কিন্তু এভাবে যদি ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণে, দেশের অভিভাবকদের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে সরকারী দলের সাথে তাদের নেয়া পরিকল্পনার পদক্ষেপের ও একশনের বিপরীতে নতুন পরিকল্পনা প্রণয়নের কথা ভাবতো, প্রমিজ করতো, কাজ করতো- তাহলে দেশের সাধারণ জনগণ এবং লাখো কোটি ছাত্র ছাত্রী কতো উপকৃত হতো।
ব্রিটেনেও ওয়েস্টমিনিস্টার স্টাইলের গণতন্ত্র-যা আমাদের দেশেও নামের সাথে মিল রেখেই একই আছে, অথচ সেই একই নামের গণতন্ত্র চর্চা করছেনা। কিন্তু এভাবে আর অ-গণতান্ত্রিক পন্থায় চলা ও চর্চায় আর কতোকাল চলবে ? পরিবর্তন কি হবেনা ?
আমাদের দেশের দুই দল ও দলনেত্রী হাসিনা খালেদা কি পরিবর্তনের রাজনীতির জন্য হাজারো লাখো ছাত্র ছাত্রীদের ভবিষ্যতের কল্যাণের কথা গণতান্ত্রিক পন্থায় ভাবতে পারেননা ? অথচ গণতন্ত্রের বিকাশ ও বিনির্মাণের জন্য তা খুবই জরুরী।
ছাত্ররাজনীতির নামে যে গুণ্ডামি, মাসলনম্যান আর টেন্ডার বাণিজ্য ও অস্রবাজী যেভাবে চলছে, সদইচ্ছা আর ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ কল্যাণের কথা ভাবলে এমনতর ছাত্ররাজনীতি উনারা চালু রাখতে পারেন না কিছুতেই, এটা কি ছাত্র সমাজ, অভিভাবক সকলেই বুঝেন ভালো করে। অথচ বুঝে শুনে সকলেই করেন বিষপান। কিন্তু কেন ? নিজের বিবেককে জাগ্রত করুন, আর কতো এভাবে খুড়িয়ে খুড়িয়ে অন্যের ও দলের দাসত্বের শৃঙ্খলে চলা?
Salim932@googlemail.com
02nd April 2014, London.।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।