আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মাক্সকাহন-আমার গুপন কথা

inside you're ugly ugly like me ভার্সিটিতে এক ফ্রেন্ড আছে। ধরা যাক তার নাম মঞ্জু। মঞ্জুর স্বভাব হল শুধু গোপন কথা বলা। বলা বাহুল্য তার প্রায় সব কথাই গোপন। হয়তো ভার্সিটির রাস্তায় ঘুরাঘুরি করতেসি হঠাত মঞ্জুর সাথে দেখা।

হাই হ্যালোর পরেই তার গোপন কথা শুরু হবে। আশেপাশে একটা কাকপক্ষীও নাই তাও গলা নামায়া ফিসফিস করে বলবে, ভাই কাহিনী হুনছ? আমি ততোধিক চাপা গলায় বলি, কি কাহিনী? কৈয়া ফালা। এরপর ফিসফিসানি গলায় গোপন কথা শুরু। দুই তিন লাইন বলার পরে আবার জিজ্ঞেস করে, তুই এইডা কারুরে কৈবি নাতো? -আরে না কি কস। আমারে কওন আর গাছেরে কওন একই কথা।

প্রায় প্রতিবারই এই ডায়লগ দেই। একসময় মঞ্জুর বুদ্ধি বাড়লো। এরপর এই ডায়লগ দিলেই উল্টা কোশ্চেন করে, তাইলে তোরে কৈয়া কি লাভ? আমি শুকনা গলায় বলি, তোর মনতো হালকা হৈল। -আইচ্ছা তাইলে হুন... আমি হাই তুলতে তুলতে গোপন কথা শুনতে থাকি। ঘটনা এইখানেই শেষ না, কোন গোপন কথা শুনার পরে ভ্যারিফাই করার দরকার আছে।

আমি আবার অন্য কারো সাথে দেখা হলে জিজ্ঞেস করি, আরে ওমুক কাহিনী শুনছছ? -তরে মঞ্জু কৈসে না? -হ। কিন্তু এইডাতো গুপন কথা। -ধুর এইডা অহন ভার্সিটির হগলতে জানে। বাদ দে। মোটামুটি সব গোপন কথার একই পরিণতি হয়, সবাই জানে।

তবে আজকের চ্যাপ্টার আলাদা। ঘটনাটা বেশ কয়েকবছর আগের। আমার এক চাচী প্রেগনেন্ট। তো ডেলিভারীর সম্ভাব্য ডেটের বেশ কিছুদিন আগে থেকে আমাদের বাসায় চলে আসলো। যথারীতি ডেট আসলো আবার পেরিয়েও গেল কিন্তু লেবার পেইন আর উঠে না।

চাচারে দেখলাম শুকনা মুখে ঘুরাঘুরি করতাসে। পরে জানা গেল ব্যাপার মোটেই সিরিয়াস কিছু না। দুই একদিন এদিক সেদিক হতেই পারে। এই শেষ না সাথে সাথে এও শুনলাম আমার জন্মের আগেও একই অবস্থা হয়েছিল। ফলাফল বর্তমানে আমার সবকিছুতেই লেট।

যেকোন কিছু বুঝতে একটু টাইম বেশি লাগে। এইটা তেমন কোন চিন্তার বিষয় ছিল না। চিন্তার শুরু ক্লাস সিক্সে উঠার পর। গণিত বিষয়ে আমার কিঞ্চিত এলার্জি ছিল। তার উপর পাটিগণিতের সাথে তখন নতুন সংযোজন বিষ(বীজ)গণিত ও জ্যামিতি।

টোটাল একশ নম্বরের বন্টন নিম্নরুপ পাটিগণিত ৩৪ বীজগণিত ৩৩ জ্যামিতি ৩৩ টোটাল একশ। পাটিগণিত পুরাতন ক্লাসে ছিল তাই কোন সমস্যা নাই। কিন্তু বুঝতে সমস্যা হল জ্যামিতি আর বীজগণিত। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই প্রথম সাময়িক পরীক্ষা দিলাম। গণিতে পেলাম ৩৪।

বলা বাহুল্য পুরাটাই পাটিগণিতের নম্বর। স্কুলে আবার নিয়ম হল প্রগ্রেস রিপোর্টে বাপের সাইন নিয়া পরদিন জমা দিতে হয়। সমস্যা হল এই নাম্বার দেখলে সাইনতো দূরের কথা বাড়ি থিক্যা বাইর করে দিব। শেষে অনেক ঝামেলা পোহায়া সাইন করাইলাম। সাথে এই মর্মে প্রত্যয়ন করতে হইল, নেক্সট পরীক্ষায় অতি অবশ্যই ৮০র উপরে পেতে হবে।

এইবার একটু সিরিয়াস হয়ে গেলাম। সারাদিনরাত জ্যামিতি বীজগণিত মুখস্ত করে বেড়াইতেসি। এইবার আমি পুরাপুরি তৈরী। পরীক্ষা হল, রেজাল্ট দিল, এইবার পেলাম ৩৩! কুন মীরজাফর স্যারযে পাটি গণিতের একটা মার্ক কাইট্যা দিল আজও জানতে পারলাম না। এইবার দুঃখের কাহিনী, আমার হালকা তোতলামীর ধাত ছিল।

কথা বললেই কেমন জানি বাজে। অনেক শব্দই কেউ ঠিকমত শুনতে পেত না। অথবা শুনলেও পুরা বাক্য বুঝতে পারত না। এই নিয়ে মানসিকভাবে একটু হতাশ ছিলাম। তবে তাতে একটা সুবিধা হল, কথা বলা হয় কম।

যেটুকু না বললেই নয় ততটুকুই বলি। আমার কাছে ডব্লিউ এইচ কোশ্চেন মানেই ডব্লিউ টি এফ কোশ্চেন! অল্প পরিচিত কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, কেমন আছেন? তখন একবার ঘাড় কাত করে হালকা হাসি দিয়ে হুম বলি। অনেকে অবশ্য বিরক্ত হয়। কিছুই করার নাই এইটাই আমার নিয়ম। আরও ভয়াবহ সমস্যা হয় ফোনে, মাঝে মাঝে ইচ্ছা করেই ফোন রিসিভ করি না।

এক কথা দুই তিনবার করে বলে সময় নষ্ট করার কোন মানে নাই। উত্‍সর্গ: একটা ময়ূর। বৃষ্টির আগমণী বার্তা জানান দিতে যে পেখম মেলতে চাচ্ছে কিন্তু পারছে না। কে বা কারা তার পেখম কেটে নিয়ে গিয়েছে। পেখম মেলতে না পারার লজ্জা ময়ূরের চোখে।

সে একটু পরপর আকাশের দিকে তাকাচ্ছে। কোশ্চেন: বৃষ্টি আসবে জানলেই কি ময়ূর পেখম মেলে? ব্যাপারটা সম্পর্কে ঠিক ধারণা নাই। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।