দেশটাকে যারা অসম্ভব রকম ভালবাসে, তাদের কথা গুলো শুনতে ও পড়তে চাই “আমার “মা” আমার বেহেশত যে “মা” এর ভালবাসা নিঃস্বার্থ”
একদিন ক্লাস এর মাঝখানে আমার স্যার বললো...প্রতিটি ভালবাসার মধ্য স্বার্থ রয়েছে, এক ছাত্র স্যারকে প্রশ্ন করলো,
স্যার মায়ের ভালবাসার মধ্যও কি কোন স্বার্থ আছে ?
স্যার আমার অনেকক্ষন আর কোন কথা বলতে পারেনি। মাথাটা নিচু করে ফেললো,দেখলাম স্যার এর দু চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে । স্যার সেদিন আর কোন ক্লাস নেইনি।
স্যার এর চোখের অশ্রু দিয়ে কি বোঝাতে চেয়েছিলেন জানিনা,তবে এততুকু বুঝতে পেরেছিলাম যে মা এর ভালোবাসা নিঃস্বার্থ ।
আজকের এই পৃথিবীতে বিজ্ঞানের অনেক উন্নতি হয়েছে।
অনেক কিছুই আবিষ্কার হয়েছে,
কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো কি জানেন?...মা এর ভালোবাসা কোথায় থেকে আসে আজো পর্যন্ত কোন বিজ্ঞান আবিষ্কার করতে পারলনা।
মুয়াবিয়া ইবনে জাহিমা রাঃ থেকে বর্ণিত।
“জাহিমা রাঃ একবার নবী করীম সঃ এর কাছে এসে আরজ করলো ইয়া রাসুলুল্লাহ সঃ আমি যুদ্ধে যাবার ইচ্ছা করছি,এ ব্যাপারে আপনার পরামর্শ নিতে এসেছি । রাসুলুল্লাহ সঃ জিজ্ঞাসা করলেন- তোমার মা আছে কি? তিনি বললেন হাঃ। রাসুলুল্লাহ সঃ বললেন তাহলে তাকে ধরে রাখো।
কেননা জান্নাত তাঁর পা এর কাছেই”। (নাসাঈ)
কয়েক বছর আগের কথা...
আমার মা এর অপারেশন হয়েছিল...হসপিটাল এ অপারেশন এর পর জ্ঞান ফিরলে মা আমার সর্ব প্রথম বলে উঠল...আমার ছেলেকে চিন্তা করতে নিষেধ কর,আমি ভাল আছি।
সেদিন আমি কেঁদেফেলেছিলাম...।
সেদিন আমি মা এর জন্য একটা গান লিখেছিলাম গানটি এমন...
মা গো মা তোমার কোন নেই তুলনা...
শত কষ্ট দুঃখ বেদনা তোমার কাছে সেত কিছু না...
যখন আমি ছট্টো ছিলাম মাগো আমার গালে চুমু দিয়েছ...
বারে বারে বুকের মাঝে মাগো জড়িয়ে ধরেছো...
বন্ধুরা...আজ জীবন জীবিকার তাগিদে আমরা মা এর কাছে থেকে অনেক দূরে পড়ে আছি। কিন্তু আজকে কি আপনার মনে পড়েনা ওই দিনগুলর কথা,
যখন কনকনে শীতের রাতে মা এর কোলে পস্রাব করে দিয়েছিলেন,মা তখন আপনার কাপড়টা ছাড়িয়ে মা এর আচল দিয়ে ঢেকে সারারাত আপনাকে মা এর বুকের উপর রেখেছিল”””
আর প্রচণ্ড গরমের রাত্রিতে যখন সবাই আস্থির হয়ে ছটফট করছিল তখন আপনি আপনার মা এর হাত পাখার কোমল বাতাসে ঘুমিয়ে পরেছিলেন।
আপনি কি জানেন এভাবে আমার আপনার মা এর কতটি নির্ঘুম রাত কেটেছে ?
আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত...
একবার একটা লোক এসে রাসুল সঃ কে জিজ্ঞেস করল,ইয়া রাসুলুল্লাহ আমার সর্বউত্তম ব্যাবহার এর হকদার বাক্তি টি কে?
রাসুল সঃ বললেন তোমার মা,
লোকটি পুনরাই জিজ্ঞেস করল,তারপর কে?
রাসুল সঃ বললেন তোমার মা,
লোকটি পুনরাই জিজ্ঞেস করল,তারপর কে?
রাসুল সঃ বললেন তোমার মা,
লোকটি পুনরাই জিজ্ঞেস করল,তারপর কে? এরপর তোমার বাবা। (মুসলিম)
বন্ধুরা...কোন পরিসীমার মাপে বা কোন গাণিতিক কালকুলেটর এর সংখ্যা দিয়ে আমাদের মা এর ভালবাসার পরিমান মাপতে আমরা অক্ষম।
ও আমার বন্ধু, ও আমার ভাই...আসুন আমরা আমাদের মা কে ভালবাসি যে ভালোবাসা তে কোন স্বার্থ থাকবেনা, যে ভালাবাসা হবে শুধু মা এর জন্য কারন ওই দুঃখিনী মা এর তুলনা তো শুধুই আমার মা।
যে নামটির মধ্য পৃথিবীর সমস্ত মধু মিশে আছে। আসুননা ভাই... আমরা আমাদের রব এর দেয়া ওই কথাটি দিয়ে আমার মালিক এর দরবারে দুটি হাত তুলি...
“হে আল্লাহ্ ...আমার পিতা-মাতার প্রতি সে রকম অনুগ্রহ কর, যে রকম অনুগ্রহ করে তাঁরা আমাদের ছোটবেলাই লালন-পালন করেছেন ।
রাসুল সঃ এর ভাষ্য অনুযায়ী যার মা-বাবা এখনও জীবিত আছেন তাঁরা আসুন মা-বাবার সেবার মাধ্যমে জান্নাত কে খরিদ করে নিই।
আর যার জনম দুঃখিনী মা এই জগতের মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন...আসুন দুটি হাত তুলে মহান রব এর দরবারে দুটি চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে মন প্রান ভরে সেই জনম দুঃখী পাগলিনী মায়ের জন্য একটু দোয়া করি।
যে মা আমাকে আপনকে গর্ভ ধারনের সময় নিরব যন্ত্রণা মুখ বুঝে সহ্য করেছে । যে যন্ত্রণা সইতে না পেরে বালিশের উপর মুখ রেখে অঝরে কেঁদেছে তবুও মা আমার কাওকে বলেনি।
যে মা আমাদের মানুষ করার জন্য তিল তিল করে নিজেকে নিঃশেষ করে দিবয়েছে...।
ও আমার মালিক অমার সৃষ্টিকর্তা ...তোমার কাছে কিচ্ছু চাই না,শুধু আমার ওই জনম দরদী আমার “মা” কে মাফ করে দাও। ...
বন্ধুরা... আপনি কি মনে করেন মা এর ভালোবাসা অনেক নিঃস্বার্থ ।
লেখক - খোরশেদ আলম
আমার চাচাত ভাই, খোরশেদ আলম যার চিন্তা করার অনেক ক্ষমতা আছে, উপলব্ধি করার ক্ষমতা ততটা নাই বলে আমি জানতাম।
কিন্তু আশ্চর্য আজকে আমি অবাক হয়েছি! উনি যে শুধু উপলব্ধি করতে পারেন তাই না অনেক ভাল লেখেন ও। আমরা খুব কম মানুষ ই আছি যারা নিজেদের ভাবনা-চিন্তা গুলো গুছিয়ে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারি।
খোরশেদ আলম বিনম্র চিত্তে আপনাকে শ্রদ্ধা জানায়, এই লেখাটি লেখার জন্য, মা নিয়ে আমাদের উপলব্ধি করার মানসিকতাকে আশকারা দেয়ার জন্য। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।