আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

যাহা বলিবো সত্য বলিবো ১৬ হিরক রাজার দেশে কেক কাটার আদিখ্যেতা

সবুজের বুকে লাল, সেতো উড়বেই চিরকাল মডুর বিটলামি সামুতে মডারেটরদের আদর করে মডু ডাকা হয়। নানা উছিলায় তাদের সমালোচনা চলে। যদিও তারা আমাদের মতই বাঙালি এবং একই রকম দোষ ত্রুটিতে ভরপুর আবার গুটি কয়েকজন মিলে ৬০,০০০ ব্লগারদের সবাইকে সন্তস্ট করাটাও সম্ভব না। তবে মনে হচ্ছে মাঝে মাঝে তারা রসিকতা করতে পছন্দ করেন। পোস্ট দিলেই ঠাট্টা বিদ্রুপের শিকার হন সব সময়, এমন লেখকের পোস্টকে প্রায়ই তারা নির্বাচিত কলামে স্থান দেন।

ফলে আরো বেশি মাত্রায় সেই লেখক সাধারণ ব্লগারদের দিয়ে নিগৃহিত হন। অবশ্য সেটা সেই ব্লগার বোঝেন কিনা জানি না। বুঝলে কি আর রবার্ট ফ্রস্টের সাথে পাল্লা দিয়ে ধৈর্যশক্তির পরিক্ষা দিতেন? সেখানে একজন সহব্লগারের একটি মন্তব্য তুলে দেবার লোভ সামলাতে পারছি না। "হে দুর্দমনীয় ! আপনার পোষ্টের গুঢ় মর্ম না বুঝিয়া কিছু নির্বোধ ইতিমধ্যেই আপনাকে কটাক্ষ করিয়া বিরূপ মন্তব্য করিয়াছে। অতীতেও উহারা আপনার প্রতি এমন অসাদাচরন করিয়াছে।

তথাপি আপনি যেভাবে আপনার কি-বোর্ডের তৈল নিস্বরণ চালু রাখিয়া যাইতেছেন উহা দেখিয়া স্বয়ং রবার্ট ব্রুস ও লজ্জা পাইতেছেন, কিন্তু আপনি দমিতেছেন না; ইহা অবশ্যই আপনার চারিত্রিক দু্র্দমনীয়তার প্রমান। " সামুর নীতিমালার প্রশ্নে মডুদের অনেক নির্দয় ব্যাবস্থা নিতে হয়। কিন্তু এই বিনোদন সম্রাটের প্রতি এমন নির্দয় হবার যথাযথ কারণ হিসাবে বিটলামি ছাড়া আর কিছু নয় বলেই আমি মনে করি। হিরক রাজার দেশে কেক কাটার আদিখ্যেতা বাকশাল কেমন ছিল, সেটা নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানেন না। এই ফাকে মানুষের চোখে দেখা এবং মর্মে মর্মে অনুভব করা মানুষজনের জীবনলব্ধ বাস্তব অভিজ্ঞতাকে বর্তমান সরকার ও তার চ্যালাচামুন্ডারা অলিক প্রমানে অনেক চেস্টা করে যাচ্ছে।

তবে বাকশাল নিয়ে অভিজ্ঞ লোকের বর্ণনার সাথে বর্তমান সরকারের আচরনে মিল থাকায় সে চেস্টায় গুড়ে বালি ! ১৫ই আগস্ট কোন শিশু জন্ম নিতে পারে না, এধরণের ফ্যাসিস্ট উক্তি এসেছে সরকারের এমন এক মন্ত্রি কাছ থেকে যার এক মাত্র যোগ্যতা তিনি সন্ত্রাস ও খুন করানোয় চরম পারদর্শি। নিজের দলের লোকজনই তাকে ঠান্ডা মাথার খুনি বলে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তো অভাব নেই। সে নিয়ে আরেকদিন লেখা যাবে। এধরণের কথা খোদ ফেরাউনও বলেনি।

তাহলে কি ধরে নেবো যে নব্য বাকশালিরা এখন থেকে সন্তান ভুমিস্টের দিনটিও নিয়ন্ত্রন করবে? ১৫ই আগস্ট আওয়ামি লিগের নেতা কর্মিরা বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকি পালন করে। তবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের শ্রদ্ধা বোধ কতটুকু সেটা প্রশ্নবিদ্ধ। একারণেই বললাম যে, একজন মানুষের মৃত্যুবার্ষিকির দিনটা যদি চাদাবাজি আর হিন্দি গান বাজিয়ে উল্লাসের উপলক্ষ্য হয় তাহলে, বুঝাই যায় যে, সেখানে শ্রদ্ধাবোধটুকু কতটা। আর সেই চাদাবাজি আর উৎসবের দিনটিকেই জাতিয় শোক দিবস হিসাবে জোর করে জাতির উপর চাপিয়ে দেয়াটা ফ্যাসিজমেরই নামান্তর। এ কথা তো মিথ্যা নয় যে স্বাধীনতা পুর্ব বঙ্গবন্ধুর আর মৃত্যুপুর্ববর্তি বঙ্গবন্ধুর ইমেজের মাঝে বিস্তর ফারাক ছিল।

একজন মানুষ মারা গেছেন। তার ভালো মন্দের বিচার আল্লাহ করবেন। মুসলমান হিসাবে আমাদের উচিত তার বিদেহি আত্মার মাগফেরাত কামনা করে, তার গুণাহ মাফ করে দেবার জন্য আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করা। অন্তত রসুল (সঃ) এর উম্মত হিসাবে সেরকম করার শিক্ষাই আমরা পাই। তা না করে, যদি আমরা বিতর্কিত জন্মতারিখের একটিকে সেই ১৫ই আগস্টেই ঘটা করে পালন করি, তাহলে ব্যাপারটা নিষ্ঠুর এবং চরম অমানবিক বটে ! আমাদের দেশে জন্মদিন পালন করা হয় শহুরে উচ্চ এবং মধ্যবিত্ত পরিবারে।

গ্রামে আমার ধারণা এই দিনটি তেমন করে পালিত হয় না। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ পরিবারে জন্মদিন পালন যেমন হয় না, তেমনি কেক কাটার আদিখ্যতাটিও নেই। হাসিনার সাথে খালেদার পার্থক্য হচ্ছে, খালেদার কথা বার্তা ও আচরণে অনেক বেশি রুচিশীল। এই কারণেই তার স্বতন্ত্র একটা ইমেজ রয়েছে। তাই চাটুকাররা যতই কেক নিয়ে লাফাক, এই দিনে ঘটা করার বিরুদ্ধে খালেদার শক্ত অবস্থান, তার সম্মানকেই বরং বৃদ্ধি করবে।

যে মানুষটি দেশ ও জাতিকে এক সময় অনেক দিয়েছে, তার মারাত্মক অনেক ভুল হলেও, তিনি তো পরিবার শুদ্ধ জীবন দিয়ে তার প্রাশ্চিত্ত করে গিয়েছেন। অন্তত এই মৃত মানুষটিকে সম্মান না করি, অন্তত অসম্মান করা থেকে তো বিরত থাকতে পারি? আর ১৫ই আগস্ট জোর জবস্তি করে, জাতিকে শোক মানানো যাবে না, এ কথা আওয়ামি নেতা কর্মি থেকে সমর্থকদের জানা উচিত। উলটো মৃত মানুষটির প্রতি সাধারণের বিরক্তি আরো বেড়ে যাবে। বিশেষ করে যে মাস্তানি কায়দায় মন্ত্রি ওমন উলটা পালটা কথা বললেন, তার ফলাফলও বিশেষ ভালো হবে না বলেই বিশ্বাস করি। এমন ফ্যাসিস্ট মনোভাব অব্যাহত থাকলে, ১৫ই আগস্টের মৃত্যুর কথা মানুষ শ্রদ্ধা নয় ঘৃণার সাথে স্মরণ করবে।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১০ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.