আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নিকৃষ্টতম প্রাণী যখন ভালবাসায় মানুষ কে হারিয়ে দেয়, মানুষ হিসেবে আমি লজ্জা বোধ করি।

যেথায় পড়শী বসত করে, আমি একদিন ও না দেখিলাম তারে। মিগুয়েল গুজম্যান আর্জেন্টিনার অধিবাসী। তিনি একদিন তার টিন এজ ছেলে, ডেমিয়েনের জন্য একটা উপহার নিয়ে আসেন। উপহারটা হলো একটা কুকুরছানা। একটা জার্মান শেফার্ড।

তারা এর নাম রাখে কাপিতান। সময় টা ২০০৫ সাল। গুজম্যান মৃত্যুবরণ করেন ২০০৬ সালে। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো তার মৃত্যুর পরপরই কাপিতান ঘর ছেড়ে চলে যায়। কোথায় গেল কেউ জানে না।

কয়েকদিন খোঁজাখুঁজি করার পরও তার কোন হদিস পাওয়া গেল না। গুজম্যানের পরিবার ভেবে নিল, হয়তো রাস্তা পার হতে গিয়ে কোথাও দূর্ঘটনার শিকার হয়ে কাপিতান প্রাণ হারিয়েছে। গুজম্যান কে সমাধিস্থ করবার পরের সপ্তাহের রবিবার, ছেলে ডেমিয়েন কে নিয়ে মা ভেরোনিকা, তার বাবার সমাধিতে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে, কাপিতান, সমাধির পাশে বসে আছে। তাদের কে দেখামাত্র তাদের কাছে এসে কাপিতান এমনভাবে ডাকছিল যে তাদের কাছে স্পষ্ট মনে হলো যে কাপিতান কাঁদছে।

হা পাঠক, নিকৃষ্ট প্রাণীটি কাঁদছিল। ভেরোনিকা সত্যি সত্যি অবাক হলেন কাপিতান কে এখানে এভাবে দেখে। কারণ, কেউ তাকে সমাধিক্ষেত্রে নিয়ে আসেনি একবারের জন্যও। তার জানার ও কথা নয়, কোথায় সেই সমাধিস্থল টি। কিন্তু সে কোনভাবে ঠিকই সেই জায়গাতে চলে গিয়েছিল, সবার অলক্ষ্যে।

এই ব্যাপারটাও তাদের কাছে রীতিমত বিষ্ময়কর ছিল। সমাধিস্থলের পরিচালক হেক্টর একদিন দেখেন যে, একটা কুকুর সমাধিস্থলে এসে কি যেন খুঁজছে চারিদিকে। পুরো সমধিক্ষেত্রটি খুঁজে খুঁজে ঠিক তার মনিব, গুজম্যানের সমাধির কাছে এসেই সে স্থির হয়। কাপিতান কে পেয়ে ভেরোনিকা আর ডেমিয়েন সেদিন তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। কিন্তু সে বাড়িতে থাকে না।

নিজে নিজেই সমধিস্থলে আবার ফিরে যায়। এভাবে বহুবার তারা চেষ্টা করেছে কাপিতান কে বাড়ি নিয়ে যেতে। যতবার ই তারা নিয়ে গিয়েছে, ততবারই কাপিতান ফিরে গিয়েছে তার মনিবের সমাধির কাছে। এখন ২০১২ সাল প্রায় শেষ। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, এই দীর্ঘ ছয় বছর ধরেই কাপিতান সেখানেই অবস্থান করে।

সে প্রায় সারাক্ষণই মনিবের সমাধিটির দিকে চেয়ে থাকে আর পাহারা দেয়। খুব প্রয়োজন ছাড়া সে ঐ স্থান ছেড়ে যায় না। সমাধিস্থলের পরিচালক হেক্টর তার স্টাফদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন কুকুরটিকে ঠিক মত যত্ন করা হয় আর খাবার-দাবার দেয়া হয়। প্রতিদিন দিনের বেলা সে সমাধিস্থলের চারদিক হেঁটে বেড়ায়, কিন্তু কিছুক্ষণ পর পরই সমাধিটির কাছে ছুটে ছুটে আসে। প্রতিটা দিন ঘড়িতে যখন ঠিক সন্ধ্যা ছ'টা বাজে, সে সমাধিটির উপরে গিয়ে শুয়ে পড়ে।

এভাবে সারারাত ই ওখানে শুয়ে থাকে। হয়তো আশা করে আছে, এখান থেকে একদিন তার প্রিয় মনিব উঠে এসে তাকে আবার কোলে তুলে নিবে। স্থানীয়দের ধারণা কাপিতান আমৃত্যু এভাবেই তার মনিবের জন্য অপেক্ষা করে থাকবে। ঘটনাটি সম্পূর্ণ সত্যি। ঘটনাটি পড়ুন এইখানে।

View this link ।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.