ছেলে হোক মেয়ে হোক সুস্থ ব্লগারই যথেষ্ট
আমরা বাংলাদেশি মেয়েরা কি গাধা নাকি? নারী ব্লগাররা কিছু মনে করবেন না। অনেক কষ্ট মনে নিয়ে লিখছি। আমার মাঝে মাঝে আশেপাশের কিছু ঘটনা দেখে মনে যে আমরা মেয়েরা মাকে(দেশকে) একদম ভালবাসি না।
আমি সবসময় আমার আশেপাশের মানুষকে বলি বাংলাদেশের পণ্য ব্যবহার করুন এবং হিন্দি অনুষ্ঠান না দেখে বাংলাদেশী অনুষ্ঠান দেখুন। ছেলেদের তো কোনভাবে বুঝানো যাবে কিন্তু মেয়েদের? আমি সেদিন আমার মা বাবাকে বললাম হিন্দি সিরিয়ার বর্জনের ব্যাপারে।
বাবা বলল, ঠিক আছে মা, আমারও হিন্দি সিরিয়াল ভাল লাগে না। আর মা বলল, বাংলাদেশের মানুষ বর্ডারে মরছে তা তো চ্যানেলগুলোর দোষ না। এটাতো নতুন একটা ভাষা বা কালচার শেখার সুযোগ। (আমি কি শুধু বর্ডারে মানুষ মারার জন্য হিন্দি সিরিয়াল বর্জনের কথা বলেছি? তার পর থেকে হ্য়ত আন্দোলন আরও জোরতর হয়েছে। আর মা ভাবছে সেটাই একমাত্র কারণ।
এতে করে যে ভারতে যে কোটি কোটি টাকা চলে যাচ্ছে সেটা কাউকে বুঝাতে পারছি না) যাই হোক বুঝিয়ে যাচ্ছি তাকে আর সবাইকে। আমি আমার মাকে অনেক ভালবাসি, আমি বলতে চাচ্ছি না মা দেশকে ভালবাসে না। ক্রিকেটে বাংলাদেশ যদি ভারতকে হারায় মা কি খুশি নিয়ে যে দেখে। কিন্তু হিন্দি সিরিয়াল বর্জনের ব্যাপারে আমার সাথে খারাপভাবে ঝগড়া করে।
আবার আমার এক আন্টি কে প্রশ্ন করলাম অনন্ত জলিলের কোন ছবি দেখেছেন? সে বলল বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সে একটা পোষ্টারের পাশে একদিন অনেক ভিড় দেখলাম।
। কাছে গিয়ে দেখি ঐ খাটাশের পোষ্টার।
আমার খালুকে যখন বললাম তখন বলল, অনন্ত কিন্তু অনেক বড় ব্যাপারি। ভালোইতো দেশের জন্য কিছু করতে চাচ্ছে।
ফ্যামিলি গেল বন্ধুদের কথা বলি এবার।
মনে হয় যেন হিন্দি সিরিয়াল আর রুপচর্চা ছাড়া তাদের আর কোন কথাই নেই। সব মেয়েরা ভারত পাকিস্তানের পোশাক পড়বে। আমার বাংলাদেশকে তো ব্লগ ছাড়া কোথাও দেখি না।
আমি বলছি না ছেলেরা ভারতের কোন পণ্য ব্যবহার করে না। সব হিন্দি ছবির ডায়ালগ আর গান তাদেরও মুখস্থ।
কিন্তু আমি দেখেছি ভারতের বর্ডার কিলিং এর খাহিনীর পরে অনেক ছেলে ভারতের চ্যানেল বাসায় বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু কোন মেয়েকে সেটা করতে দেখি নি। ব্লগেও হিন্দি সিরিয়াল বিরোধী পোষ্ট মেয়েদের থেকে ছেলেরা বেশি দেয় এবং আমার ভারতীয় পন্য বিরোধী পোষ্টগুলোতে মেয়ে ব্লগারের চেয়ে ছেলে ব্লগারের মন্তব্য বেশি দেখি। আমরা মেয়েরাতো হিন্দি সিরিয়ালের নিন্দা শুনলেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠি।
আমি একটা মেয়ে হয়ে ভারতীয় পন্য বিরোধী অনেক পোষ্ট দিয়েছি।
আমি বলছি না সব মেয়েরাই এরকম। কিন্তু অনেকেই এরকম। আচ্ছা যেটা আমার সাথে হয়েছে সেটা কি আপনাদের সাথেও হয়? আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি শুধু আমার আশেপাশের মেয়েরাই এরকম। সবাই এক হতে পারে না।
আর যদি এটাই হয়ে থাকে যে আমাদের বাংলাদেশী মেয়েদের জন্য হিন্দি সিরিয়াল মায়ের(দেশের) চেয়ে বড় হয়ে থাকে তাহলে আমি আমাদের প্রজন্মকে ভুলে থাকব।
সেই প্রজন্মকে মনে করব যেখানে শাড়ি কোমরে পেচিয়ে বাংলাদেশী মেয়েরা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছে। আমি যদি সেই যুগে জন্মাতে পারতাম। এট লিস্ট বাংলাদেশী মেয়ে হয়ে গর্ব করতে পারতাম। এই জিন্স, টিশার্ট, হিন্দি সিরিয়ালের যুগে কেন আমার জন্ম হল? কেন কেন কেন?
কানাডায় সবসময় দেশকে মিস করি, শুধু একটাই সুখ এই ক্ষোভগুলো নেই। কয়দিনের জন্য দেশে ফিরে ক্ষোভগুলো আবার ফিরে আসল।
কে জানে দেশে থাকলে আমিও হিন্দি হিন্দি করতার। প্রবাস যদি আমার দেশপ্রেম একটুও বাড়িয়ে দেয় তবে ধন্যবাদ প্রবাসকে।
আমি না জেনে কাউকে কষ্ট দিলে মাফ করে দেবেন। আমার আশেপাশের মানুষের সাথে তো এসব শেয়ার করতে পারব না। তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।
বিদেশী পণ্য বর্জনের কথাটা আরেকবার মনে করিয়ে দিলাম।
সবাই অনেক অনেক ভাল থাকবেন এবং মাকে (দেশকে) ভাল রাখবেন।
মনে রাখতে হবে, মানুষ বাঁচে আশায়, দেশ বাঁচে ভালবাসায়।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।