আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

উফার পাড়ার অন্ধ তিন বোনের জীবন বাঁচালো !

বিএসসি প্রকৌশলী ও এক সময়ের তুখড় টিভি সাংবাদিক প্রতি বছর পালন করা হয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধি দিবস। শুধু মাত্র দৃষ্টি হীনতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে এ দিবসের আবির্ভাব। কিন্তু দৃষ্টি হীনতা সম্পর্কে মানুষকে কতটুকু সচেতন করতে পারছি আমরা! এ্রখনো দৃষ্টি হীনতা নিয়ে সমাজে রয়েছে অনেক কুসংস্কার। দৃষ্টি প্রতিবন্ধি দিবসকে কেন্দ্র করে এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি কেরামত উল্লাহ বিপ্লব এর তিন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি বোন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। প্রতিবেদন প্রচারের রাতেই পুরো বিশ্বের বাংলা ভাষা ভাষীদের মধ্যে পরে যায় ব্যাপক তোলপাড়।

নিমিশের মধ্যে অনলাইন মডিয়া গুলোতে আসা শুরু হয় শত শত মানুষের প্রতিক্রিয়া। বুড়ী মারি সীমান্তের এক কিলোমিটারেরও কাছে উফারপাড়া নিবাসী দিন মজুর ইফার উদ্দিন। জন্মের পরপরই অন্ধ হয়ে যায় তাঁর তিন মেয়ে মুন্নী, স্বপ্না ও রত্না। এ ঘটনায় গ্রামের অশিক্ষিত মানুষের জন্য তাকে অভিশপ্তের অপবাদ বয়ে বেরাতে হচ্ছে। এমন অপবাদ বয়ে বেরাতে ও দুঃখ কষ্টে অনেকটা ইফার উদ্দিন দমপতিরও অন্ধ হবার যোগার।

তার তিন মেয়ের অন্ধত্বে বংশত্বের কোন ব্যাপার আছে কিনা এ ব্যাপারেও সংশয় প্রকাশ করেছে্ন দেশের চক্ষু বিশেষজ্ঞগণ। অন্ধত্বে, প্রথমে গ্রামের ঋতিমত, কবিরাজি চিকিৎসা করিয়েছেন তিনি। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজে। কোন খানেই মিলেনি সমাধান। টাকার অভাব তাকে কোন দিন ঢাকায় এসে ভালোভাবে চিকিৎসা/ অপারেশন করানোর সাহস যোগাতে পারেনি।

এঘটনার অধিকাংশ তথ্য এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি কেরামত উল্লাহ বিপ্লব এর প্রতিবেদনে ফুঁটে আসায় এই অসহায় পরিবারকে রাজধানী ঢাকায় আনা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ পরচালক ডা. মোখলেছুর রহমানের উপস্থিতিতেই এখানেই চলে তাদের চিকিৎসা। সেখান তার চিকিৎসক জানান তিন বোনের ‘রেটিনিটিস পিগমেন্টোসা’ রোগের কথা। ‘রেটিনিটিস পিগমেন্টোসা’ সম্পর্কে বিশদ আলোচনার জন্য ‘অকুনোভা আই হসপিটালের’ পরিচালক ড. জাহিদ হাসান কে প্রশ্ন করলে তিনি জানান ‘রেটিনিটিস পিগমেন্টোসা’ হলে পেরিফেরাল ভিশন কমে যায়। রোগী দিনে- রাতে যেকোন সময়ে কম দেখে।

সবচেয়ে বড় ব্যাপার এরোগ বংশানুক্রমে হতে পারে। মুলত রেটিনায় দাগ পড়ার জন্য এই সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসা স্বরৃপ ভিটামিন এ ও কিছু কো এনজাইম দেয়া যেতে পারে। ‘রেটিনিটিস পিগমেন্টোসা’ সম্পর্কে আরো তথ্য জানা যায়, বর্তমানে এ রোগের খুব ভালো চিকিৎসা সেই। ২০০৬ থেকে ২০১০ এবং বর্তমানেও ইদুর দিয়ে দেশ দেশান্তরে এরোগ নিয়ে গবেষনা চলছে।

ডায়গনোসিসের জন্য ইআরজি ও ভিসুয়াল ফিল্ড টেষ্টিং করা যেতে পারে। রোগ ধীরে ধীরে এটা স্থায়ী অন্ধত্বে রূপ নিতে পারে। আবার ভালোও হতে পারেন। সংশ্লিষ্ট ছবিতে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে স্বাভাবিক মানুষের চোখের চেয়ে ‘রেটিনিটিস পিগমেন্টোসা’ আক্রন্ত রোগীর চোখ অনেকটা কালো। অর্থাৎ রেটিনায় কালো দাগ পরায় এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগটির মূল সমস্যাই রেটিনায়। আলোতে সংবেদনশীল চোখের ভিতরের অংশ যা আমাদের ছবি দখতে সাহায্য করে তাকেই রেটিনা বলে। সোজা কথায় বলতে গেলে ক্যামেরার ফ্লিম যে কাজ করে রেটিনা আমাদের চোখের সে কাজ করে। রেটিনায় মূলত দু ধরনের কোষ থাকে ‘রড’ ও ‘কোন’। রেটিনার সাথে সরাসরি মস্তিস্কের সংযোগ।

আলো রেটিনায় পরলে তা নার্ভের মাধ্যমে মস্তিস্কে চলে যায়। আর এক কথায় পিগমেন্ট অর্থ রঙ। এই প্রতিবেদনের সংশ্লিষ্ট চোখের ছবির এনাটমিতে ভালোভাবে বুঝা যাচ্ছে কি সমস্যা হলে ‘রেটিনিটিস পিগমেন্টোসা’ হয়ে থাকে। আমরা লক্ষ্য করলে ভালো ভাবে বুঝতে পারব স্বাভাবিক মানুষের রেটিনার অংশে যে রঙ থাকার কথা ‘রেটিনিটিস পিগমেন্টোসা’ হলে সে অংশে কিছুটা কালোভাব চলে আসে। আর এটাই এ রোগের কারন।

এতদিন অভিশপ্তের যে অপবাদ নিয়ে ঘুরে ফিরেছের দিন মজুর ইফার উদ্দিন তা আর কিছুই না। তার তিন মেয়েরই চোখের রেটিনায় সমস্যার জন্য দৃষ্টিহীনতা দেখা দিয়েছে। কিন্তু এতোটা বছর তাকে অপবাদ নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়েছে। আমারা কি কখনো চিন্তা করতে পারি তার দিনগুলো কেমন কেটেছে! গ্রামের মানুষের ন্যুন্যতম জ্ঞান না থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরতে হয়েছে ইফার উদ্দিনকে। এভাবে জ্ঞান বিজ্ঞান সম্পর্কে না জানা থাকায় প্রতিদিনই অনেক ইফার উদ্দিন বেদনায় দিন কাটাচ্ছেন।

কখনোবা প্রান ও হাড়াচ্ছেন। কিন্তু একটু জ্ঞান আর কুসংস্কার মুক্ত সমাজ হয়তো বাচাঁতে পারে এসব প্রাণ। প্রতি বছর পালন করা হয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধি দিবস। শুধু মাত্র দৃষ্টি হীনতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে এ দিবসের আবির্ভাব। কিন্তু দৃষ্টি হীনতা সম্পর্কে মানুষকে কতটুকু সচেতন করতে পারছি আমরা! এ্রখনো দৃষ্টি হীনতা নিয়ে সমাজে রয়েছে অনেক কুসংস্কার।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধি দিবসকে কেন্দ্র করে এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি কেরামত উল্লাহ বিপ্লব এর তিন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি বোন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। প্রতিবেদন প্রচারের রাতেই পুরো বিশ্বের বাংলা ভাষা ভাষীদের মধ্যে পরে যায় ব্যাপক তোলপাড়। নিমিশের মধ্যে অনলাইন মডিয়া গুলোতে আসা শুরু হয় শত শত মানুষের প্রতিক্রিয়া। বুড়ী মারি সীমান্তের এক কিলোমিটারেরও কাছে উফারপাড়া নিবাসী দিন মজুর ইফার উদ্দিন। জন্মের পরপরই অন্ধ হয়ে যায় তাঁর তিন মেয়ে মুন্নী, স্বপ্না ও রত্না।

এ ঘটনায় গ্রামের অশিক্ষিত মানুষের জন্য তাকে অভিশপ্তের অপবাদ বয়ে বেরাতে হচ্ছে। এমন অপবাদ বয়ে বেরাতে ও দুঃখ কষ্টে অনেকটা ইফার উদ্দিন দমপতিরও অন্ধ হবার যোগার। তার তিন মেয়ের অন্ধত্বে বংশত্বের কোন ব্যাপার আছে কিনা এ ব্যাপারেও সংশয় প্রকাশ করেছে্ন দেশের চক্ষু বিশেষজ্ঞগণ। অন্ধত্বে, প্রথমে গ্রামের ঋতিমত, কবিরাজি চিকিৎসা করিয়েছেন তিনি। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজে।

কোন খানেই মিলেনি সমাধান। টাকার অভাব তাকে কোন দিন ঢাকায় এসে ভালোভাবে চিকিৎসা/ অপারেশন করানোর সাহস যোগাতে পারেনি। এঘটনার অধিকাংশ তথ্য এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি কেরামত উল্লাহ বিপ্লব এর প্রতিবেদনে ফুঁটে আসায় এই অসহায় পরিবারকে রাজধানী ঢাকায় আনা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ পরচালক ডা. মোখলেছুর রহমানের উপস্থিতিতেই এখানেই চলে তাদের চিকিৎসা। সেখান তার চিকিৎসক জানান তিন বোনের ‘রেটিনিটিস পিগমেন্টোসা’ রোগের কথা।

‘রেটিনিটিস পিগমেন্টোসা’ সম্পর্কে বিশদ আলোচনার জন্য ‘অকুনোভা আই হসপিটালের’ পরিচালক ড. জাহিদ হাসান কে প্রশ্ন করলে তিনি জানান ‘রেটিনিটিস পিগমেন্টোসা’ হলে পেরিফেরাল ভিশন কমে যায়। রোগী দিনে- রাতে যেকোন সময়ে কম দেখে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার এরোগ বংশানুক্রমে হতে পারে। মুলত রেটিনায় দাগ পড়ার জন্য এই সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসা স্বরৃপ ভিটামিন এ ও কিছু কো এনজাইম দেয়া যেতে পারে।

‘রেটিনিটিস পিগমেন্টোসা’ সম্পর্কে আরো তথ্য জানা যায়, বর্তমানে এ রোগের খুব ভালো চিকিৎসা সেই। ২০০৬ থেকে ২০১০ এবং বর্তমানেও ইদুর দিয়ে দেশ দেশান্তরে এরোগ নিয়ে গবেষনা চলছে। ডায়গনোসিসের জন্য ইআরজি ও ভিসুয়াল ফিল্ড টেষ্টিং করা যেতে পারে। রোগ ধীরে ধীরে এটা স্থায়ী অন্ধত্বে রূপ নিতে পারে। আবার ভালোও হতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট ছবিতে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে স্বাভাবিক মানুষের চোখের চেয়ে ‘রেটিনিটিস পিগমেন্টোসা’ আক্রন্ত রোগীর চোখ অনেকটা কালো। অর্থাৎ রেটিনায় কালো দাগ পরায় এ রোগ হয়ে থাকে। রোগটির মূল সমস্যাই রেটিনায়। আলোতে সংবেদনশীল চোখের ভিতরের অংশ যা আমাদের ছবি দখতে সাহায্য করে তাকেই রেটিনা বলে। সোজা কথায় বলতে গেলে ক্যামেরার ফ্লিম যে কাজ করে রেটিনা আমাদের চোখের সে কাজ করে।

রেটিনায় মূলত দু ধরনের কোষ থাকে ‘রড’ ও ‘কোন’। রেটিনার সাথে সরাসরি মস্তিস্কের সংযোগ। আলো রেটিনায় পরলে তা নার্ভের মাধ্যমে মস্তিস্কে চলে যায়। আর এক কথায় পিগমেন্ট অর্থ রঙ। এই প্রতিবেদনের সংশ্লিষ্ট চোখের ছবির এনাটমিতে ভালোভাবে বুঝা যাচ্ছে কি সমস্যা হলে ‘রেটিনিটিস পিগমেন্টোসা’ হয়ে থাকে।

আমরা লক্ষ্য করলে ভালো ভাবে বুঝতে পারব স্বাভাবিক মানুষের রেটিনার অংশে যে রঙ থাকার কথা ‘রেটিনিটিস পিগমেন্টোসা’ হলে সে অংশে কিছুটা কালোভাব চলে আসে। আর এটাই এ রোগের কারন। এতদিন অভিশপ্তের যে অপবাদ নিয়ে ঘুরে ফিরেছের দিন মজুর ইফার উদ্দিন তা আর কিছুই না। তার তিন মেয়েরই চোখের রেটিনায় সমস্যার জন্য দৃষ্টিহীনতা দেখা দিয়েছে। কিন্তু এতোটা বছর তাকে অপবাদ নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়েছে।

আমারা কি কখনো চিন্তা করতে পারি তার দিনগুলো কেমন কেটেছে! গ্রামের মানুষের ন্যুন্যতম জ্ঞান না থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরতে হয়েছে ইফার উদ্দিনকে। এভাবে জ্ঞান বিজ্ঞান সম্পর্কে না জানা থাকায় প্রতিদিনই অনেক ইফার উদ্দিন বেদনায় দিন কাটাচ্ছেন। কখনোবা প্রান ও হাড়াচ্ছেন। কিন্তু একটু জ্ঞান আর কুসংস্কার মুক্ত সমাজ হয়তো বাচাঁতে পারে এসব প্রাণ। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।